অনলাইন জুয়ার টাকার ভাগাভাগি নিয়ে দ্বন্দ্ব, শিক্ষকসহ সাইবার মামলায় গ্রেফতার-২

Sanchoy Biswas
মো. শফিকুল ইসলাম, নাজিরপুর (পিরোজপুর)
প্রকাশিত: ৫:০১ অপরাহ্ন, ০৪ মার্চ ২০২৬ | আপডেট: ৬:৩৭ অপরাহ্ন, ০৪ মার্চ ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার রুহিতলাবুনিয়া গ্রামে অনলাইন জুয়া চক্রে জড়িত থাকার অভিযোগে এক সহকারী শিক্ষকসহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে নাজিরপুর থানা পুলিশ।

মঙ্গলবার (৩ মার্চ) সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ ২০২৫ এর ২০(২), ২৪(২) ও ২৭(২) ধারায় তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়।

আরও পড়ুন: উলিপুর থানা-র বিশেষ অভিযানে ১০০ গ্রাম গাঁজাসহ গ্রেফতার ১

অভিযুক্তরা হলেন রুহিতলাবুনিয়া গ্রামের কবির শেখের পুত্র রাজিব শেখ (২৫) এবং একই গ্রামের মৃত সোবাহান মোল্লার পুত্র রেজাউল (৪০)। রেজাউল স্থানীয় পিরোজপুর নাইট স্কুলের সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মরত।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অনলাইন জুয়া খেলে অর্জিত ছয় লাখ ৩১ হাজার টাকা ভাগাভাগি নিয়ে রাজিব ও রেজাউলের মধ্যে দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হয়। বিষয়টি নিয়ে বিরোধ চরমে পৌঁছালে প্রশাসনের নজরে আসে এবং অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে দুইটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয় এবং নগদ এক লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত অর্থ অনলাইন জুয়ার লেনদেনের সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

আরও পড়ুন: কুলাউড়ায় ৩ প্রতিষ্ঠানকে লাখ টাকা জরিমানা, এক রেস্টুরেন্ট সিলগালা

একজন শিক্ষক হয়ে সমাজবিধ্বংসী ও অবৈধ কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ার ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় উঠেছে।

সচেতন মহল বলছে, শিক্ষক সমাজের নৈতিক পথপ্রদর্শক। তার কাছ থেকে এমন অনৈতিক ও আইনবিরোধী কর্মকাণ্ড শুধু নিন্দনীয়ই নয়, সমাজের জন্য অত্যন্ত লজ্জাজনক ও হতাশাজনক।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, জব্দকৃত মোবাইল ফোনের তথ্য বিশ্লেষণ করে এই চক্রের সঙ্গে আর কেউ জড়িত আছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রয়োজনে আরও গ্রেপ্তার হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে নাজিরপুর থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. হারুন-অর-রশীদ হাওলাদার বলেন, আমরা গত রাতে দুজনকে গ্রেফতার করেছি, এবং সাইবার মামলায় তাদের জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, অনলাইন জুয়ার মতো ভয়াবহ সামাজিক ব্যাধির সঙ্গে জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। সমাজকে কলুষিত করে এমন অবৈধ অনলাইন জুয়া সম্পূর্ণরূপে নির্মূল করতে প্রশাসন সর্বাত্মকভাবে তৎপর রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযানে কঠোরতা অব্যাহত থাকবে।