তারেক রহমানের হস্তক্ষেপে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার দুইটি আসনের সমস্যা সমাধান

Sanchoy Biswas
সঞ্জীব ভট্টাচার্য্য, ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ৯:৫১ অপরাহ্ন, ১২ জানুয়ারী ২০২৬ | আপডেট: ১১:৪৯ অপরাহ্ন, ১২ জানুয়ারী ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার ৬টি সংসদীয় আসনের মধ্যে ৫টিতেই দলের প্রার্থী নিয়ে অস্বস্তিতে ছিল বিএনপি ও নেতৃত্বাধীন জোট। তবে তারেক রহমানের হস্তক্ষেপে দুইটি আসনের সমস্যা ইতিমধ্যে সমাধান হয়েছে। এছাড়া বাকি তিন আসনের সমস্যা শীঘ্রই সমাধান হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

৬টি আসনের মধ্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ (নাসিরনগর) আসনে বিএনপির ‘গলার কাঁটা’ হয়ে ওঠা স্বতন্ত্র প্রার্থী সৈয়দ এ কে একরামুজ্জামান ইতিমধ্যেই তারেক রহমানের নির্দেশনায় মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছেন। বিএনপির আরেক বিদ্রোহী প্রার্থী মো. কামরুজ্জামান মামুনের সঙ্গেও চূড়ান্ত আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

আরও পড়ুন: কাপাসিয়ায় কৃষকদলের উদ্যোগে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় মিলাদ ও দোয়া

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ-বিজয়নগরের দুই ইউনিয়ন) আসনে বিরোধ মিটানো সম্ভব হবে না বলে আলোচনায় আছে। এ আসনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের প্রার্থী হয়েছেন জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের সহ-সভাপতি জুনায়েদ আল হাবিব। এখানে হেভিওয়েট প্রার্থী বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। ভোটের মাঠ থেকে তিনি সরছেন না বলেই বারবার ঘোষণা দিচ্ছেন। এ আসনে বিএনপির বিদ্রোহী হিসেবে মাঠে রয়েছেন তরুণ দে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ (সদর-বিজয়নগর) আসনে বিদ্রোহী কোনো প্রার্থী নেই।

আরও পড়ুন: সারিয়াকান্দিতে রংধনু গ্রামীণ সমাজকল্যাণ সংস্থার উদ্যোগে শীতবস্ত্র বিতরণ

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ (কসবা-আখাউড়া) আসনে প্রথমে দলের চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ও সাবেক সংসদ সদস্য মনোনয়ন দেওয়া হয় এবং পরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা বিএনপির সদস্য কবির আহমেদ ভূঁইয়া মনোনয়ন পান। এ আসনেরও সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করছেন তারেক রহমান।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ (নবীনগর) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আবদুল মান্নানের অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়ানো কাজী নাজমুল হোসেনের বিষয়েও আলোচনা চলছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ (বাঞ্ছারামপুর) আসনেও বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট প্রার্থীর বিরুদ্ধে ভোটে দাঁড়ানো দলের হেভিওয়েট প্রার্থী একই ঘোষণা দিয়েছেন।

জোট প্রার্থীকে সমর্থন এম এ খালেকের

বিএনপির চেয়ারপার্সন তারেক রহমানের সঙ্গে আলাপের পর ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ আসন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন সাবেক সংসদ সদস্য এম এ খালেক। একইসঙ্গে তিনি জোট সমর্থিত প্রার্থী গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান জোনায়েদ সাকিকে বিজয়ী করতে সবাইকে সক্রিয়ভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন।

১১ জানুয়ারি শনিবার বিকেলে জেলার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার তেজখালী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে সভায় সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন তিনি।

সৈয়দ এ কে একরামুজ্জামানের ভিডিও বার্তা

স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়ে আওয়ামী লীগের প্রার্থীকে হারিয়ে বেশ সাড়া ফেলেছিলেন ২০২৪ সালের দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে। এবারও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দাখিল করে বিএনপিসহ অন্যান্য দল মনোনীত প্রার্থীর মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন। ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ (নাসিরনগর) আসনের সেই প্রার্থী সৈয়দ এ কে একরামুজ্জামান এবার মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছেন। এক ভিডিও বার্তায় তিনি এ ঘোষণা দেন। পাশাপাশি মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের আবেদনও করেছেন। এরপরই বিএনপি নেতাকর্মীদের মাঝে স্বস্তি ফিরেছে।

একরামুজ্জামান ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার ৬টি আসনের ৬১ প্রার্থীর মধ্যে সবচেয়ে ধনাঢ্য। আয়কর রিটার্নে তিনি ২৬৫ কোটি টাকার সম্পদের মালিক বলে উল্লেখ করেছেন। স্ত্রীসহ তার পরিবারের সবাই কোটিপতি, যা হলফনামায় উল্লেখ রয়েছে।

সৈয়দ এ কে একরামুজ্জামান বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা ছিলেন। দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে ২০২৪ সালের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ায় তাকে বিএনপি থেকে বহিষ্কার করা হয়। ওই নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পর তিনি আওয়ামী লীগে যোগ দেন। পরবর্তীতে তিনি পদত্যাগ করেন বলে দাবি করেন। গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে তার বিরুদ্ধে ৭টি মামলা হয়।

এ ব্যাপারে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা বিএনপির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল বলেন, “কেউ মনোনয়ন না পেলে তার কিছু চাওয়া থাকতে পারে। তার এলাকাকেন্দ্রিক কিছু বিষয় থাকতে পারে। তিনি তার চাওয়া-পাওয়ার কথা, এলাকাকেন্দ্রিক কথা হাইকমান্ডে বলতে পারেন। হাইকমান্ডও উদ্যোগ নিয়ে শুনতে পারেন। এক্ষেত্রে সমস্যা সমাধানে সহজ হয়। আমাদের এখানকার সমস্যা সমাধানে দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান উদ্যোগ নিয়েছেন। ইতিমধ্যে একাধিক সমস্যার সমাধান হয়েছে। বাকিগুলোও দ্রুত সমাধান হবে বলে আশা করি।”