শ্রীপুরে ঝুট ব্যবসা নিয়ে বিএনপি সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা, আহত ১
গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার টেংরা পশ্চিমপাড়া এলাকায় একটি প্রিন্টিং ও প্যাকেজিং কারখানার ঝুট ব্যবসাকে কেন্দ্র করে বিএনপি সমর্থিত দুই পক্ষের মধ্যে দিনভর উত্তেজনা বিরাজ করেছে। পরে সন্ধ্যায় একজনকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করা হয়। এ সময় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া এবং কারখানার গেট ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রোববার (২৯ জুন) সকাল থেকেই আইটিএল নামের ওই কারখানার সামনে দুই পক্ষ অবস্থান নেয়। বিকেলে কারখানার ঝুট বোঝাই একটি গাড়ি বের হওয়ার সময় এক পক্ষের বাধার মুখে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে অপর পক্ষ হামলা চালালে সংঘর্ষ শুরু হয়। এতে মনির আকন্দ নামের একজন আহত হন। তিনি শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন।
আরও পড়ুন: নবীগঞ্জে ২০ কেজি গাঁজাসহ মাদক কারবারি আটক
স্থানীয় সূত্র জানায়, ঝুট ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিএনপি সমর্থিত দুটি পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই বিরোধ চলছিল। কারখানা কর্তৃপক্ষ ঝুট উত্তোলনের জন্য পৌর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক নবী হোসেনকে ওয়ার্ক অর্ডার দেয়। এ নিয়ে নবী হোসেনের নেতৃত্বাধীন একটি পক্ষের সঙ্গে বিএনপির অন্য একটি পক্ষের বিরোধ চরমে ওঠে।
স্থানীয়রা আরও জানান, ওই বিরোধে অপর পক্ষকে সমর্থন দিচ্ছেন গাজীপুর জেলা ছাত্রদলের সাবেক সহসভাপতি রানা প্রতাপ ও তার অনুসারীরা।
আরও পড়ুন: শেরপুর-৩ আসনের জামায়াতের প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল মারা গেছেন
রানা প্রতাপের অনুসারী আল-আমিন জানান, “আমরা সেখানে বিএনপির অফিসে খিচুড়ি খাওয়ার আয়োজন করেছিলাম। ঝুট ব্যবসা নিয়ে কিছু জটিলতা চলছিল। বিষয়টি সমাধানের জন্য সিনিয়ররা আলোচনা শুরু করেছিলেন। হঠাৎ নবী হোসেন পেছন থেকে মনিরকে দা দিয়ে কোপ দেন। পরে আমরা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাই।”
আহত মনির এবং নবী হোসেন দুজনই গাজীপুর জেলা বিএনপির প্রথম যুগ্ম আহ্বায়ক ডা. রফিকুল ইসলাম বাচ্চুর অনুসারী বলে জানা গেছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, দীর্ঘদিন ধরেই কারখানার ঝুট ব্যবসাকে কেন্দ্র করে একাধিক পক্ষ রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা করছে। এতে এলাকার পরিবেশ দিন দিন অস্থিতিশীল হয়ে উঠছে।
এ ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয়দের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর টহল জোরদার করা হয়েছে। এ বিষয়ে ছাত্রদল নেতা রানা প্রতাপ ও অভিযুক্ত নবী হোসেন গণমাধ্যমে কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি।
সার্বিক বিষয়ে গাজীপুর জেলা বিএনপির ১ নম্বর যুগ্ম আহবায়ক অধ্যাপক ডা. রফিকুল ইসলাম বাচ্চুর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হয়েছে । তিনি রিসিভ করেননি ।
শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল বারিক বলেন, “সংঘর্ষের ঘটনাটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”





