একই দিনে নির্বাচন ও গণভোট, ভোট গণনায় সময় বেশি লাগতে পারে: প্রেস সচিব

Sanchoy Biswas
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ৫:১১ অপরাহ্ন, ২১ জানুয়ারী ২০২৬ | আপডেট: ৭:৫০ অপরাহ্ন, ২২ জানুয়ারী ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট একই দিনে অনুষ্ঠিত হওয়ায় এবার ভোট গণনায় স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।

বুধবার (২১ জানুয়ারি) রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে সমসাময়িক বিষয় নিয়ে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা জানান।

আরও পড়ুন: ১১ ও ১২ ফেব্রুয়ারির ছুটির প্রজ্ঞাপন জারি

প্রেস সচিব বলেন, একসঙ্গে সংসদ নির্বাচন ও গণভোট হওয়ায় ব্যালট গণনার কাজ জটিল হবে, ফলে ফলাফল প্রকাশে কিছুটা বিলম্ব হতে পারে। তবে নির্বাচন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিতে সরকার সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়েছে।

তিনি জানান, নির্বাচনের সময় তথ্যের অবাধ প্রবাহ ও যোগাযোগ ব্যবস্থা নির্বিঘ্ন রাখতে চারটি মোবাইল ফোন অপারেটরকে উন্নত ইন্টারনেট সেবা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন: নির্বাচনের দিন ও আগে সহিংসতার দায় আ.লীগের: অন্তর্বর্তীকালীন সরকার

নির্বাচনী নিরাপত্তা জোরদারে পুলিশের কাছে থাকবে ২৫ হাজার ৫০০টি বডি অন ক্যামেরা। এসব ক্যামেরার ফুটেজ ‘সুরক্ষা’ অ্যাপে যুক্ত করা হবে, যার মাধ্যমে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে বলে জানান প্রেস সচিব।

তিনি আরও বলেন, ভোটের দিন নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে প্রধান উপদেষ্টা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন। পাশাপাশি সম্প্রতি লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে তৎপর থাকার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

শফিকুল আলম জানান, নির্বাচন প্রস্তুতি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যালোচনায় প্রধান উপদেষ্টার নেতৃত্বে সরকারের উচ্চপর্যায়ের একটি জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে নির্বাচনকালীন সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

তিনি বলেন, নির্বাচনের সময় সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা রিটার্নিং কর্মকর্তার অধীনে সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালন করবেন। এ সময় প্রায় ১ লাখ সেনা সদস্য, নৌবাহিনীর ৫ হাজার এবং বিমানবাহিনীর সাড়ে ৩ হাজার সদস্য মাঠে থাকবেন। অন্যান্য বাহিনীর পাশাপাশি ফায়ার সার্ভিসও নির্বাচনী দায়িত্বে থাকবে। নির্বাচনী নিরাপত্তা তদারকিতে ব্যবহৃত হবে ৫০০টি ড্রোন।

প্রেস সচিব আরও জানান, পাবনা-১ ও পাবনা-২ আসন নিয়ে কিছু শঙ্কা থাকলেও ওই দুটি আসনসহ দেশের সব ৩০০ সংসদীয় আসনেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

তিনি বলেন, এবারের নির্বাচনে মোট ১ হাজার ৮৪২ জন বৈধ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে থাকবেন ৬৯ জন রিটার্নিং অফিসার, ৬৫৭ জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এবং ১ হাজার ৪৭ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। জেলা পর্যায়ে জেলা প্রশাসক এবং উপজেলা পর্যায়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন।

নির্বাচনকালীন নিরাপত্তা ও সমন্বয় কার্যক্রম পরিচালনায় ‘নির্বাচনী সুরক্ষা’ নামে একটি অ্যাপ ব্যবহার করা হবে বলেও জানান তিনি।