গবেষণা থামিয়ে দিয়ে সিন্ডিকেটের দাপট

পরমাণু শক্তি গবেষণার ডিজির বিরুদ্ধে ৩৫ দেশ ভ্রমণসহ ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ

Sadek Ali
জাহাঙ্গীর আলম প্রধান, আশুলিয়া
প্রকাশিত: ১:১৬ অপরাহ্ন, ২১ জানুয়ারী ২০২৬ | আপডেট: ১:১৬ অপরাহ্ন, ২১ জানুয়ারী ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি গবেষণা প্রতিষ্ঠানে গবেষণার পরিবেশ কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন প্রতিষ্ঠানের মহাপরিচালক (ডিজি) ড. এ এস এম সাইফুল্লাহ। 

গবেষণা কাজে বাধা, প্রশাসনের ভেতরে শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে তোলা এবং রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে এক দশকে ৩৫ বার বিদেশ সফরের অভিযোগে প্রতিষ্ঠানজুড়ে তীব্র অসন্তোষ বিরাজ করছে।

আরও পড়ুন: আশুলিয়ায় সাংবাদিক পরিচয়ে শ্রমিক নেতাদের মারধর ও লুটপাটের অভিযোগ

ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর কীভাবে ড. সাইফুল্লাহ মহাপরিচালকের পদে আসীন হলেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞানী ও কর্মকর্তারা।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, ২০১৫ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত তিনি অন্তত ৩৫ বার বিদেশ সফর করেছেন। এসব সফরের গন্তব্য ছিল অস্ট্রিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স, দক্ষিণ কোরিয়া, নেদারল্যান্ডস, সিঙ্গাপুর ও চীনসহ ১৩টি দেশ। অভিযোগ রয়েছে, আন্তর্জাতিক সেমিনার ও প্রশিক্ষণে নিয়মিতভাবে নিজেই অংশ নিয়ে তিনি জ্যেষ্ঠ ও মেধাবী বিজ্ঞানীদের সেই সুযোগ থেকে বঞ্চিত করেছেন।

আরও পড়ুন: পাচারচক্রের হাত থেকে শিশু উদ্ধার, পাচারকারী নারী গ্রেফতার

সংশ্লিষ্টরা জানান, জীববিজ্ঞান শাখার বিজ্ঞানী হওয়া সত্ত্বেও তিনি ভৌতবিজ্ঞান, প্রকৌশল ও পরিকল্পনা শাখার বিদেশি প্রশিক্ষণেও অংশ নিয়েছেন। এতে সংশ্লিষ্ট শাখার প্রকৃত গবেষকরা আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ হারিয়েছেন।

প্রতিষ্ঠানের একাধিক বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তার অভিযোগ, মহাপরিচালক পরিকল্পিতভাবে গবেষণার গুরুত্বপূর্ণ ফাইল মাসের পর মাস আটকে রাখেন। গবেষণা প্রকল্প, ল্যাব উন্নয়ন বা আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংক্রান্ত নথি ঝুলে থাকলেও কেনাকাটা ও আর্থিক সুবিধা সংক্রান্ত ফাইল দ্রুত নিষ্পত্তি করা হয়। তাদের ভাষায়,গবেষণা নয়, সুবিধাভোগীদের স্বার্থই এখানে অগ্রাধিকার পাচ্ছে।

অভিযোগ রয়েছে, ড. সাইফুল্লাহ প্রতিষ্ঠানের ভেতরে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট তৈরি করেছেন। এই সিন্ডিকেটের সদস্যরা গবেষণার পরিবর্তে বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ কমিটির পদ দখল, সম্মানী ও বিদেশ সফরের সুযোগ নিয়ে ব্যস্ত। যোগ্য বিজ্ঞানীদের কাজ ও কৃতিত্ব যাতে সামনে না আসে, সে জন্য ইচ্ছাকৃতভাবে বাধা দেওয়া হয়।

ড. সাইফুল্লাহর বিরুদ্ধে ২০১৭ সালের একটি বিদেশ সফর নিয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও আলোচিত। ওই বছর অস্ট্রিয়ার ভিয়েনায় আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) সম্মেলনে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে দাতা সংস্থা সম্পূর্ণ ব্যয় বহনের কথা থাকলেও পরে আদেশ পরিবর্তন করে কমিশনের তহবিল থেকে অর্থ পরিশোধ দেখানো হয়। এ ঘটনায় সরকারি অর্থ ব্যবহারের বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সম্প্রতি একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, প্রায় ১০ কোটি টাকার বিনিময়ে তিনি মহাপরিচালকের পদ বাগিয়ে নেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক জ্যেষ্ঠ বিজ্ঞানী বলেন, একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠানে বছরের পর বছর একই ব্যক্তি বিদেশ সফরে গেলে আর সিন্ডিকেট দিয়ে প্রতিষ্ঠান চালালে গবেষণা ধ্বংস হয়ে যায়। এখানেও সেটাই হচ্ছে।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে মহাপরিচালক ড. এ এস এম সাইফুল্লাহর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

ড. সাইফুল্লাহর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞানী ও কর্মকর্তারা। অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।