প্রধানমন্ত্রীর রেড টেলিফোনের তার চুরি সচিবালয়ে

Sadek Ali
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ১০:৩৩ পূর্বাহ্ন, ০৩ জুন ২০২৬ | আপডেট: ৪:৩৩ অপরাহ্ন, ০৩ জুন ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

দেশের সর্বোচ্চ প্রশাসনিক কেন্দ্র সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর ব্যবহৃত বিশেষ টেলিফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঘটনায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। ঈদুল আজহার ছুটি শেষে সরকারি কার্যক্রম শুরুর দিন বিষয়টি নজরে আসে। পরে দীর্ঘ চেষ্টার পর সংযোগ পুনরুদ্ধার করা হলেও ঘটনাটির কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, প্রয়োজনীয় টেলিযোগাযোগ সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ টেলিফোনটি অচল হয়ে পড়ে। খবর পাওয়ার পর রাষ্ট্রীয় টেলিযোগাযোগ সংস্থার কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় সাত ঘণ্টার প্রচেষ্টায় সংযোগ পুনরায় সচল করেন।

আরও পড়ুন: শ্রমবাজার বিরোধের কেন্দ্রে সেই ফখরুল!

ঘটনার পর থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে। একই সঙ্গে একাধিক সরকারি ও নিরাপত্তা সংস্থা বিষয়টি তদন্ত করছে।

কর্মকর্তারা বলছেন, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ টেলিফোন রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ ব্যবস্থার অংশ। উচ্চপর্যায়ের সরকারি দপ্তর ও দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগে এটি ব্যবহৃত হয়। ফলে এমন সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঘটনাকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।

আরও পড়ুন: ডেপুটি স্পিকারের সঙ্গে চীনের বিদায়ী রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের সৌজন্য সাক্ষাৎ

সচিবালয়ের একাধিক কর্মকর্তা নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, দেশের গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক স্থাপনা হওয়া সত্ত্বেও নিরাপত্তা ব্যবস্থায় আরও কার্যকর নজরদারি প্রয়োজন। অতীতে বিভিন্ন সময় নিরাপত্তা বলয় ভেঙে অননুমোদিত প্রবেশের ঘটনাও ঘটেছে বলে তারা উল্লেখ করেন।

জানা গেছে, অফিস খোলার দিন সকালে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা টেলিফোন সংযোগে সমস্যা শনাক্ত করেন। পরে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবহিত করা হয়।

রাষ্ট্রীয় টেলিযোগাযোগ সংস্থার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রাথমিক অনুসন্ধানে সংযোগ লাইনে বিচ্ছিন্নতার বিষয়টি ধরা পড়ে। তবে কী কারণে এ ঘটনা ঘটেছে, তা নিশ্চিত হতে তদন্ত চলছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, সচিবালয়ের পুরোনো ও নতুন ভবনের মধ্যকার কিছু তামার তার কাটা ও বিচ্ছিন্ন অবস্থায় পাওয়া গেছে। কয়েকটি স্থানে তারের অংশ অনুপস্থিতও ছিল। এর ফলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের টেলিফোন সংযোগ ব্যাহত হয়।

প্রতিবেদনে ঘটনাটির পূর্ণাঙ্গ তদন্ত, সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা এবং জড়িতদের শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মনে করছেন, সচিবালয় এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়সহ গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা প্রয়োজন। এ বিষয়ে বিভিন্ন সময় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে বলেও তারা জানিয়েছেন।

ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে সংশ্লিষ্ট গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা সংস্থাগুলো তদন্ত কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।