বেপরোয়া কিশোর গ্যাংয়ের অত্যাচারে অশান্ত সাভার-আশুলিয়া

Sadek Ali
মো. রফিকুল ইসলাম জিলু, সাভার
প্রকাশিত: ১:৩৪ অপরাহ্ন, ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ | আপডেট: ৩:০২ অপরাহ্ন, ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

ঢাকার সন্নিকটবর্তী সাভার ও ,আশুলিয়া এলাকায় সম্প্রতি কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা উদ্বেগজনক হারে বেড়ে উঠেছে। বিভিন্ন এলাকায় সংঘবদ্ধ কিশোরদের দাপটে জনমনে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে মারধর, চাঁদাবাজি, ছিনতাই ও এলাকাভিত্তিক আধিপত্য বিস্তারের অভিযোগে কিশোর গ্যাং এখন সামাজিক নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সাভার ও আশুলিয়ার বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায় একাধিক কিশোর গ্যাং সক্রিয় রয়েছে। স্কুলপড়ুয়া ও অল্পবয়সী এসব কিশোররা দল বেঁধে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে প্রকাশ্যে মহড়া দেয় এবং নিজেদের এলাকায় প্রভাব বিস্তার করার চেষ্টা করে। অনেক সময় সাধারণ মানুষকে অহেতুক হুমকি দেওয়া, দোকানদারদের কাছ থেকে চাঁদা আদায় এবং পথচারীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের ঘটনাও ঘটছে।

আরও পড়ুন: সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদার, নির্বাচনকে ঘিরে প্রস্তুত ৫৫ বিজিবি

বিশেষ করে সন্ধ্যার পর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত কিশোর গ্যাংয়ের উৎপাত বেড়ে যায় বলে জানান এলাকাবাসী। নির্জন সড়ক, অলিগলি ও খেলার মাঠে আড্ডার নামে তারা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে। প্রতিবাদ করতে গেলে অনেক ক্ষেত্রে ভুক্তভোগীদের ওপর হামলার ঘটনাও ঘটছে, যা সাধারণ মানুষকে আরও ভীত করে তুলছে।

এই পরিস্থিতির প্রভাব পড়ছে কিশোরদের ভবিষ্যৎ জীবনেও। পড়াশোনার বদলে অনেক কিশোর সহজে প্রভাবিত হয়ে অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। অভিভাবকদের একটি অংশ সন্তানদের চলাফেরা নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হচ্ছেন বলে স্বীকার করছেন। মাদকাসক্তি, বেকারত্ব ও সামাজিক নজরদারির অভাব কিশোর গ্যাং তৈরির অন্যতম কারণ বলে মনে করছেন সচেতন মহল।

আরও পড়ুন: রায়পুরায় গোষ্ঠীগত সংঘর্ষে স্কুলছাত্র নিহত, গুলিবিদ্ধসহ আহত অন্তত ১০

ব্যবসায়ী ও শিক্ষার্থীরাও এই অত্যাচারের শিকার হচ্ছেন। দোকানের সামনে আড্ডা দিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি, শিক্ষার্থীদের হয়রানি এবং স্কুলগামী প

থেও ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ রয়েছে। ফলে স্বাভাবিক সামাজিক পরিবেশ ব্যাহত হচ্ছে এবং এলাকার সুনাম ক্ষুণ্ন হচ্ছে।

এলাকাবাসীর মতে, কিশোর গ্যাং দমনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আরও সক্রিয় ভূমিকা প্রয়োজন। নিয়মিত টহল জোরদার, অপরাধে জড়িত কিশোরদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা এবং তাদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি। পাশাপাশি পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সমাজের সম্মিলিত উদ্যোগ ছাড়া এই সমস্যা দীর্ঘমেয়াদে সমাধান সম্ভব নয়।

সাভার-আশুলিয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ শিল্প ও আবাসিক এলাকায় নিরাপদ সামাজিক পরিবেশ নিশ্চিত করতে কিশোর গ্যাংয়ের অত্যাচার রোধ এখন সময়ের দাবি। সচেতনতা, সামাজিক দায়বদ্ধতা ও কার্যকর আইন প্রয়োগের মাধ্যমে এই অশান্ত পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পাওয়ার প্রত্যাশা করছেন এলাকাবাসী।