বিদ্রোহী ঠেকাতে কঠোর অবস্থান, বহিষ্কারসহ নানা ব্যবস্থা

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে একক প্রার্থী দেবে বিএনপি

Sadek Ali
বিশেষ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১০:৫১ পূর্বাহ্ন, ২৮ অগাস্ট ২০২৬ | আপডেট: ১২:২৬ অপরাহ্ন, ২৮ অগাস্ট ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে একক প্রার্থী দেবে বিএনপি। বিদ্রোহী প্রার্থী ঠেকাতে প্রস্তুতি শুরু করেছে বিএনপি। এ লক্ষ্যে দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রতিটি এলাকায় ঐকমত্যের ভিত্তিতে একক প্রার্থী চূড়ান্ত করতে নেতাদের নির্দেশ দিয়েছেন। গত বৃহস্পতিবার সরকার দলীয় সংসদীয় কমিটির সভায়ও দলীয় এমপিদের নিজ নিজ এলাকায় কাজ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। দলীয় কোন্দল নিরসন, আসন্ন নির্বাচনে একক প্রার্থী নির্ধরণ এবং দেশে নানা ধরণের যে ষড়যন্ত্র হচ্ছে তা মোকাবেলা করার জন্যও তাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। 

এদিকে স্থানীয় নির্বাচনে প্রার্থী বাছাইয়ে মূলত তিনটি বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে জনপ্রিয়তা, জনগ্রহণযোগ্যতা এবং আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা। এর সঙ্গে সাংগঠনিক দক্ষতা, দলের প্রতি আনুগত্য, স্থানীয় পর্যায়ে নেতাকর্মীদের সঙ্গে সম্পর্ক এবং ব্যক্তিগত ভাবমূর্তিও বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে। দলীয় প্রতীকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন না হওয়ায় একদিকে যেমন বিএনপির সামনে প্রার্থী বাছাইয়ের সুযোগ বাড়ছে, অন্যদিকে একই এলাকায় দলের একাধিক নেতার স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে। ফলে একক প্রার্থী নির্ধারণ এবং সম্ভাব্য বিদ্রোহী প্রার্থী নিয়ন্ত্রণ করাই এখন দলটির অন্যতম বড় সাংগঠনিক চ্যালেঞ্জ বলে মনে করেন দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ।

আরও পড়ুন: গুম দিবসে সংসদ অভিমুখে পদযাত্রার ঘোষণা ১১ দলীয় ঐক্যের

বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতারা বলছেন, জাতীয় নির্বাচনের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী মনোনয়ন ও সমর্থনের ক্ষেত্রে আগেভাগেই ঐকমত্য তৈরি করতে চান তারা। দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে কেউ স্বতন্ত্র প্রার্থী হলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়েও কেন্দ্র থেকে বার্তা দেওয়া হচ্ছে।

জানা গেছে, নির্বাচনে দলীয় প্রতীক না থাকলে একই এলাকা থেকে বিএনপির একাধিক নেতা প্রার্থী হতে পারেন। এ ক্ষেত্রে প্রত্যেকেই নিজেকে দলের সমর্থিত প্রার্থী হিসেবে দাবি করতে পারেন। এতে দলের সমর্থন বিভক্ত হতে পারে, পছন্দের প্রার্থী দুর্বল হয়ে পড়তে পারেন এবং প্রতিদ্বন্দ্বীরা সুবিধা পেতে পারেন।

আরও পড়ুন: যার বিয়ে তার ঠেকা নাই, পাড়াপড়শির ঘুম নাই: জামায়াত আমির

এ কারণে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগেই সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে আলোচনা শুরু করতে ও পরামর্শের ভিত্তিতে নির্বাচিত প্রার্থীর পক্ষে দলের সব পর্যায়ের নেতাকর্মীর সমর্থন নিশ্চিত করতে স্থানীয় নেতাদের নির্দেশ দিয়েছেন তারেক রহমান। এ ছাড়া নির্বাচনের আগে দলের অভ্যন্তরীণ বিরোধ নিষ্পত্তি এবং বিএনপিসহ এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর পুনর্গঠন সম্পন্ন করারও নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি জেলার নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন দলের চেয়ারম্যান। কয়েকদিন আগে পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও ও দিনাজপুর জেলার নেতাদের সঙ্গে প্রায় তিন ঘণ্টাব্যাপী এক সাংগঠনিক বৈঠকে এসব নির্দেশনা দেন বিএনপি প্রধান।

পঞ্চগড় জেলা বিএনপির সদস্য সচিব ও পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ জানান, স্থানীয় সরকার নির্বাচন ও দলের পুনর্গঠন নিয়ে তারেক রহমান বেশ কয়েকটি পরামর্শ দিয়েছেন। স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কীভাবে দল একক প্রার্থী বেছে নেবে, সে বিষয়ে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার পরামর্শ দিয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান। ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সল আমিন  বলেন, ‘স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে। এ নির্বাচনকে সামনে রেখে আমাদের সার্বিক দায়িত্ব কী হবে, তা নিয়েও আলোচনা হয়েছে।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী বলেছেন—নির্বাচন সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ হবে। আমরা স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে পুরোপুরি নির্দলীয় এবং দলীয় প্রভাবমুক্ত রাখতে চাই। তিনি আরও বলেছেন—নির্বাচনে কারা অংশ নেবেন, সে বিষয়ে দলের সিদ্ধান্ত সম্মিলিতভাবে নিতে হবে এবং দলকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।

দলীয় প্রতীক না থাকলে আনুষ্ঠানিকভাবে দলের পছন্দের প্রার্থীকে চিহ্নিত করার সক্ষমতাও সীমিত হতে পারে বলে মনে করছে বিএনপি। তাই দলটির বিশ্বাস, আগেভাগে ঐকমত্যে পৌঁছাতে না পারলে নির্বাচন ঘনিয়ে এলে বিরোধ মেটানো আরও কঠিন হয়ে পড়বে।

দলীয় সূত্র জানিয়েছে, কেন্দ্র থেকে প্রার্থী চাপিয়ে দেওয়ার পরিবর্তে স্থানীয় নেতা, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট সাংগঠনিক ইউনিটগুলোর সঙ্গে পরামর্শ করে গ্রহণযোগ্য প্রার্থী বেছে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে নেতৃত্বের। এ প্রক্রিয়ার লক্ষ্য তৃণমূলের বিভক্তি নিরসন এবং কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব ও স্থানীয় সংগঠনগুলোর মধ্যে সমন্বয় আরও জোরদার করা। মির্জা ফয়সল বলেন, ‘দলকে আরও শক্তিশালী ও সক্রিয় করতে তারেক রহমান আমাদের কিছু নির্দেশনা দিয়েছেন।

বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতাদের মতে, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আগে পুনর্গঠন সম্পন্ন হলে স্থানীয় বিরোধ নিষ্পত্তি, প্রার্থী নির্বাচন প্রক্রিয়া সুসংগঠিত করা এবং তৃণমূলে দলের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা সহজ হবে।

স্থানীয় সরকার নির্বাচনের পর জাতীয় কাউন্সিল আয়োজনের প্রস্তুতিও নিতে চায় বিএনপি। তাই স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে ঘিরে প্রস্তুতিকে শুধু নির্বাচনী কার্যক্রম হিসেবে নয়, বরং দলকে পুনর্গঠন এবং তৃণমূলের সাংগঠনিক ভিত্তি আরও শক্তিশালী করার বৃহত্তর উদ্যোগের অংশ হিসেবেও দেখা হচ্ছে। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী জানান, স্থানীয় নির্বাচনে একক প্রার্থী নির্ধারণে দলীয় নেতাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কেউ নির্দেশনা অমান্য করে বিদ্রোহী প্রার্থী হলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।