পাকিস্তানে মার্কিন দূতাবাসে হামলা: খামেনি হত্যার প্রতিবাদে সংঘর্ষে নিহত ৮
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহতের খবরের প্রতিক্রিয়ায় উত্তাল হয়ে উঠেছে পাকিস্তানের বাণিজ্যিক রাজধানী করাচি। রোববার (১ মার্চ) করাচিতে অবস্থিত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক মিশনে একদল বিক্ষোভকারীর হামলার চেষ্টাকালে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে ব্যাপক সংঘর্ষে অন্তত ৮ জন নিহত হয়েছেন।
আজ সকালে ইরান আনুষ্ঠানিকভাবে খামেনির শাহাদাতের খবর নিশ্চিত করার পরপরই করাচির রাস্তায় নামেন কয়েক হাজার বিক্ষোভকারী। তারা মার্কিন ও ইসরাইল বিরোধী স্লোগান দিয়ে মার্কিন কনস্যুলেটের দিকে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ও আধা-সামরিক বাহিনী কাঁদানে গ্যাস এবং লাঠিচার্জ শুরু করলে রণক্ষেত্রে পরিণত হয় পুরো এলাকা।
আরও পড়ুন: ইরানে মেয়েদের স্কুলে হামলায় নিহত বেড়ে ১৪৮
আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা এএফপি এবং পাকিস্তানের স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ইধি ফাউন্ডেশন নিশ্চিত করেছে যে, সংঘর্ষের ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৮ জন প্রাণ হারিয়েছেন। করাচির সিভিল হাসপাতালের পুলিশ সার্জন ডা. সুমাইয়া সৈয়দ জানান, হাসপাতালটিতে ছয়টি মরদেহ আনা হয়েছে। ইধি ফাউন্ডেশনের অ্যাম্বুলেন্সগুলো আহতদের উদ্ধার করে শহরের বিভিন্ন হাসপাতালে পৌঁছে দিচ্ছে।
ঘটনার পর সিন্ধুর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জিয়াউল হাসান লাঞ্জার করাচির অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক আযাদ খানের কাছ থেকে পরিস্থিতির বিস্তারিত রিপোর্ট তলব করেছেন। এক জরুরি বিবৃতিতে তিনি বলেন, "কাউকে আইন নিজের হাতে তুলে নিতে দেওয়া হবে না। সংবেদনশীল এবং কূটনৈতিক স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিতে সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় রয়েছে প্রশাসন।"
আরও পড়ুন: যেভাবে খামেনির অবস্থান খুঁজে পায় সিআইএ–ইসরাইল
বিক্ষোভের কারণে করাচির সুলতানাবাদ এবং মাই কোলাচি রোডসহ গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে যান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ট্রাফিক পুলিশের পক্ষ থেকে নাগরিকদের বিকল্প রুট ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া শহরের অন্যান্য কূটনৈতিক জোনেও অতিরিক্ত নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, তেহরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলায় খামেনিসহ প্রায় দুই শতাধিক ইরানি নাগরিক নিহতের ঘটনায় পাকিস্তানসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে।





