হবিগঞ্জ সীমান্তে ৯৫ বোতল ভারতীয় মদ ও সিএনজিসহ দুই মাদক কারবারি আটক

Sadek Ali
নুরুজ্জামান ভূইয়া, হবিগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ২:২৫ অপরাহ্ন, ১২ জুলাই ২০২৬ | আপডেট: ৫:১৫ অপরাহ্ন, ১২ জুলাই ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

হবিগঞ্জের সীমান্তবর্তী এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে ৯৫ বোতল ভারতীয় বিভিন্ন প্রকার মদ, একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা এবং দুই মাদক চোরাকারবারীকে আটক করেছে ৫৫ বিজিবি। জব্দকৃত মালামালের আনুমানিক সিজার মূল্য প্রায় ৮ লাখ টাকা।

শনিবার (১২ জুলাই) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে হবিগঞ্জ ব্যাটালিয়ন (৫৫ বিজিবি)-এর বাল্লা বিওপির একটি বিশেষ টহল দল চুনারুঘাট উপজেলার সীমান্তবর্তী ছেকানগর বাজার এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় সীমান্ত থেকে প্রায় দেড় কিলোমিটার বাংলাদেশের অভ্যন্তরে একটি সন্দেহভাজন সিএনজিচালিত অটোরিকশা তল্লাশি করে সুকৌশলে লুকিয়ে রাখা ৯৫ বোতল ভারতীয় বিভিন্ন প্রকার মদ উদ্ধার করা হয়। পরে মদ বহনে ব্যবহৃত সিএনজিসহ দুই ব্যক্তিকে আটক করা হয়।

আরও পড়ুন: কানে তুলা, হাতে থালা; শব্দদূষণের বিরুদ্ধে কলেজ শিক্ষকের ব্যতিক্রমী প্রতিবাদ

আটক ব্যক্তিরা হলেন— চুনারুঘাট উপজেলার কোনাগাঁও গ্রামের আব্দুল মোতালেবের ছেলে মো. নুরুল ইসলাম (২৬) এবং একই গ্রামের মো. ময়না মিয়ার ছেলে মো. সুমন মিয়া (২১)।

বিজিবি জানিয়েছে, উদ্ধার করা ভারতীয় মদ, জব্দকৃত সিএনজি এবং আটক দুই আসামির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য চুনারুঘাট থানায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।

আরও পড়ুন: জলাবদ্ধতায় নাকাল পটুয়াখালী শহর, দ্রুত পদক্ষেপ চান বাসিন্দারা

এদিকে, স্থানীয়রা বিজিবির এ অভিযানে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। ছেকানগর বাজারের চা দোকানদার মো. আব্দুল হাই বলেন, মাদক চোরাচালান রোধে বিজিবির এমন অভিযান এলাকার যুবসমাজকে রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একই এলাকার ব্যবসায়ী মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, সীমান্তে বিজিবির সতর্ক তৎপরতা ও জনসাধারণের সহযোগিতার ফলেই এমন সফল অভিযান সম্ভব হয়েছে, যা এলাকায় নিরাপত্তা বৃদ্ধি করেছে।

বিজিবি সূত্র জানায়, গত ১ জুন থেকে ১২ জুলাই ২০২৬ পর্যন্ত পরিচালিত বিভিন্ন বিশেষ অভিযানে প্রায় ৮ লাখ টাকা মূল্যের ১৩২ কেজি ভারতীয় গাঁজা, ২০৯ বোতল ভারতীয় মদ, ১৫ বোতল বিয়ার এবং ১৫ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে। এ সময় মোট আটজন মাদক কারবারীকেও আটক করা হয়েছে।

৫৫ বিজিবি জানিয়েছে, সীমান্ত এলাকায় মাদক, চোরাচালান ও অন্যান্য অপরাধ দমনে তাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে। জনসাধারণের সহযোগিতায় সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং মাদকের বিরুদ্ধে ‘শূন্য সহনশীলতা’ নীতি বাস্তবায়নে তারা সর্বদা সচেষ্ট থাকবে।