এআই, সেমিকন্ডাক্টর ও রোবটিক্সে গবেষণায় তরুণদের সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী: জহির উদ্দিন স্বপন
দেশীয় উদ্ভাবন জোরদারে তরুণ প্রযুক্তিবিদদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), সেমিকন্ডাক্টর ও রোবটিক্স গবেষণার প্রসারে সরকার নীতিগত সহায়তা দেবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
আজ বুধবার সন্ধ্যায় রাজধানীর ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিক (ইউএপি) মিলনায়তনে ‘নিপ্পন এআই ডো জো ২০২৬’-এর প্রকল্প উপস্থাপন ও সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা জহির উদ্দিন স্বপন এ কথা বলেন।
আরও পড়ুন: চ্যাটজিপিটিকে ছাড়িয়ে মেটার নতুন এআই অ্যাপ
তরুণদের ব্যবহারিক দক্ষতা উন্নয়ন, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে প্রযুক্তিভিত্তিক সহযোগিতা জোরদারের লক্ষ্যে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
ইউএপি, জাপানের চোয়া জিকেন কর্পোরেশন এবং এআই সামুরাই জাপানের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এ সমাপনী অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত সাইদা শিন-ইচি।
আরও পড়ুন: হঠাৎ বন্ধের পর আবার স্বাভাবিক ফেসবুক-ইনস্টাগ্রাম, জানুন কী হয়েছিল?
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ‘বিশ্বমানের প্রযুক্তির পাশাপাশি নিজস্ব বাস্তব চাহিদা অনুযায়ী এআই প্ল্যাটফর্ম, ডেটাসেট ও প্রোগ্রামিং তৈরিতে দেশের তরুণ প্রযুক্তিবিদদের গবেষণার গভীরতা ও প্রজ্ঞার পরিচয় দিতে হবে।
তিনি বলেন, সরকার নীতিগত সমর্থন দেবে, কিন্তু কোন কোন সুনির্দিষ্ট ক্ষেত্রে কীভাবে এআই প্রযুক্তির সঠিক প্রয়োগ সম্ভব—সেই পথনকশা ও কার্যকর সমাধানগুলো প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকেই আসতে হবে।’
উপদেষ্টা বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা আজ আর কেবল গবেষণাগারে সীমাবদ্ধ নেই; বরং কৃষি, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, ম্যানুফ্যাকচারিং ও ফ্রিল্যান্সিং সার্ভিসের মতো অর্থনীতির প্রতিটি খাতে বড় রূপান্তর আনছে। বিশেষ করে দেশের মোট অর্থনীতির বড় অংশ জুড়ে থাকা কৃষিখাত এবং স্বাস্থ্যসেবার মতো ক্ষেত্রগুলোতে প্রযুক্তিগত ঘাটতি পূরণে এআই কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
তবে উচ্চবিলাসী পরিকল্পনার পাশাপাশি স্থানীয় অবকাঠামোগত বাস্তবতার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, ‘বিদেশের এআই টুলস ব্যবহারে দক্ষতা দেখিয়ে বড় সাফল্য অর্জন করাই যথেষ্ট নয়। দেশের জন্য উপযোগী এআই টুল, প্ল্যাটফর্ম ও ডেটাসেট তৈরি করতে হবে। এজন্য পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন, জিপিইউ চালনার সক্ষমতা এবং সমৃদ্ধ বাংলা ডেটাসেটের অভাবের মতো মৌলিক চ্যালেঞ্জগুলো মাথায় রাখতে হবে।’
সাধারণ চাহিদার বিদ্যুতের ঘাটতি এবং প্রাকৃতিক সম্পদের ব্যবহারের সঠিক গবেষণার ওপর জোর দিয়ে তিনি প্রযুক্তিবিদ তরুণদের প্রযুক্তিগত উদ্দীপনার পাশাপাশি গবেষণার প্রতি মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানান।
একই সঙ্গে তিনি বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রায় জাপানের উন্নয়ন অংশীদারিত্বের প্রশংসা করেন এবং নিপ্পন এআই ডো জো ২০২৬-কে তরুণদের জন্য এক নতুন মাইলফলক হিসেবে উল্লেখ করেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রীর যুব দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান বিষয়ক বিশেষ সহকারী সাইয়েদ আবদুল্লাহ, ইউএপির ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাঈদ এম. আহমেদ এবং বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান কে. এম. মজিবুল হক। এতে সভাপতিত্ব করেন ইউএপির বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সদস্য কাইয়ুম রেজা চৌধুরী।
সমাপনী পর্বে ইউএপি, ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি ও নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির প্রশিক্ষণার্থীরা প্রশিক্ষণকালে অর্জিত জ্ঞান কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন বাস্তবমুখী এআই প্রকল্পের ব্যবহারিক প্রয়োগ উপস্থাপন করেন। অনুষ্ঠান শেষে কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের জন্য প্রশিক্ষণার্থীদের হাতে সনদ ও সম্মাননা তুলে দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকমণ্ডলী, শিক্ষার্থী, সরকারি কর্মকর্তা, জাপানের কূটনৈতিক প্রতিনিধি এবং শিল্পখাতের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।





