গণভোটের ব্যতিক্রমী প্রচারে ভোটের রিকশা কর্মসূচির উদ্বোধন
গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে জনগণের মাঝে সরাসরি সচেতনতা তৈরির ব্যতিক্রমী প্রচার কার্যক্রমে উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। যেখানে গণভোটে হ্যাঁ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
আজ (২০ জানুয়ারি) সকালে সাভার রেডিও কলোনি মাঠে গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের আয়োজনে গণভোটের প্রচারে “ভোটের রিকশা” কর্মসূচির উদ্বোধন করেন তথ্য ও সম্প্রচার, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন এবং পানিসম্পদ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান।
আরও পড়ুন: অধ্যাপক ডা. এম এ হাদীর ১৯তম শাহাদাতবার্ষিকীতে স্মরণসভা, চিকিৎসা শিক্ষায় অবদানের কথা স্মরণ
তিনি জাতীয় স্বার্থে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার পক্ষে বিভিন্ন যুক্তি তুলে ধরে বলেন, দেশে আর কোনোদিন চার মিনিটের আইন আর চার মিনিটে সংবিধান সংশোধন হবে না যদি আপনারা হ্যাঁ ভোট দেন। এ সময় তিনি বলেন, যদি দেশ জিতে যায়, আমরা সকলে জিতে যাব। তাই ব্যক্তি ও রাজনৈতিক স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে হ্যাঁ ভোট দিতে সকলকে আহ্বান জানান উপদেষ্টা।
অনুষ্ঠানে উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, ব্যক্তি কিংবা দলীয় অবস্থানের ঊর্ধ্বে উঠে দেশের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে গণভোটে হ্যাঁ ভোট দিতে হবে। জাতীয় নির্বাচনে কাকে ভোট দেবেন, সেটি জনগণের নিজস্ব সিদ্ধান্ত হলেও রাষ্ট্রীয় সংস্কারের প্রশ্নে সংকীর্ণতার কোনো সুযোগ নেই।
আরও পড়ুন: আশুলিয়ায় শ্রমিক আন্দোলন: কঠোর অবস্থানে পুলিশ, মাঠে ডিআইজি
তিনি আরও বলেন, প্রত্যেক নাগরিক কোনো না কোনো রাজনৈতিক আদর্শে বিশ্বাসী হতেই পারেন। কিন্তু গণভোটের ক্ষেত্রে বিষয়টি ভিন্ন। দেশের ভবিষ্যৎ, ক্ষমতার ভারসাম্য এবং ইতিবাচক পরিবর্তনের স্বার্থে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়া জরুরি।
জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যেই জুলাই সনদ প্রণয়ন করা হয়েছে উল্লেখ করে উপদেষ্টা বলেন, সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা ও মতামতের ভিত্তিতে এই সনদে স্বাক্ষর হয়েছে। সনদের ১২টি বিষয়কে সামনে রেখে চারটি প্রশ্নে হ্যাঁ-না ভোট অনুষ্ঠিত হবে।
সরকারের অবস্থান ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, সরকার হ্যাঁ ভোটের পক্ষে প্রচার করতে পারে—এটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার অংশ। উন্নত দেশগুলোতেও সরকার পক্ষ-বিপক্ষে অবস্থান নেয়। তবে কাউকে না ভোট দিতে বাধা দেওয়া হচ্ছে না, এটিই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য।
অনুষ্ঠানে তথ্য ও সম্প্রচার সচিব মাহবুবা ফারজানা বলেন, সুশাসন নিশ্চিত করতে হলে সংস্কারের পক্ষে অবস্থান নিতে হবে। কর্তৃত্ববাদী শাসনের অবসান এবং একটি সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়তে গণভোটে হ্যাঁ ভোটকে বিজয়ী করতে হবে।
এর আগে তিনি আকাশে বেলুন উড়িয়ে ও ফিতা কেটে ভোটের রিকশা কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন করেন। এ সময় তাঁর সঙ্গে মন্ত্রণালয়ের অন্যান্য কর্তাব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।





