সরকার কথা না শুনলে আন্দোলনের মাধ্যমে ফয়সালা হবে: জামায়াত আমির

Sanchoy Biswas
বাংলাবাজার রিপোর্ট
প্রকাশিত: ৩:১৪ পূর্বাহ্ন, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ৩:৫৩ পূর্বাহ্ন, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

সরকার বিরোধী দলের কথা না শুনলে আন্দোলন চলবে এবং আন্দোলনের মাধ্যমেই এর ফয়সালা হবে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টায় রাজধানীর মগবাজারের আল-ফালাহ মিলনায়তনে জামায়াত বিটের সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।

আরও পড়ুন: নিজ অর্থায়নে ৪৭ নেতাকর্মীকে ওমরাহ পালনে পাঠালেন বাবর

মতবিনিময় সভায় দেশের চলমান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, জনদুর্ভোগ, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি, গ্যাস সংকট, তৈরি পোশাকশিল্প, জুলাই জাতীয় সনদ ও গণভোট এবং বিরোধী দলের চলমান লংমার্চ কর্মসূচিসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়। একই সঙ্গে সাংবাদিকদের পেশাগত বিভিন্ন সমস্যা নিয়েও খোঁজখবর নেন জামায়াত আমির।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সংসদে বিরোধী দল সরকারি দলকে বিভিন্ন বিষয়ে গঠনমূলক পরামর্শ দিলেও সেগুলো গ্রহণ করা হচ্ছে না। অতীতের মতো সংসদে বিশৃঙ্খলা বা সহিংসতার সংস্কৃতিতে ফিরতে চান না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। জনগণের দাবি আদায়ে এ কারণে রাজপথে কর্মসূচি পালন করতে হচ্ছে বলে জানান তিনি।

আরও পড়ুন: সন্ধ্যায় ঢাকায় এনসিপির বিক্ষোভ মিছিল

গণমাধ্যম প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, আইন বিভাগ, নির্বাহী বিভাগ ও বিচার বিভাগের পাশাপাশি গণমাধ্যম রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ চতুর্থ স্তম্ভ। সাংবাদিকরা ভালো থাকলে দেশ ভালো থাকবে। গণমাধ্যমকে সত্য ও বস্তুনিষ্ঠভাবে সংবাদ পরিবেশনের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘কালোকে কালো ও সাদাকে সাদা’ বলতে হবে।

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির সমালোচনা করে তিনি বলেন, তেলের দাম বাড়ানোর পর বিভিন্ন পণ্য ও সেবার দাম বাড়ছে। এর প্রভাব সমাজের সর্বস্তরে পড়ছে। জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট এসব বিষয় গণমাধ্যমে আরও গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরার আহ্বান জানান তিনি।

লংমার্চ নিয়ে সরকারি দলের সমালোচনার জবাবে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, চাইলে তারা আরও বড় বহর নিয়ে কর্মসূচি পালন করতে পারতেন। তবে লংমার্চের দাবিগুলো কোনো একক দলের নয়, এগুলো জনগণের দাবি বলে মন্তব্য করেন তিনি।

১৯ সেপ্টেম্বর ঢাকা-রংপুর লংমার্চের আগে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা নিয়ে সরকারি দলের বক্তব্যেরও সমালোচনা করেন জামায়াত আমির। তাঁর দাবি, নিজেদের কর্মসূচি বানচাল করার জন্য বিরোধী দল নিজেরাই ককটেল বিস্ফোরণ ঘটাবে—এমন বক্তব্য গ্রহণযোগ্য নয়। বরং তিনি অভিযোগ করেন, বিরোধী দলের লংমার্চ বানচাল করতে অন্য পক্ষ এ ধরনের পরিস্থিতি তৈরি করেছে। তবে এ অভিযোগের পক্ষে কোনো স্বাধীন তদন্তের ফল তিনি উপস্থাপন করেননি।

জামায়াতের কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ, সুশৃঙ্খল ও নিয়মতান্ত্রিক হবে জানিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জনগণের যৌক্তিক দাবি আদায়ে কর্মসূচি পালন করতে গিয়ে সাধারণ মানুষের যে কষ্ট ও ভোগান্তি হয়েছে, তার জন্য তারা দুঃখিত।

মতবিনিময় সভায় ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার বিভিন্ন সমস্যা নিয়েও আলোচনা হয়। সাংবাদিকদের কোনো সংগঠন বা কাঠামো থাকলে তার মাধ্যমে সমস্যা ও প্রস্তাবনা তুলে ধরার আহ্বান জানান জামায়াত আমির। এসব সমস্যা সমাধানে সহযোগিতার আশ্বাসও দেন তিনি।

সভায় জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের স্বাগত বক্তব্য দেন। এ সময় নায়েবে আমির এটিএম আজহারুল ইসলাম এমপি, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এটিএম মা’ছুম, মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান এমপিসহ দলের কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।