ধামরাইয়ে শিল্প কারখানার বর্জ্যে গাজিখালী নদীর পানির এখন বিষাক্ত
ঢাকার ধামরাইয়ে বিভিন্ন শিল্প কারখানা থেকে নির্গত বিষাক্ত কেমিক্যাল মিশ্রিত বর্জ্যপানি সরাসরি গাজিখালি নদীতে ফেলা হচ্ছে। এতে নদীর পানি মারাত্মকভাবে দূষিত হয়ে পড়েছে। ফলে এ নদীর পানি ব্যবহারে অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। অপরদিকে ময়লা আবর্জনার দুর্গন্ধে নদীর আশপাশের পরিবেশ ভারী হয়ে উঠেছে। ফলে রোগবালাই সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ছে।
৭০ বছর বয়সী জয়ফুল বেগম জানান, আমরা নদীর পাড়ের মানুষ বড়ই অসহায় ময়লা আবর্জনার দুর্গন্ধের থাকা কষ্ট । এখন তো গন্ধ একটু কমই বৃষ্টি হলে থাকা যায়না। শুধুই কি গন্ধ আমাদের ঘরের টিনও নষ্ট হয়ে ছিদ্র হচ্ছে।
আরও পড়ুন: অনিয়ম পেলেই অ্যাকশন, ছাড় নেই—প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু
বাথুলী এলাকার নদীর পাড়ের দোকানদার বাবুল হোসেন আক্ষেপ করে বলেন, এ নদীর পরিবেশের কথা বলে লাভ নাই। ফ্যাক্টরির মালিকদের কাছে সবাই ধরা। আমাদের নিয়ে প্রতিবাদ করেছে অনেকেই কিন্তু কোন কাজ হয়নি। প্রতিবাদ করতে গিয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা ফ্যাক্টরির ভিতরে যায় আর ফিরে আসে কিছুই হয় না।
দেশের বৃহৎ যমুনা নদী। আর এ যমুনা নদী থেকে উৎপত্তি ধলেশ্বরী আবার ধলেশ্বরী থেকে উৎপত্তি ধামরাইয়ের এ গাজীখালী নদী। গাজীখালী নদীটি আঁকাবাকা হয়ে ঢাকা জেলার ধামরাই উপজেলা উপর দিয়ে বয়ে গেছে। উপজোলা বারবারিয়া এলাকা থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটারে বাথুলি হয়ে বংশী নদীতে মিশেছে। এখন থেকে ১৫ থেকে ২০ বছর পূর্বে বর্ষা মাসে এ নদীতে স্রোত আর শুষ্ক মৌসুমে থাকতো স্বচ্ছ পানি। । এ নদীর পানি কৃষি কাজে সেচ হিসেবে ও ব্যবহার করা হতো। শুধুই কি তাই মানুষের গোসল থেকে শুরু করে গৃহস্থালি কাজে পর্যন্ত এ পানি ব্যবহার করা হতো। শুধু পানিই ব্যবহার করা হতো না সারা বছর এ নদী থেকে মাছ পাওয়া যেত। জেলেরা মাছ ধরতো আর এ মাছ বিক্রি করে জীবিকাও নির্বাহ করতো। মানুষের আমিষের চাহিদা পূরণ হতো এ নদী থেকে। এখন এ পানি ছোয়াও দুষ্কর হয়ে পড়েছে। বর্তমানে এ নদীতে স্বচ্ছ পানি পাওয়া তো দুরের কথা মাছের বংশ পর্যন্ত নেই।
আরও পড়ুন: লন্ডনে লেবার পার্টির কাউন্সিলর প্রার্থী সোনাগাজীর জাহাঙ্গীর ফিরোজ
কারণ বিভিন্ন শিল্প কারখানা থেকে নির্গত বিষাক্ত কেমিক্যাল মিশ্রিত বর্জ্যপানি সরাসরি গাজিখালি নদীতে ফেলা হচ্ছে। এতে নদীর পানি মারাত্মকভাবে দূষিত হয়ে পড়েছে।
নদীর আশপাশে ঘুরে দেখা গেছে, নদীর পানিতে কালো ও সাদা রঙের আস্তরণ পড়ে গেছে এবং দুর্গন্ধে টেকা দায়। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রতিদিন আশপাশের শিল্প কারখানাগুলো কোনো পরিশোধন ছাড়াই বর্জ্য ফেলে দিচ্ছে নদীতে। ফলে মাছ মরে যাচ্ছে, কৃষিজমির উৎপাদন কমে গেছে এবং পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে।
এ বিষয়ে স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, “আগে এই নদীর পানি দিয়ে আমরা ধান চাষ করতাম, মাছ ধরতাম। এখন এই পানির গন্ধেই অসুস্থ লাগে। কেউ কিছু বলে না, প্রশাসনও যেন চোখ বন্ধ করে আছে।”
পরিবেশ অধিদপ্তর ও স্থানীয় প্রশাসনের উদাসীনতায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী। তারা দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নিয়ে দূষণ নিয়ন্ত্রণে আনার দাবি জানিয়েছেন।
পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যদি এখনই ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তবে এই নদী পুরোপুরি মৃত নদীতে পরিণত হবে, যা স্থানীয় পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি সৃষ্টি করবে।
স্থানীয় নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য আলহাজ্ব তমিজ উদ্দিন বলেন, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মহোদয়ের সাথে কথা বলবো কিভাবে এর সমাধান করা যায়।





