এনইআইআর পর চালুর লাখ লাখ ক্লোন ও নকল মোবাইল শনাক্ত, আসছে নতুন সিদ্ধান্ত

Any Akter
প্রযুক্তি ডেস্ক
প্রকাশিত: ৫:৪৭ অপরাহ্ন, ০৩ জানুয়ারী ২০২৬ | আপডেট: ৪:১০ অপরাহ্ন, ০৯ জানুয়ারী ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার (এনইআইআর) চালুর পর দেশে ক্লোন ও নকল মোবাইল ফোন ব্যবহারের ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে। মোবাইল নেটওয়ার্কে বর্তমানে লাখ লাখ ভুয়া ও ডুপ্লিকেট আইএমইআই নম্বর সচল থাকলেও জনজীবনে হঠাৎ করে যোগাযোগব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় এসব ডিভাইস এখনই বন্ধ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। শনিবার (৩ জানুয়ারি) ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, তাৎক্ষণিকভাবে এসব ফোন ব্লক না করে ‘গ্রে’ ক্যাটাগরিতে ট্যাগ করা হবে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মোবাইল নেটওয়ার্কে বর্তমানে ‘১১১১১১১১১১১১১’, ‘০০০০০০০০০০০০০’, ‘৯৯৯৯৯৯৯৯৯৯৯৯৯’সহ অস্বাভাবিক প্যাটার্নের লক্ষ লক্ষ ভুয়া ও ডুপ্লিকেট আইএমইআই নম্বর সক্রিয় রয়েছে। এসব ডিভাইসের কোনো রেডিয়েশন টেস্ট বা প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা যাচাই কখনোই হয়নি। তা সত্ত্বেও দেশের চারটি মোবাইল অপারেটরের নেটওয়ার্কেই এসব ফোন ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

আরও পড়ুন: মোবাইল ব্যবহারকারীদের সতর্ক করল বিটিআরসি

সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, হঠাৎ করে এসব ফোন বন্ধ করা হলে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন যোগাযোগব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে। সে কারণেই অন্তর্বর্তী সরকার আপাতত এসব ডিভাইস ‘গ্রে’ হিসেবে চিহ্নিত করে পর্যবেক্ষণে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গত ১০ বছরে শুধু একটি আইএমইআই নম্বর ‘৯৯৯৯৯৯৯৯৯৯৯৯৯৯’-এর বিপরীতে পাওয়া গেছে ৩ কোটি ৯১ লাখ ২২ হাজার ৫৩৪টি সংযোগ। একইভাবে, ৪৪০০১৫২০২০০০ নম্বরে প্রায় ১৯ লাখ ৪৯ হাজার, ৩৫২২৭৩০১৭৩৮৬৩৪ নম্বরে ১৭ লাখ ৫৮ হাজার এবং ৩৫২৭৫১০১৯৫২৩২৬ নম্বরে ১৫ লাখের বেশি ডিভাইস ডুপ্লিকেট হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

আরও পড়ুন: এআই ডিভাইস দ্বিগুণ করার সিদ্ধান্ত স্যামসাংয়ের

এ ছাড়া শুধু ‘০’ আইএমইআই নম্বরেই সক্রিয় রয়েছে ৫ লাখ ৮৬ হাজারের বেশি ডিভাইস। তালিকায় আরও রয়েছে অসংখ্য আইএমইআই নম্বর, যেগুলোর বিপরীতে এক লাখেরও বেশি মোবাইল সেট নেটওয়ার্কে সচল রয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, এসব আইএমইআই শুধু স্মার্টফোন নয়, বিভিন্ন আইওটি ডিভাইসেও ব্যবহৃত হতে পারে। তবে বর্তমানে মোবাইল অপারেটররা মোবাইল ফোন, সিম-সংযুক্ত ডিভাইস ও আইওটি ডিভাইসের আইএমইআই আলাদা করে শনাক্ত করতে পারছে না। সরকার ইতোমধ্যে বৈধভাবে আমদানি করা আইওটি ডিভাইস আলাদাভাবে ট্যাগ করার উদ্যোগ নিয়েছে।

এদিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের ২০২৪ সালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশে সংঘটিত ৭৩ শতাংশ ডিজিটাল জালিয়াতি ঘটে অনিবন্ধিত ডিভাইসে। বিটিআরসি ও এমএফএস প্রতিষ্ঠানগুলোর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে ই-কেওয়াইসি জালিয়াতির ৮৫ শতাংশ ঘটেছে অবৈধ বা পুনঃপ্রোগ্রাম করা হ্যান্ডসেট ব্যবহার করে।

২০২৩ সালে দেশে প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার মোবাইল ফোন চুরির রিপোর্ট হলেও অধিকাংশ ফোন উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। সরকার বলছে, ‘আন-অফিশিয়াল নতুন ফোন’ নামে সাধারণ মানুষের কাছে নকল ও অবৈধ ফোন বিক্রির ঘটনা নজিরবিহীন এবং জনস্বার্থে এ ধরনের চক্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

উল্লেখ্য, অবৈধ ও আনঅফিশিয়াল মোবাইল ফোন ব্যবহারে লাগাম টানতে সরকারের ঘোষণার পর ১ জানুয়ারি থেকে দেশে আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হয়েছে এনইআইআর। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে মোবাইল নেটওয়ার্কে ব্যবহৃত সব ফোনের আইএমইআই নম্বর জাতীয় ডাটাবেইজে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে।