আদ-দ্বীন হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মৃত্যু, ও কর্তৃপক্ষের নিদারুণ অবহেলা

Sanchoy Biswas
বাংলাবাজার রিপোর্ট
প্রকাশিত: ৭:৪৪ অপরাহ্ন, ২৭ মে ২০২৬ | আপডেট: ৭:৪৪ অপরাহ্ন, ২৭ মে ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

রাজধানীর মগবাজারের আদ-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনায় চিকিৎসা অবহেলা ও হাসপাতাল ব্যবস্থাপনার ঘাটতির অভিযোগ তুলেছেন ভুক্তভোগী পরিবারগুলো। যদিও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, এটি একটি আকস্মিক ও অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা।

নিহত এক নবজাতকের বাবা শান্ত ইসলাম জানান, “রাতে বাচ্চা ভালো আছে বলেছিল, ভোরে গিয়ে দেখি আর নাই।” কেরানীগঞ্জ থেকে চিকিৎসা নিতে আসা তিনি বলেন, জন্মের পর শিশুটি সুস্থ ছিল বলে তাদের জানানো হয়েছিল।

আরও পড়ুন: ‘ভইরা দে’ গ্রুপের সেকেন্ড ইন কমান্ড রাসেলসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা

পরিবারের অভিযোগ, রাতের দিকে ওয়ার্ডে থাকা একাধিক নবজাতক হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ে এবং ভোরের দিকে তাদের অবস্থা দ্রুত অবনতি ঘটে। অনেকেই বমি ও শ্বাসকষ্টের মতো উপসর্গ দেখা দেওয়ার কথা জানান।

একাধিক স্বজন অভিযোগ করেন, ওয়ার্ডে শ্বাস-প্রশ্বাসের সমস্যা এবং দুর্গন্ধের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। তাদের দাবি, এসি বন্ধ থাকা এবং পর্যাপ্ত ভেন্টিলেশন না থাকায় শিশুগুলোর অবস্থার অবনতি হয়।

আরও পড়ুন: রাজধানীর ৫ হাজার ইয়াবাসহ পুলিশ কর্মকর্তা গ্রেফতার

তবে আদ-দ্বীন হাসপাতালের মহাপরিচালক ডা. নাহিদ ইয়াসমিন দাবি করেন, নবজাতকদের মধ্যে হঠাৎ করেই শারীরিক জটিলতা দেখা দেয়। তিনি বলেন, “প্রথমে দুই শিশু অসুস্থ হয়, পরে বাকি শিশুরাও একইভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ে। চিকিৎসকরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন, কিন্তু তাদের বাঁচানো সম্ভব হয়নি।”

তিনি আরও জানান, কিছু সময়ের জন্য এসি বন্ধ রাখা হয়েছিল এবং পরে পরিস্থিতি জটিল হয়ে পড়ে। তবে এটি মৃত্যুর সরাসরি কারণ কি না, তা তদন্ত ছাড়া নিশ্চিত হওয়া যাবে না বলে তিনি মন্তব্য করেন।

অন্যদিকে, স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস জানান, ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়ে “শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতির মতো পরিবেশ” পাওয়া গেছে। তিনি বলেন, ওয়ার্ডটিতে পর্যাপ্ত বিকল্প ভেন্টিলেশন ব্যবস্থা ছিল না বলেও প্রাথমিকভাবে ধারণা পাওয়া গেছে।

স্বাস্থ্য অধিদফতর এ ঘটনায় তিন সদস্যের উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। কমিটিকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্তে হাসপাতালের অব্যবস্থাপনা, চিকিৎসা অবহেলা বা প্রযুক্তিগত ত্রুটি ছিল কি না তা খতিয়ে দেখা হবে।

এদিকে পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি তদন্তাধীন এবং এখন পর্যন্ত কোনো মামলা হয়নি। সিআইডির ক্রাইম টিমও ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করছে।

ঘটনাটি নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠলেও প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পরই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।