অব্যাহতির সাত বছর পরও ‘আওয়ামী ট্যাগে’ মামলার অভিযোগ, প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা চেয়ারম্যানের

Sanchoy Biswas
গাজীপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ৭:১৯ অপরাহ্ন, ০৪ জুলাই ২০২৬ | আপডেট: ৮:১৫ অপরাহ্ন, ০৪ জুলাই ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

গাজীপুর জেলা আওয়ামী লীগ থেকে ২০১৯ সালে অব্যাহতি পাওয়ার সাত বছর পরও ‘আওয়ামী ট্যাগ’ ব্যবহার করে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন গাজীপুরের বাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. হাবিবুর রহমান খান।

তিনি দাবি করেন, দীর্ঘদিন আগে দলীয় সম্পর্ক ছিন্ন করলেও একটি মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাঁকে রাজনৈতিক পরিচয়ের সঙ্গে যুক্ত করে হয়রানির চেষ্টা করছে।

আরও পড়ুন: মাদকের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে যুবদল নেতার ওপর হামলার অভিযোগ, গ্রেপ্তারের দাবি

শনিবার বিকেলে বাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে হাবিবুর রহমান খান বলেন, ছাত্রজীবনে ছাত্রলীগের রাজনীতির মাধ্যমে তাঁর রাজনৈতিক জীবন শুরু হয়। পরবর্তীতে যুবলীগ, বাড়িয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং গাজীপুর সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তবে দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিরোধের জেরে তিনি ২০১৯ সালের ২ মে স্বেচ্ছায় দল থেকে অব্যাহতি চান। পরে একই বছরের ২৯ জুলাই জেলা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাঁকে দলের প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

আরও পড়ুন: গাজীপুরে পিপির বিরুদ্ধে অতিরিক্ত পিপির মামলা: সমালোচনার ঝড়

তিনি আরও বলেন, দল থেকে অব্যাহতির পর তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে বাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করে জনগণের ভোটে নির্বাচিত হন। এরপর থেকে আওয়ামী লীগের সঙ্গে তাঁর কোনো সাংগঠনিক বা রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা নেই বলে দাবি করেন তিনি।

চেয়ারম্যান জানান, ২০২৪ সালে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তাঁর বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করা হয়। ওই বছরের ১৭ অক্টোবর তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং কারাভোগের পর ৫ নভেম্বর জামিনে মুক্তি পান। এছাড়া চলতি বছরের ২৩ জুন তাঁর বিরুদ্ধে আরও একটি মামলা হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

হাবিবুর রহমান খানের অভিযোগ, ২০১৯ সালের পর আওয়ামী লীগের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক না থাকলেও একটি মহল পরিকল্পিতভাবে তাঁকে ‘আওয়ামী ট্যাগ’ দিয়ে মামলায় আসামি করছে।

তিনি বলেন, ভবিষ্যতে তিনি আর কোনো রাজনৈতিক দলে যোগ দেওয়ার ইচ্ছা রাখেন না। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে জনগণ তাঁকে নির্বাচিত করেছে এবং তিনি ইউনিয়নবাসীর সুখ-দুঃখের সঙ্গী হয়ে কাজ করতে চান।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, চেয়ারম্যানের পদকে কেন্দ্র করে যাদের স্বার্থ জড়িত, তাদের কেউ কেউ ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে এসব মামলা করিয়ে থাকতে পারে বলে তাঁর ধারণা।

এসব অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং কথিত ষড়যন্ত্রমূলক মামলা থেকে মুক্তি পেতে জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।

তবে চেয়ারম্যানের এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা অভিযুক্ত পক্ষের কোনো বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।