হরমুজ প্রণালিতে অবাধ জাহাজ চলাচলের প্রস্তাব ইরানের, যুদ্ধ নিরসনে নতুন উদ্যোগ

Any Akter
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ৮:২০ পূর্বাহ্ন, ১৬ এপ্রিল ২০২৬ | আপডেট: ১০:২৫ পূর্বাহ্ন, ১৬ এপ্রিল ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র-এর মধ্যে চলমান যুদ্ধাবস্থা নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রস্তাব দিয়েছে ইরান। প্রস্তাবে বলা হয়েছে, চূড়ান্ত সমঝোতা হলে হরমুজ প্রণালির ওমান অংশ দিয়ে আন্তর্জাতিক জলসীমায় জাহাজ চলাচল অবাধ রাখা হবে এবং কোনো ধরনের হামলার ঝুঁকি থাকবে না।

বুধবার (১৫ এপ্রিল) সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে রয়টার্স এ তথ্য জানিয়েছে। কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা সংঘাত ও বাণিজ্যিক অচলাবস্থা কাটাতে এটিকে তেহরানের বড় ধরনের নমনীয়তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

আরও পড়ুন: বিশ্বের অন্য যেকোনো অঞ্চলের চেয়ে মধ্যপ্রাচ্যে তেল, গ্যাস বেশি কেন?

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল বনাম ইরান সংঘাত বিশ্ব জ্বালানি বাজারে বড় ধাক্কা দিয়েছে। বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় ২০ শতাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে পারস্য উপসাগরে শত শত বাণিজ্যিক জাহাজ এবং প্রায় ২০ হাজার নাবিক আটকা পড়ে আছেন।

গত ৮ এপ্রিল থেকে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে টানাপোড়েন অব্যাহত রয়েছে। এর মধ্যেই ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধের সমাপ্তির ইঙ্গিত দিলেও হরমুজ সংকটের স্থায়ী সমাধান এখনো অনিশ্চিত।

আরও পড়ুন: যুক্তরাজ্যে আশ্রয় পেতে বাংলাদেশিসহ বিভিন্ন অভিবাসীদের সমকামী সেজে থাকার পরামর্শ আইনজীবীদের, বিবিসির অনুসন্ধান

ইরানের প্রস্তাবে বলা হয়েছে, প্রণালির ওমান অংশে তারা কোনো বাধা দেবে না। তবে এর বিনিময়ে ওয়াশিংটনকে তেহরানের শর্তগুলো মেনে নিতে হবে। যদিও সমুদ্রে পেতে রাখা মাইন সরানো হবে কি না বা ইসরায়েল-সংশ্লিষ্ট জাহাজ একই সুবিধা পাবে কি না—সে বিষয়ে এখনো স্পষ্ট কিছু জানানো হয়নি।

মাত্র ৩৪ কিলোমিটার প্রশস্ত এই প্রণালিটি মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম প্রধান রুট। এর আগে ইরান এই পথে চলাচলকারী জাহাজে শুল্ক আরোপ ও নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার হুমকি দিয়েছিল, যা আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ সৃষ্টি করে।

লন্ডনভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল মেরিটাইম অর্গানাইজেশন-এর সভায় সদস্য দেশগুলো ইরানের ওই পদক্ষেপের বিরোধিতা করে একে ‘বিপজ্জনক নজির’ বলে আখ্যা দেয়।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের এই প্রস্তাব কয়েক দশকের পুরোনো ‘স্ট্যাটাস কু’ ফিরিয়ে আনার প্রথম পদক্ষেপ হতে পারে এবং যুদ্ধ-পরবর্তী বিশ্ব অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।