জ্বালানি সাশ্রয়ে নতুন নির্দেশনা জারি সরকারের
জ্বালানি তেলের সাশ্রয়ে নতুন নির্দেশনা দিয়েছে সরকার। সরকারি সভা, কর্মশালা ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে মাঠ পর্যায়ের অংশগ্রহণকারীদের ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্মে যুক্ত করা ছাড়াও বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ের বিভিন্ন কর্মসূচিতে অধস্তন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের যথাসম্ভব অনলাইনে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত নির্দেশনা জারি করা হয়।
নির্দেশনাটি প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, সব মন্ত্রণালয়ে অভিভাগের সিনিয়র সচিব ও সচিব, সব বিভাগীয় কমিশনার, সব জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের (ইউএনও) কাছে পাঠানো হয়েছে।
আরও পড়ুন: স্কুল পর্যায় থেকে সামাজিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধের চর্চা বাড়ানোর আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
নির্দেশনায় বলা হয়, বৈশ্বিক জ্বালানি পরিস্থিতি বিবেচনায় জ্বালানি তেলের সাশ্রয় নিশ্চিত করার পাশাপাশি সরকারি কার্যক্রম নিরবচ্ছিন্ন, কার্যকর ও গতিশীলভাবে পরিচালনার লক্ষ্যে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
এতে বলা হয়েছে, মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলো আয়োজিত সভা, কর্মশালা, প্রশিক্ষণসহ বিভিন্ন কার্যক্রমে মাঠ পর্যায়ের অংশগ্রহণকারীদের ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্মে অংশগ্রহণকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। এছাড়া বিভাগীয় পর্যায়ের কর্মসূচিতে জেলা পর্যায় থেকে এবং জেলা পর্যায়ের কর্মসূচিতে উপজেলা পর্যায় থেকে অংশগ্রহণ যথাসম্ভব ভার্চুয়াল মাধ্যমে সম্পন্ন করতে হবে। তবে প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সশরীরে সভা, কর্মশালা বা প্রশিক্ষণের আয়োজন করতে পারবে বলেও নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে। এ নির্দেশনা কার্যকরের পাশাপাশি এ বিষয়ে গত ১২ এপ্রিল জারি করা নির্দেশনাটি বাতিল করা হয়েছে বলেও নির্দেশনায় জানানো হয়েছে।
আরও পড়ুন: মোমেন কমিশনে দুদকের তিন মহাপরিচালক ঘিরে বিতর্ক
এরআগে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার এবং এলপিজি ও এলএনজি অবকাঠামো উন্নয়নের লক্ষ্যে একটি উচ্চপর্যায়ের মন্ত্রিপরিষদ উপকমিটি গঠন করেছে সরকার। এ বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ গত সোমবার একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীকে সভাপতি করে ৯ সদস্যের এই কমিটি গঠন করা হয়েছে।
কমিটির সদস্য হিসেবে রয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী, পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান, অর্থ বিভাগের সচিব, বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব এবং জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সচিব। নতুন এ কমিটি দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প ও উদ্যোগ পর্যালোচনা করবে। বিশেষ করে এলপিজি আমদানি, ভোলা থেকে গ্যাস সরবরাহ, ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল (এফএসআরইউ) এবং স্থলভিত্তিক এলএনজি ও এলপিজি টার্মিনাল স্থাপনের বিষয়গুলো দ্রুত মূল্যায়ন করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার সুপারিশ করবে। কমিটি প্রয়োজন অনুসারে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, সরকারি-বেসরকারি সংস্থা ও খাতসংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের মতামত নিতে পারবে। পাশাপাশি কার্যক্রমের স্বার্থে অতিরিক্ত সদস্য অন্তর্ভুক্ত করার ক্ষমতাও রাখা হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, প্রয়োজন অনুযায়ী কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হবে এবং এর প্রশাসনিক ও সাচিবিক দায়িত্ব পালন করবে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ।





