গাজীপুরের জনসভায় তারেক রহমান

ক্ষমতায় গেলে শ্রমিকদের জন্য স্বল্পমূল্যে আবাসনের ব্যবস্থা করা হবে

Sadek Ali
বাংলাবাজার রিপোর্ট
প্রকাশিত: ৮:৩৪ পূর্বাহ্ন, ২৮ জানুয়ারী ২০২৬ | আপডেট: ১০:০২ পূর্বাহ্ন, ২৮ জানুয়ারী ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

আগামী নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে ক্ষমতায় গেলে দেশের লাখ লাখ গার্মেন্ট শ্রমিকদের থাকার জন্য স্বল্পমূল্যে আবাসনের ব্যবস্থা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, শ্রমিক ভাইদের জন্য আমাদের একটি পরিকল্পনা আছে। তাদের আবাসনের সমস্যা আছে। তাদেরকে স্বল্পমূল্যে যাতে থাকার ব্যবস্থা করা যায় সেটিরও একটি পরিকল্পনা রয়েছে আমাদের। মঙ্গলবার রাত ১২টায় গাজীপুরের ঐতিহাসিক রাজবাড়ী মাঠে মহানগর বিএনপি আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে সন্ধ্যায় ময়মনসিংহের জনসভা শেষ করে তারেক রহমানের গাড়িবহর গাজীপুরে পৌঁছাতে ৬ ঘণ্টা লেগে যায়। স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমানকে নিয়ে তারেক রহমান যখন রাজবাড়ীর জনসভা মাঠে পৌঁছান তখন হাজার হাজার নেতাকর্মী স্লোগান দিয়ে তাকে স্বাগত জানান। ময়মনসিংহ থেকে গাজীপুর পৌঁছতে দেরি হওয়ায় উপস্থিত সবার কাছে দুঃখ প্রকাশ করে তারেক রহমান বলেন, গাজীপুর শুধু শিল্পনগরী নয়, এটি গার্মেন্টের রাজধানী। এই গার্মেন্টে লাখ লাখ মা-বোন ও ভাইয়েরা কাজ করেন। এই গার্মেন্ট শিল্প কে এনেছেন, জানেন আপনারা? উপস্থিত সবার কাছে প্রশ্ন রেখে তারেক রহমান বলেন, কে এনেছিল বলেন তো- শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এই গার্মেন্ট শিল্প বাংলাদেশে নিয়ে এসেছিলেন। যার ফলে লক্ষ লক্ষ মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হয়েছে। মা-বোনদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হয়েছে। এই যে বিদেশে আমাদের শ্রমিক ভাইয়েরা যান সেই শ্রমিক পাঠানোর ব্যবস্থা কে করেছিলেন। সেটাও শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান করেছেন। অর্থাৎ বিএনপি সরকারই করেছিল। এছাড়া আমাদের মেয়েরা যে স্কুলে ফ্রি শিক্ষা পাচ্ছে সেটা কে করেছে। সেটাও করেছেন বেগম খালেদা জিয়া। কাজেই তিনটাতেই একটা জিনিস বুঝিয়ে দিলাম- এই দেশে খেটে-খাওয়া মানুষের জন্য যদি কোনো দল কাজ করে সেটা হলো বিএনপি।  

আগামী ১২ তারিখ বিএনপি জয়ী হলে অনেকগুলো পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, আমরা অনেকগুলো পরিকল্পনা নিয়েছি। তার মধ্যে একটি হলো- গার্মেন্ট শিল্পের মতো নতুন আরো শিল্প আনবো। সেখানে আরও বেশি সংখ্যক মা-বোনরা কাজ করতে পারেন। সেখানে তরুণ ভাইদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হবে। নতুন শিল্প আমরা এই দেশে নিয়ে আসবো।  যেখান থেকে আরও  বেশি পণ্য বিদেশে রপ্তানি হবে। 

আরও পড়ুন: উত্তরার জলাবদ্ধতা ও গ্যাস সমস্যার সমাধান করবেন ধানের শীষ বিজয়ী: তারেক রহমান

তিনি আরও বলেন, লক্ষ লক্ষ মা-বোন আছেন, তাদের কথা চিন্তা করে আরেকটি পরিকল্পনা করেছি। যে মায়েরা খেটে খায় সেই মায়েদের জন্য দলমত নির্বিশেষে ফ্যামিলি কার্ড দেব। সেই কার্ডের মাধ্যমে প্রতিটি মায়ের কাছে সরকারের পক্ষ থেকে সহায়তা দিব যেন মাস শেষে তাদের কষ্ট কিছুটা কম হয়। এছাড়া গাজীপুরের বিভিন্ন জায়গায় বহু কৃষক ভাই আছেন, আমরা কৃষক ভাইদের সহযোগিতা করতে চাই। কৃষকদের কৃষি কার্ড দিতে চাই। যেই কার্ডের মাধ্যমে কৃষক ভাইদের কাছে সহযোগিতা পৌঁছে দেব। যাতে করে কৃষক ভাইদের উপকার হয়। 

তিনি বলেন, শুধু গাজীপুরের মানুষের সমস্যার কথা ভেবে কিছু চিন্তা-ভাবনা করেছি।  যেমন জয়দেবপুর রেলক্রসিংয়ের ওপর ওভারব্রিজ নির্মাণ করা, যেটা বাস্তবায়ন করলে অসহ্য যানজট দূর হবে। নারী শ্রমিকদের সকল শিল্প কারখানায় ডে কেয়ার সেন্টার করার পরিকল্পনা নিয়েছি। তারা যেন সন্তানদের নিয়ে টেনশনে না থাকেন। তাদের বাচ্চারা যেন ঠিকভাবে থাকে।

আরও পড়ুন: জামায়াতের দুই মন্ত্রী তখন কেন পদত্যাগ করেননি: তারেক রহমান

বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, গাজীপুরে বড় বড় কয়েকটি খাল আছে- তুরাগ, লবণদহ, চিলাইখাল। এগুলো দূষণে সব বন্ধ হয়ে গেছে। এটা কি পরিষ্কার করা দরকার। আমরা যদি পরিষ্কার করা শুরু করি তখন আপনারা করবেন এমন প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, কারা কারা করবেন হাত তুলেন। ইনশাআল্লাহ ১২ তারিখ ধানের শীষ বিজয়ী হলে তিনটি খালই দুষণমুক্ত করবো আমরা। পুনর্খনন করবো আমরা যেন সেগুলো দিয়ে পরিষ্কার পানি চলাচল করতে পারে। তিনি বলেন, এছাড়া শ্রমিক ভাই-বোনদের চিকিৎসার জন্য হেলথ কার্ড দিবো। যাতে করে মায়েরা এবং বাচ্চারা ছোটখাটো অসুখ ঘরে বসেই তারা পেতে পারে। এসময় উপস্থিত সবার কাছে পরিকল্পনাগুলো ভালো না খারাপ জানতে চান তারেক রহমান। উপস্থিত নেতাকর্মীরা সমস্বরে হ্যাঁ বলে জবাব দেন। তারেক রহমান বলেন, এই কাজগুলো যদি আমাদের করতে হয় তাহলে ধানের শীষকে বিজয়ী করা লাগবে। এসময় গাজীপুরের ৫টি আসনের প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেন তিনি। সবাইকে বিজয়ী করার আহ্বান জানান তারেক রহমান। বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, ১২ তারিখ ভোট কেন্দ্রে কখন যাবেন? যার যার ভোট কেন্দ্রে জামাত করে ফজর পড়বেন। যাতে আগে থেকে সেখানে অবস্থান নিতে না পারে। যেন কেউ ষড়যন্ত্র করে আগেই কেন্দ্রে ঢুকে যেতে না পারে। গত ১৫-১৬ বছর আপনারা দেখেন ভোটের অধিকার কিভাবে ডাকাতি করে নিয়েছিল। এবার ভোট ডাকাতি হতে দেবেন না। 

গাজীপুরবাসীর উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনাদের কাছে আমার একটা হক আছে। এখানে দুইটা বাংলো ছিল। স্বাধীনতা যুদ্ধের আগে প্রথম বাংলোটাতে আব্বা, আম্মা আমি আর আমার ছোটভাই থাকতাম। এই ভাওয়াল মাঠে ছোটবেলায় খেলাধুলা করেছি। এখানে শৈশব কাটিয়েছি। আমার শিশুকাল আপনাদের সাথে কেটেছে। কাজেই আমারও দাবি ধানের শীষকে জয়যুক্ত করার। তিনি বলেন, আন্দোলন হয়েছে, সংগ্রাম হয়েছে, স্বৈরাচার বিদায় হয়েছে দেশ থেকে। এখন দেশ গড়ার পালা। এখন মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করার সময়। কাজেই আমাদের পরিশ্রম করতে হবে। আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। আমরা ঐক্যবদ্ধ থাকি, কাজ করি, পরিশ্রম করি ইনশাআল্লাহ আমাদের প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারবো।  সেজন্যই আমি বলি করবো কাজ গড়বো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ। উপস্থিত সবাইকে সতর্ক করে দিয়ে তিনি বলেন, আমাদেরকে সঠিক লোককে ভোট দিতে হবে। যাতে এলাকার মানুষের সমস্যার সমাধান করতে পারে। এবং আমাদের সতর্ক থাকতে হবে। যেই অধিকার আদায়ের জন্য হাজার হাজার মানুষ জীবন দিয়েছে সেই অধিকার যেন ষড়যন্ত্র করে আর কেউ কেড়ে নিতে না পারে। ইনশাআল্লাহ খাল খনন কর্মসূচিতে দেখা হবে ১২ তারিখের পর। 

গাজীপুর মহানগর বিএনপি সভাপতি শওকত হোসেন সরকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন, সাবেক সংসদ সদস্য হাসান উদ্দিন সরকার, ঢাকা বিভাগীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী ছাইয়্যেদুল আলম বাবুল, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও গাজীপুর-৫ আসনের প্রার্থী একেএম ফজলুল হক মিলন, গাজীপুর-১ আসনের প্রার্থী মজিবুর রহমান, মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও গাজীপুর-২ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী এম. মঞ্জুরুল করিম রনি,  গাজীপুর-৩ আসনের প্রার্থী ডা. রফিকুল ইসলাম বাচ্চু, গাজীপুর-৪ আসনের প্রার্থী শাহ রিয়াজুল হান্নান, বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য ডা. মাজহারুল আলম, হেফাজত নেতা নাসির উদ্দিন। 

তারেক রহমানের এই জনসভাকে ঘিরে  সকাল থেকেই  বিএনপির নেতাকর্মীদের মাঝে বিরাজ করে উৎসবরে আমেজ। দীর্ঘ ২০ বছর নয় মাস ২৮ দিন পর তারেক রহমানের আগমনকে কেন্দ্র করে ব্যানার, ফেস্টুনে ছেয়ে যায় পুরো রাজবাড়ী ময়দান। দুপুরের পর থেকে দলে দলে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা মিছিল নিয়ে মাঠে আসতে শুরু করেন। সন্ধ্যার আগে পুরো রাজবাড়ী মাঠ জনসমুদ্রে পরিণত হয়। এদিকে গাজীপুরের জনসভা শেষ করে তারেক রহমান গাড়িবহর নিয়ে রাজধানীর উত্তরার জনসভার উদ্দেশে রওনা হন।