ঈদে বেড়ে যায় সিএনজি অটোভ্যান চালকদের দ্বিগুন ভাড়ার নৈরাজ্য

Sanchoy Biswas
এস আর শাহ্ আলম, বেড়া (পাবনা) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ২:৪৩ অপরাহ্ন, ২৯ মে ২০২৬ | আপডেট: ৬:৩৬ পূর্বাহ্ন, ১৪ জুলাই ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

পাবনার বেড়া উপজেলার মহাসড়ক এবং গ্রামগঞ্জের আঞ্চলিক সড়কগুলোতে ঈদের তিনদিন আগে থেকে ঈদ-পরবর্তী প্রায় এক সপ্তাহ পর্যন্ত সিএনজি, অটোরিকশা এবং অটোভ্যান চালকদের দ্বিগুণ ভাড়ার নৈরাজ্যে যাত্রীরা পড়েন চরম বিপাকে। এ যেন “মগের মুল্লুক”। ছোট ছোট এসব যানবাহনের চালকদের চাঁদাবাজি ও দ্বিগুণ ভাড়ার নৈরাজ্যের কাছে এ উপজেলার যাত্রীরা বড়ই নিশ্চুপ এবং অসহায়।

শহরের গণপরিবহনে ভাড়ার নৈরাজ্য উপেক্ষা করে ঈদের আনন্দে নাড়ির টানে পরিবার-পরিজন নিয়ে গ্রামে ঈদ করতে এসেও যেন শান্তি নেই শহর থেকে আসা এবং গ্রামে বসবাস করা মানুষের।

আরও পড়ুন: হরিদাসের অর্থের উৎস ও দাতাদের পরিচয় জানতে চায় পুলিশ

বৃহস্পতিবার (২৮ মে) ঈদুল আজহার দিন বিকেলে উপজেলার আওয়াল বাঁধ এলাকায় এক ভ্যানচালকের সঙ্গে হাশেম আলী নামে এক যাত্রীর বাকবিতণ্ডার সময় সরেজমিনে কথা হয় তার সঙ্গে। তিনি বলেন, মোহনগঞ্জ বাজার থেকে এই এলাকার নির্ধারিত ভাড়া ২০ টাকা। ঈদ উপলক্ষে তিনি আরও ১০ টাকা অতিরিক্ত ভাড়া বকশিশ দিয়েছেন। এতে ভ্যানচালক খুশি না হয়ে দ্বিগুণ ভাড়া ৪০ টাকা দাবি করেন ওই যাত্রীর কাছে। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে কিছু সময় বাকবিতণ্ডা শুরু হলে পরে প্রত্যক্ষদর্শীরা মিটিয়ে দেন।

ঈদের পরের দিন উপজেলার প্রাণকেন্দ্র সিঅ্যান্ডবি বাসস্ট্যান্ডে কথা হয় কাজিরহাট থেকে সিএনজিতে আসা যাত্রী বাচ্চু মোল্লার সঙ্গে। তিনি জানান, কাজিরহাট থেকে বেড়া সিঅ্যান্ডবি পর্যন্ত সরকার নির্ধারিত ভাড়া ৬০ টাকা। কিন্তু ঈদ উপলক্ষে তিনি ২০০ টাকা ভাড়া দিয়েছেন।

আরও পড়ুন: একতা এক্সপ্রেস লাইনচ্যুত, থমকে উত্তরবঙ্গের রেলপথ

সড়কপথে ভাড়ার নৈরাজ্য ঠেকাতে প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করছেন না কেন—এ প্রশ্নের জবাবে তিনি সাংবাদিককে বলেন, “প্রশাসনকে বলে কী লাভ ভাই! মাঝে মাঝে প্রশাসন লোক দেখানো অভিযান করে। চলে যাওয়ার পর সিএনজি চালকদের ভাড়ার নৈরাজ্য তেমনই থেকে যায়।”

অনেক যাত্রী আক্ষেপ করে আরও বলেন, বিগত সরকারের আমলে ঈদের এক সপ্তাহ আগে থেকে ঈদ-পরবর্তী এক সপ্তাহ পর্যন্ত নৌপথ ও গণপরিবহনের পাশাপাশি গ্রামাঞ্চলের সিএনজি, অটোরিকশা ও অটোভ্যানে চলাচলে তাদের দ্বিগুণ-তিনগুণ ভাড়া গুনতে হয়েছে। তারা ভেবেছিলেন নতুন সরকার এলে অন্তত এই ভাড়ার নৈরাজ্য থেকে রেহাই পাবেন, কিন্তু সেটি যেন “শুভঙ্করের ফাঁকি”।

উপজেলার বিভিন্ন হাটবাজার ও লোকসমাগম এলাকায় অনেক যাত্রীর সঙ্গে কথা বলে আরও জানা যায়, দ্বিগুণ ভাড়ার কারণে শত শত মানুষ জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ঈদের তিন-চার দিন পরে বাইরে বের হন। তখন নির্ধারিত ভাড়ায় আঞ্চলিক সড়কে চলাচলকারী ছোট যানবাহনে যাতায়াত করা যায় এবং চালকদের সঙ্গে কোনো তর্কবিতর্কও করতে হয় না।

আবার কেউ কেউ সিএনজি, অটোরিকশা ও অটোভ্যানের দ্বিগুণ-তিনগুণ ভাড়ার নৈরাজ্য থেকে রেহাই পেতে নিকটবর্তী গন্তব্যে হেঁটেই যাতায়াত করেন।

বেড়া উপজেলা রিকশা-ভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মো. মঈন উদ্দীন খাজা বলেন, “আমরা যতটুকু জানি, ঈদ উপলক্ষে অটোরিকশা ও ভ্যানচালকরা যাত্রীদের কাছ থেকে ঈদের আগে এবং ঈদের পরে দুই-তিন দিন খুশিমনে বকশিশ চেয়ে নেন। তবে দ্বিগুণ ভাড়ার বিষয়ে এখনও আমাদের কাছে কেউ কোনো অভিযোগ করেননি।”