চলতি বর্ষে কাজ শুরুর আগেই ইজিপি সংশোধন দাবি

কাজ করে ঠিকাদার বিল যাচ্ছে বিতর্কিত একাউন্টে অলিগার্ক ১০ ঠিকাদার এখনো দাপুটে

Any Akter
বিশেষ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১২:৪৫ অপরাহ্ন, ০৮ জুলাই ২০২৬ | আপডেট: ১:৫৪ অপরাহ্ন, ০৮ জুলাই ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

ছাত্র-জনতার দীর্ঘ রক্তক্ষয়ী অভ্যুত্থানে স্বৈরাচারী সরকারের পতন হলেও প্রায় দুই বছরেও সরকারের ক্রয় নীতিমালা সংশোধন না করায় বিতর্কিত স্বৈরাচারের দোসর পলাতক ঠিকাদারদের প্রতিষ্ঠানই বড় বড় উন্নয়ন কাজ পাচ্ছে। সরকারের ইজিপি নীতিমালার শর্ত পূরণ করতে না পারায় নতুন কোন ঠিকাদারের পক্ষে উন্নয়ন কাজের টেন্ডার পাওয়া সম্ভব নয়। জাতীয় সংসদে বিষয়টি সংসদ সদস্য উত্থাপন কোন ফলাফল হচ্ছে না। চলতি অর্থবছরে কাজ শুরুর আগেই ঠিকাদাররা ইজিপি সংশোধন করে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত কমিটিকে অনুরোধ জানিয়েছে। অনুসন্ধানে জানা যায়, ৫ আগস্ট ২০২৪ সালে স্বৈরাচারী  সরকারের পতন হলেও সরকারের  ক্রয় সংক্রান্ত নতুন কমিটি ইজিপি নীতিমালার পরিবর্তন করেনি।

ইজিপি ইলেকট্রনিক গভর্নমেন্ট প্রকিউরমেন্ট  নীতিমালা অনুযায়ী সরকারি সকল প্রকার টেন্ডার ক্রয় সংক্রান্ত কাজের প্রতিষ্ঠানের তালিকা  কেন্দ্রীয়ভাবে সংরক্ষণ করা হয়। প্রত্যেক ঠিকাদারি  প্রতিষ্ঠানকে প্রতিবছর নির্ধারিত ফ্রি দিয়ে তালিকাভুক্ত হতে হয়। কেন্দ্রীয়ভাবে সরকারি অনুমোদন প্রাপ্ত প্রতিটি ঠিকাদারের কাজের অভিজ্ঞতা প্রোফাইল টার্ন ওভার ভ্যাট ট্যাক্স দেয়ার পূর্ণ বিবরণ অভিজ্ঞতা লিপিবদ্ধ থাকে। অনুসন্ধানে দেখা যায়, সরকারি কেনাকাটায় ১২ বছর আগে ই-জিপি চালু হলেও এখনো সিন্ডিকেটের কবজায় রয়ে গেছে সরকারি কেনাকাটা। ১০টি মন্ত্রণালয়ে কাজ করেন প্রায় ৫৩ হাজার ঠিকাদার। এর মধ্যে ঘুরেফিরে ৫ থেকে ১০ জন ঠিকাদার বড় বড় কাজগুলি জয়েন ভেঞ্চার নিয়ন্ত্রণ করছে সরকারি ৬৬ প্রতিষ্ঠানে। ৫ শতাংশ পেয়েছেন ৬১ শতাংশ কাজ। মোট কাজের আর্থিক মূল্য ছিল প্রায় ৬ লাখ কোটি টাকা। সরকারের ৬৬ টি প্রতিষ্ঠানের মোট কাজের ৯২% কাজ পেয়েছে দশটি বড় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। গত ১৭ বছরে পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় গড়ে উঠেছে এই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলো।

আরও পড়ুন: আন্তর্জাতিক মানবাধিকার কর্মী আইনবিদ আইরিন খান জাতিসংঘে স্থায়ী প্রতিনিধি নিয়োগ পাচ্ছেন

৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী এই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মালিকরা পালিয়ে গেল তাদের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলো পূর্ণ সক্রিয় আছে সরকারি উন্নয়ন কাজের সুবিধার্থে। ইজিপি নীতিমালা অনুযায়ী কাজের অভিজ্ঞতা না থাকলে কোন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে বড় বড় ঠিকাদারি কাজ পাওয়ার যোগ্য গণ্য করা হয় না। অনেকটা বাধ্য হয়েই পলাতক বিতর্কিত আওয়ামী সহযোগী ব্যক্তিদের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের সাথে জয়েন্ট ভেঞ্চার জেবি চুক্তি করে নতুন ঠিকাদারদের কাজ করতে হয়।  ঠিকাদাররা অভিযোগ করেন সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের দপ্তরগুলিতে আমাদের প্রতিষ্ঠানগুলো ইজিপি নীতিমালার কারণে অযোগ্য হচ্ছে।  সরকারি আইন মানতে গিয়ে অনেকটা বাধ্য হয়েই স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে অংশ নেওয়া বঞ্চিত ঠিকাদাররা পলাতক বিতর্কিত সুবিধাভোগী প্রতিষ্ঠানের সাথে চুক্তি করতে বাধ্য হচ্ছে। বিগত ১৭ বছর দেশের আলোচিত এই দশ শীর্ষ ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ও আওয়ামী লীগের সহযোগী  ছাড়া কোন  উন্নয়ন কাজ ঠিকাদারী পেতো না। যোগ্যতা থাকলেও তাকে নানা কৌশলে অযোগ্য হিসেবে চিহ্নিত করত। বড় বড় ঠিকাদারদের পরামর্শে ইজিপি নীতিমালা করায় তাদের বাদ দিয়ে নতুন  ঠিকাদারদের পক্ষে কোন কাজ না পাওয়ায় অন্য কোন ব্যবসায়ীর সুযোগ সৃষ্টি হয়নি। ইজিপি নীতিমালায় কাজের অভিজ্ঞতার পাশাপাশি সরকারকে ভ্যাট ট্যাক্স ও প্রতিষ্ঠানের টার্ন ওভার অভিজ্ঞতা মূল্যায়ন করতে হয়। টার্ন ওভার অনুযায়ী কাজের অংশীদার হতে হয়। দেখা যায় নতুনরা ও বঞ্চিত  ঠিকাদাররা বিতর্কিত প্রতিষ্ঠানের সাথে জেবি জয়েন্ট ভেঞ্চার  করে কাজ নিলেও  টার্ন ওভার কম থাকায় অংশীদারিত্ব কম নিতে হয়। সর্বনিম্ন ২৫% থেকে ৪৯% পর্যন্ত যৌথ ব্যবসায়িক সমঝোতা করা যায়।

এক্ষেত্রে দেখা যায়, গত দুই বছর ধরে বঞ্চিত অনেক ঠিকাদাররা কাজ করলেও বিল জমা হচ্ছে বিতর্কিত ঠিকাদারদের একাউন্টে। নতুন ঠিকাদাররা কাজ করলেও কাজের অভিজ্ঞতাসহ ট্যাক্স ও ভ্যাট জমা হচ্ছে বিতর্কিত ঠিকাদারের নামে। বিতর্কিতরা পলাতক থাকলেও তাদের প্রতিষ্ঠান আর্থিকভাবে পরিপুষ্ট হয়ে সরকারি কোষাগারি অর্থ দিয়ে সুনাম অর্জন করছে। অথচ উক্ত বিতর্কিত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে দুর্নীতি অনিয়ম বিদেশে অর্থপাচার  নিম্নমানের কাজ অতিরিক্ত আগাম বিল গ্রহণসহ রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডেরও অভিযোগ রয়েছে। দীর্ঘদিন বঞ্চিত ঠিকাদার আদনান রহমান বলেন, অর্থ বিনিয়োগ করে আমরা জয়েন ভেঞ্চারে কাজ করলেও বিলের অর্থ জমা হচ্ছে বিতর্কিত ঠিকাদারের একাউন্টে। সরকারের ইজিপি নীতিমালা চলতি অর্থবছরে কাজের আগেই সংশোধন না করলে বঞ্চিত নতুন ঠিকাদার কোন কাজ পাবে না। ঘুরেফিরে দেশের এই দশ শীর্ষ ঠিকাদারের পেছন পেছন ঘুরতে হবে।

আরও পড়ুন: চীনে টর্নেডো ও ঝড়ে ১৭ জনের মৃত্যু, পূর্ব উপকূলে ধেয়ে আসছে সুপার টাইফুন ‘বাভি’

এপিটি কর্পোরেশনের স্বত্বাধিকারী শফিকুল ইসলাম জানান, ইজিবি সংশোধন না করলে গণঅভ্যুত্থানপন্থী কোন ঠিকাদার কাজ পাবে না। দেশের উন্নয়ন কাজ অংশ নিতে নতুন ঠিকাদার শ্রেণি তৈরি হবে না। শীর্ষ ঠিকাদারদের এই মনোপলি ব্যবসা সাময়িকভাবে হলেও ভেঙ্গে সকল ব্যবসায়ীর জন্য উন্মুক্ত করা উচিত।  ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ-টিআইবির উদ্যোগে বিতর্কিত ঠিকাদারদের দুর্নীতির চিত্র তুলে ধরে ইজিপি নীতিমালা সংশোধনের দাবি জানানো হয়েছে। 

এ বিষয়ে  টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘রাজনৈতিক শক্তি ও ঠিকাদারের দুর্নীতি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ ধারণ করেছে। সরকারি ক্রয় খাত একটি জিম্মি অবস্থায় রয়েছে।’

ই-প্রকিউরমেন্ট ইন বাংলাদেশ-মার্কেট কন্সেন্ট্রেশন, কলিউশন অ্যান্ড পলিটিক্যাল ইনফ্লুয়েন্স- এই নামে প্রতিবেদন প্রকাশ করে। দেখা যায়  ২০১২ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত ই-জিপির মাধ্যমে ক্রয় ব্যবস্থাপনা সম্পন্ন হওয়ার চিত্র। সরকারি  ৬৬টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের কাজ এর মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা হয়। 

ড. ইফতেখরুজ্জামান বলেন, ‘সরকারের কেনা-কাটার ব্যাপারে সবার প্রত্যাশা ছিল ইজিপিতে স্বচ্ছভাবে সব কাজ হবে। গবেষণায় দেখে গেছে, ম্যানুয়ালি কাজটা শুধু ডিজিটালাইজড হয়েছে। রাজনৈতিক শক্তি ও ঠিকাদারের দুর্নীতি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ ধারণ করেছে। ২০১২ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত ৫ লাখ ৯৬ হাজার ৯২১ কোটি টাকা খরচ করা হয়েছে। তাতে শীর্ষ ১০ জন ঠিকাদার মোট অর্থের ৯২ শতাংশ খরচ করেছেন। প্রভাবশালী রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় এই বাজার দখল হয়েছে। আবার আইনের ফাঁকফোকরে একই ঠিকাদাররা যৌথভাবে কার্যাদেশ পেয়েছেন। নেতৃত্বের পরিবর্তনের সঙ্গে দুই একজন ঠিকাদার ছাড়া ঘুরেফিরে কয়েকজন ঠিকাদারিই কাজ করেছেন। কাজের নিয়ন্ত্রণে  শুধু একটু হাত বদল হয়েছে। এ নিয়ন্ত্রণ প্রক্রিয়া রহিত করতে হবে।’ 

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, সরকারের যে তথ্য ভাণ্ডর তা বিশ্লেষণ করে এই প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। তাতে দেখা গেছে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের ঠিকাদারদের মধ্যে অসম প্রতিযোগিতার তীব্র প্রবণতা রয়েছে। বাজারে মুষ্টিমেয় ঠিকাদারের দখলদারিত্ব রয়ে গেছে। প্রায় ৫৩ শতাংশ কাজ ওপেন টেন্ডার মেথডে (ওটিএম) এবং ৪৪ শতাংশ এলটিএম পদ্ধতিতে হয়েছে। প্রতি টেন্ডারে একটিমাত্র দরপত্র পড়ে ১৭ শতাংশ, দুই-৩টি দরপত্র পড়েছে ২৭ শতাংশ। ১২ থেকে ২৪টি দরপত্র পড়ে ৭ শতাংশ এবং ৩৬টির বেশি দরপত্র পড়ে ১৯ শতাংশ।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ২০১৫ সাল থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত ১০টি মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ পাঁচজন ঠিকাদারের মাধ্যমে প্রায় ৯২ শতাংশ অর্থ খরচ করা হয়েছে। এভাবেই তারা বাজার দখল করে রাখে। শীর্ষ ৫ শতাংশ ঠিকাদার মোট কাজের ৬১.৩১ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করেছে। গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের ৫ শতাংশ ঠিকাদার কাজ পেয়েছেন ৭৫ শতাংশ কাজ। একই সঙ্গে তারা সড়ক ও মহাসড়ক বিভাগের ৬৯ শতাংশ কাজ পেয়েছেন। এভাবে প্রায় সব মন্ত্রণালয়ের কাজ মুষ্টিমেয় কয়েকজন ঠিকাদার যোগসাজশ করে পেয়েছেন।

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ৪২ হাজার ৮৪৬ জন ঠিকাদারের মধ্যে ১১ হাজার ৪৪৮ জন যৌথ উদ্যোগে কাজ করেছেন। এটা মোট কাজের প্রায় ২৮ শতাংশই শীর্ষ ঠিকাদাররা নেতৃত্ব পরিবর্তনের সঙ্গে জয়েন্ট ভেঞ্চার (জেভি) গঠন করে বড় বড় কাজ নিয়ন্ত্রণ করেছে। যার ফলে তাদের বাজার দখল আরও বেশি পোক্ত হয়। এছাড়া, রাজনৈতিক নেতৃত্ব পরিবর্তনের ফলে শীর্ষ ঠিকাদারদের আধিপত্য বদলে যায়। এ জন্য নিয়মিত পর্যবেক্ষণ, বাজার শেয়ার সীমিতকরণ এবং প্রকৃত মালিকানার তথ্য উন্মুক্ত করতে হবে। টিআইবির পর্যবেক্ষণে বলা হয় এসব করা হলে ঠিকাদারদের একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ দুর্বল হবে এবং সরকারি কেনাকাটায় সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হবে। মন্ত্রণালয়ভিত্তিক ঠিকাদারের কাজ পর্যালোচনা করে দেখা যায়,

গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ে ২০১৫ সালে ৫ শতাংশ ঠিকাদার ৮৪ শতাংশ কাজ পেয়েছে। ২০২৪ সালে তা ৭৭ শতাংশে ঠেকেছে। গত ১০ বছরে এই মন্ত্রণালয়ে ৬৩ জন ঠিকাদার ৩৫ শতাংশ কাজ করেছেন। 

সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ (আরটিএইচডি): এখানেও শীর্ষ ৫ শতাংশ ঠিকাদার ২০১৫ সাল পর্যন্ত ৬২ শতাংশ বাজার নিয়ন্ত্রণ করেন। ২০২৪ সালে এসে তা বেড়ে ৮০ শতাংশে পৌঁছে। এই বিভাগে গত ১০ বছরে ৫৯ জন ঠিকাদার যৌথ বা সম্মিলিতভাবে ৪৫ শতাংশ কাজ করে।  

পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়েও এখানেও পাঁচ ঠিকাদার ২০১৫ সাল পর্যন্ত ৬০ শতাংশ কাজ পেলেও ২০২৪ সালে তা ৭০ শতাংশে পৌঁছে। মাত্র ২৫ জন ঠিকাদার যৌথভাবে ৪০ শতাংশ বাজার দখল করেছে। 

স্থানীয় সরকার বিভাগ (এলজিডি): এ বিভাগেও শীর্ষ পাঁচ ঠিকাদার ২০১৫ সাল পর্যন্ত ৩৬ শতাংশ বাজার দখলে রাখেন। কিন্তু ২০২৪ সালে তা বেড়ে ৫৮ শতাংশে ঠেকে। গত ১০ বছরে ৬৫ জন ঠিকাদার প্রায় ১২ শতাংশ কাজ পান। এর মধ্যে শীর্ষে ছিল মোহাম্মদ ইউনুস অ্যান্ড ব্রাদার্স লিমিটেড। ১২টির মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন সবচেয়ে বেশি ৫৫ শতাংশ অর্থ খরচ করেছে। অন্যদিকে উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের মধ্যে রাজউক সবচেয়ে বেশি অর্থ খরচ করেছে। এভাবে সব মন্ত্রণালয়ে শীর্ষ কয়েকজন ঠিকাদারই কাজ করেছেন। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় শীর্ষ ১০  ঠিকাদারদের সিন্ডিকেট সরকারের নীতিনির্ধারকদের  ম্যানেজ করে ইজিপি নীতিমালা বহাল রাখায় গত দুই বছরে কোন নতুন ঠিকাদার তৈরি হয়নি। সরকারের সময় গজিয়ে ওঠা জিকে শামীমের মালিকানাধীন ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানগুলো সক্রিয় হয়ে ওঠে। জয়েন্ট ভেঞ্চারের সুযোগ কাজে লাগিয়ে বিতর্কিত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলো গণঅভ্যুত্থানপন্থী বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও বর্তমান সরকার দলের লোকদের ম্যানেজ করে দাপুটের সাথে ঠিকাদারি ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে।

ইজিপি জটিলতায় গত ১৭ বছরের বঞ্চিত ঠিকাদার রা সরকারি কাজ না পাওয়া ও বর্তমানেও বৈষম্যের শিকার ব্যবসায়ীদের পক্ষে জাতীয় সংসদে সম্প্রতি আশরাফ উদ্দিন বকুল এমপি বিষয়টি তুলে ধরলে এলজিআরডি মধ্যে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ইজিপি সংশোধনের আশ্বাস দেন। সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকে বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা হচ্ছে বলে জানা গেছে। এর প্রেক্ষিতে সরকারি ক্রয় কার্যক্রম আরও কার্যকর ও ফলপ্রসূ করতে নতুন করে কমিটি পুনর্গঠন করেছে সরকার। পুনর্গঠিত কমিটির সভাপতি করা হয়েছে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়কমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামানকে। গত রবিবার  এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, কমিটি অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি এবং সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির কার্যপদ্ধতি নির্ধারণ করবে। পাশাপাশি পাবলিক প্রকিউরমেন্ট আইন, ২০০৬ এবং পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিধিমালা, ২০২৫-এর আওতাধীন বিষয়গুলো পর্যালোচনা করে সরকারি ক্রয়ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করার বিষয়ে সুপারিশ করবে। এ ছাড়া অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি ও সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি থেকে অর্পিত অন্যান্য দায়িত্বও পালন করবে।

কমিটির সদস্য হিসেবে রয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ, শিল্প, বস্ত্র ও পাট এবং বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ, নৌপরিবহন ও সেতু প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি, অর্থ বিভাগের সচিব ড. মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদার এবং বাংলাদেশ পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অথরিটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এস. এম. মঈন উদ্দীন আহমেদ।