ইটনায় জলমহাল নিয়ে ছড়িয়েছে ঘুষের অডিও রেকর্ড, মানা হয়নি নীতিমালা

Sanchoy Biswas
মো. ইসমত আলী (নিকলী) কিশোরগঞ্জ
প্রকাশিত: ১০:৫১ অপরাহ্ন, ০৫ অগাস্ট ২০২৫ | আপডেট: ২:৩৫ অপরাহ্ন, ২৮ মে ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

ইজারা নিয়ে সাবলিজ প্রদান এবং সময়মতো ইজারার টাকা জমা না দেওয়া স্বত্বেও বাতিল করা হয়নি ইজারা। লিখিত অভিযোগের পরও ব্যবস্থা নেয়নি প্রশাসন। বিষয়টি নিয়ে ঘুষ লেনদেনের দরকষাকষির অডিও রেকর্ডও ছড়িয়েছে। ঘটনাটি কিশোরগঞ্জের ইটনা উপজেলার উজান শিমুল গৌরনদীর টুক জলমহাল নিয়ে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, কিশোরগঞ্জের ইটনা উপজেলার উজান শিমুল গৌরনদীর টুক জলমহালটি বাংলা ১৪৩১-১৪৩৬ সন পর্যন্ত ছয় বছরের জন্য ইজারা দেওয়া হয় বর্শিকুড়া গ্রামের সানমুন মৎস্যজীবী সমবায় সমিতিকে। ইজারা নেওয়ার পর সমিতির সাধারণ সম্পাদক সুমন বর্মণ সমিতির সভাপতিসহ অন্য কাউকে না জানিয়ে আওয়ামী লীগের কতিপয় নেতাকে সাবলিজ প্রদান করেন। এমনকি প্রতি বছরের ১৫ চৈত্রের মধ্যে পরবর্তী বছরের ইজারার টাকা জমা দেওয়ার বিধান থাকলেও মানা হয়নি সেটা। বিষয়টি নিয়ে জেলা প্রশাসনের এক কর্মচারীর সঙ্গে ঘুষ লেনদেন সংক্রান্ত দরকষাকষির একটি অডিও রেকর্ড সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার হলেও রহস্যজনক কারণে বাতিল করা হয়নি ইজারা। এ নিয়ে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে সৃষ্টি হয়েছে ক্ষোভের।

আরও পড়ুন: ঝুম বৃষ্টির মধ্যেই শোলাকিয়ায় অনুষ্ঠিত হলো ১৯৯তম ঈদুল আজহার জামাত

সমিতির সভাপতি জুলহাস মিয়া জানান, জলমহালটি ইজারা নেওয়ার পরই কাউকে না জানিয়ে সমিতির সাধারণ সম্পাদক সুমন বর্মণ আওয়ামী লীগের কতিপয় প্রভাবশালী নেতার কাছে তিনশত টাকার স্ট্যাম্পের মাধ্যমে সাবলিজ প্রদান করেন-যা জলমহাল নীতিমালার পরিপন্থি। এমনকি ইজারার পূর্ববর্তী বছরের ১ কোটি ৬৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা জমা দেওয়ার কথা থাকলেও সে টাকা জমা হয়নি। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পরও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে তিনি জানান। ইজারা নিয়ে জলমহাল ভোগ করতে না পারায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।

সংশ্লিষ্ট অন্য একটি সূত্র জানায়, প্রতি বছর ১৫ চৈত্রের মধ্যে জলমহালের ইজারার পরবর্তী বছরের টাকা জমা দেওয়ার বিধান থাকলেও নির্ধারিত সময়ে জমা হয়নি ইজারার টাকা। শুধুমাত্র এর ভিত্তিতেই ইজারা বাতিল করতে পারতো বলে সূত্রটি জানায়। কিন্তু রহস্যজনক কারণে বাতিল করা হয়নি।

আরও পড়ুন: গোপালগঞ্জে বাস-মোটরসাইকেল সংঘর্ষে নিহত ৫

সমিতির সাধারণ সম্পাদক সুমন বর্মণ সাবলিজ দেওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, সাবলিজ প্রাপ্ত ইয়াসিন ইজারার টাকা জমা দেওয়ার কথা। কিন্তু কী কারণে টাকা জমা দেয়নি, সেটা তার জানা নেই। তবে সাবলিজ নেওয়ার কথা অস্বীকার করে ইয়াসিন বলেন, তিনি শুধু ফিসিংয়ের কাজটি করে থাকেন। ১৫ চৈত্রের মধ্যে ইজারার টাকা জমা না দেওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিষয়টি ডিসি সাহেব বুঝবেন।

বিষয়টি নিয়ে জেলা প্রশাসনের রাজস্ব শাখার সালাহ উদ্দিন নামে এক কর্মচারীর সঙ্গে জলমহাল সংশ্লিষ্ট একজনের ঘুষ লেনদেনের দরকষাকষির একটি অডিও রেকর্ড ছড়িয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। অডিও রেকর্ডের কণ্ঠটি নিজের নয় বলে দাবি করেন সালাহউদ্দিন। কণ্ঠটি নিজের না হলে এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নিচ্ছেননা কেন-এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সম্পূর্ণ বিষয়টিই এডিসি রেভিনিউ স্যার জানেন।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোহাম্মদ নাহিদ হাসান খান এ সংক্রান্ত লিখিত অভিযোগ পাওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

এদিকে সমিতির বঞ্চিতরা জানিয়েছেন তারা যে কোনো সময় জলমহাল পুনর্দখলে যাবেন। এ নিয়ে উত্তেজনা বিরাজ করছে।