শৈত্যপ্রবাহে হবিগঞ্জে ঠান্ডাজনিত রোগের প্রকোপ, হাসপাতাল উপচে পড়া রোগীতে

Sanchoy Biswas
নুরুজ্জামান ভূইয়া, হবিগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ৬:৪২ অপরাহ্ন, ০৬ জানুয়ারী ২০২৬ | আপডেট: ৯:০০ পূর্বাহ্ন, ০৯ জানুয়ারী ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

শৈত্যপ্রবাহ ও প্রচণ্ড শীতের কারণে হবিগঞ্জ জেলায় ঠান্ডাজনিত রোগের প্রকোপ আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া ও শ্বাসকষ্টজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে প্রতিদিন ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে শয্যার দ্বিগুণেরও বেশি রোগী ভর্তি হচ্ছে। এতে রোগীদের সেবা দিতে গিয়ে কর্তব্যরত চিকিৎসক ও নার্সদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

হাসপাতালে শয্যা সংকট তীব্র আকার ধারণ করায় অনেক রোগী ও তাদের স্বজনদের বাধ্য হয়ে মেঝেতে বিছানা পেতে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। রোগীর স্বজনরা জানান, সিট না পাওয়ায় অন্য কোনো উপায় না থাকায় তারা মেঝেতেই অবস্থান করছেন। একই সঙ্গে হাসপাতালে রয়েছে ওষুধের সংকট ও পর্যাপ্ত জনবল ঘাটতি। ফলে বাইরে থেকে ওষুধ কিনে আনতে বাধ্য হচ্ছেন রোগীরা।

আরও পড়ুন: পঞ্চগড়ে তাপমাত্রা নামলো ৬ ডিগ্রিতে, জনজীবন স্থবির

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ১৪৪ জন রোগী ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে ৩৫ জন চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরে গেছে। প্রতিদিন শতাধিক রোগী ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন। অধিকাংশ রোগীই ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত। গত পাঁচ দিনে ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে তিনজন শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

চিকিৎসকদের মতে, প্রচণ্ড ঠান্ডায় শিশু ও বয়স্করাই সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন। হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. ফাইকা রহমান জানান, শিশুদের ৫০ সিটের বিপরীতে প্রতিদিন ১৫০ জন রোগী ভর্তি হচ্ছে। প্রতিদিন যে পরিমাণ রোগী হাসপাতালে আসছে, তাদের চিকিৎসা দিতে গিয়ে চিকিৎসক ও নার্সদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। তিনি বলেন, বেশিরভাগ শিশুই ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া ও ফ্লুজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হচ্ছে। সর্বোচ্চ চিকিৎসাসেবা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন: ভোলায় ভূমিকম্প অনুভূত, আতঙ্কে মানুষ

সতর্কতামূলক পরামর্শ হিসেবে তিনি শিশুদের অপ্রয়োজনে ঘরের বাইরে না যাওয়ার অনুরোধ জানান এবং শীত থেকে সুরক্ষার জন্য ভারী কাপড় পরিধানের ওপর গুরুত্ব দেন। পাশাপাশি পচা ও বাসি খাবার পরিহারেরও আহ্বান জানান তিনি।