১৪ লাখ ভিসা, ৭.৫ লাখ ওয়ার্ক পারমিট: সৌদি রাষ্ট্রদূত

বাংলাদেশ -সৌদি আরব সম্পর্ক নতুন উচ্চতায়: তারেক রহমান

Sanchoy Biswas
বাংলাবাজার রিপোর্ট
প্রকাশিত: ৭:৪৪ অপরাহ্ন, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ | আপডেট: ৭:৪৪ অপরাহ্ন, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে “বিস্তৃত ও কৌশলগত অংশীদারিত্বে” উন্নীত করার প্রত্যয় পুনর্ব্যক্ত করলেন ঢাকায় নিযুক্ত সৌদি রাষ্ট্রদূত ড. আব্দুল্লাহ জাফর এইচ বিন আবিয়া। রোববার সকালে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ এবং পৃথকভাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে তিনি ২০২৫ সালে বাংলাদেশিদের জন্য মোট ১৪ লাখ ভিসা, যার মধ্যে ৭ লাখ ৫০ হাজার ওয়ার্ক ভিসা, ইস্যুর তথ্য তুলে ধরেন। কূটনৈতিক অঙ্গনে এটিকে শ্রমবাজার, রেমিট্যান্স ও কৌশলগত সহযোগিতার ক্ষেত্রে তাৎপর্যপূর্ণ বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সচিবালয়ে সাক্ষাৎ: 

আরও পড়ুন: ২৬ ফেব্রুয়ারি একুশে পদক প্রদান করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

প্রধানমন্ত্রীর দফতরে অনুষ্ঠিত সাক্ষাতে রাষ্ট্রদূত নবনিযুক্ত সরকারপ্রধানকে অভিনন্দন জানান এবং দুই দেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়াদি নিয়ে আলোচনা হয়। প্রধানমন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, বাংলাদেশ–সৌদি বন্ধুত্ব ভবিষ্যতে নতুন উচ্চতায় উন্নীত হবে। বৈঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে সকাল ৯টা ৫ মিনিটে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে অফিসে যোগ দিলে মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান।

আরও পড়ুন: প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব শেষে আবার ইউনূস সেন্টারে ফিরলেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস

২০২৫-এ ১৪ লাখ ভিসা: শ্রমবাজারে নতুন গতি

পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে সৌদি রাষ্ট্রদূত জানান, রিয়াদ ২০২৫ সালে বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ১৪ লাখ ভিসা ইস্যু করেছে; এর মধ্যে ৭.৫ লাখই কর্মভিসা। সৌদি আরবে চলমান বৃহৎ উন্নয়ন প্রকল্পে দক্ষ ও আধা-দক্ষ কর্মীর চাহিদা বাড়ায় বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য কর্মসংস্থানের নতুন দুয়ার খুলছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। বর্তমান সরকারের প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরও প্রাতিষ্ঠানিক ও কৌশলগত রূপ দেওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন রাষ্ট্রদূত।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান সৌদি আরবকে বাংলাদেশের “বিশ্বস্ত ও দীর্ঘদিনের অংশীদার” আখ্যা দিয়ে বলেন, সম্পর্ক ঐতিহাসিকভাবে গভীর ও বহুমাত্রিক। তিনি স্মরণ করেন, ১৯৭৬ সালে সৌদি আরবে বাংলাদেশ দূতাবাস প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান-এর সময়ে আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্কের সূচনা হয়; ১৯৭৭ সালে তাঁর ঐতিহাসিক সৌদি সফর মুসলিম বিশ্বে ঐক্য জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে—উভয়পক্ষই সে অবদান স্বীকার করে।

ভূ-কৌশল, জ্বালানি ও বিনিয়োগে প্রসার: 

মধ্যপ্রাচ্য ও মুসলিম উম্মাহজুড়ে শান্তি-স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় সৌদি নেতৃত্বের ভূমিকাও আলোচনায় উঠে আসে। বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জ্বালানি ও অবকাঠামো খাতে সহযোগিতা বাড়াতে দুই দেশের ভূ-কৌশলগত অবস্থান কাজে লাগানোর ওপর জোর দেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। বিশ্লেষকদের মতে, ভিসা অনুমোদনের বর্তমান পরিসংখ্যান কেবল শ্রমবাজার নয়—রেমিট্যান্স প্রবাহ, বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত অংশীদারিত্বের ক্ষেত্রেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

রোহিঙ্গা ইস্যুতে সমর্থন: 

রোহিঙ্গা সংকটেও সৌদি সহায়তার কথা তুলে ধরা হয়। ১৯৭৯ সালে প্রায় দুই লাখ রোহিঙ্গার প্রত্যাবাসনে সৌদি সমর্থনের বিষয়টি স্মরণ করে বাংলাদেশ বর্তমানে আশ্রিত প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গার জন্য রিয়াদের অব্যাহত মানবিক সহায়তার প্রশংসা জানায় এবং মিয়ানমারে টেকসই প্রত্যাবাসনে সক্রিয় সমর্থন কামনা করে।

‘ভিশন ২০৩০’ ও সংস্কার প্রসঙ্গ: 

রাষ্ট্রদূত পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন। প্রতিমন্ত্রী সৌদি ‘ভিশন ২০৩০’-এর অধীনে ক্রাউন প্রিন্সের সংস্কার উদ্যোগের প্রশংসা করে পারস্পরিক স্বার্থে অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের সুযোগের কথা বলেন।

দ্বিপক্ষীয় আলোচনার সারবত্তা—শ্রমবাজারে বিস্তৃতি, অর্থনৈতিক সহযোগিতায় গভীরতা এবং কৌশলগত আস্থায় দৃঢ়তা। কূটনৈতিক বার্তাটি স্পষ্ট: ঢাকা–রিয়াদ সম্পর্ক এখন সংখ্যার শক্তি পেরিয়ে কাঠামোগত অংশীদারিত্বের দিকে ।