গাজীপুরে পিপির বিরুদ্ধে অতিরিক্ত পিপির মামলা: সমালোচনার ঝড়
গাজীপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালত প্রাঙ্গণে দায়িত্ব পালনরত এক অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটরের (অতিরিক্ত পিপি) ওপর ছুরিকাঘাত, শ্বাসরোধে হত্যাচেষ্টা এবং প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগে আরেক পিপির বিরুদ্ধে সদর থানায় দায়ের করা মামলাকে ঘিরে সমালোচনার ঝড় বইছে। তবে উচ্চ আদালত থেকে আগাম জামিন পেয়েছেন পিপি অ্যাডভোকেট আবু তাহের নয়ন।
গত ২৮ জুন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) অ্যাডভোকেট আবু তাহের নয়নের বিরুদ্ধে গাজীপুর মহানগরীর সদর থানায় মামলা হয়।
আরও পড়ুন: অব্যাহতির সাত বছর পরও ‘আওয়ামী ট্যাগে’ মামলার অভিযোগ, প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা চেয়ারম্যানের
মামলার বাদী গাজীপুর জেলা জজ আদালতের অতিরিক্ত পিপি অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ মনির হোসেন। তিনি অভিযোগে উল্লেখ করেন, গত ২৫ জুন বেলা ১১টার দিকে আদালত প্রাঙ্গণে একটি দাপ্তরিক বিষয় নিয়ে অ্যাডভোকেট আবু তাহের নয়নের সঙ্গে তার কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে অভিযুক্ত তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং পরে ধারালো ছুরি দিয়ে মাথা লক্ষ্য করে আঘাত করেন। আত্মরক্ষার চেষ্টা করলে আঘাতটি তার ডান ভ্রুর ওপর লাগে এবং তিনি গুরুতর আহত হন।
তবে গাজীপুর মহানগর পুলিশের সদর থানার ওসি মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, ভুক্তভোগীকে সম্ভবত স্কেল দিয়ে আঘাত করা হয়েছে। এ বিষয়ে প্রাথমিক তদন্তে এমন তথ্য পাওয়া গেছে। বিস্তারিত তদন্ত চলছে। বাদীর লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে নিয়ম অনুযায়ী মামলা করা হয়েছে। ঘটনাটির প্রতিটি দিক নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা হচ্ছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য, চিকিৎসা প্রতিবেদন, আলামত ও অন্যান্য তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করে আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তদন্তে যার বিরুদ্ধে যে তথ্য-প্রমাণ পাওয়া যাবে, তার বিরুদ্ধেই আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আরও পড়ুন: মাদকের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে যুবদল নেতার ওপর হামলার অভিযোগ, গ্রেপ্তারের দাবি
গাজীপুর জেলা জজ কোর্টের পিপি মো. মোস্তফা কামাল বলেন, একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়েছিল। আদালত পরিবারের সদস্য হিসেবে আমরা চাই, বিষয়টি আইন ও পেশাগত শৃঙ্খলার মধ্য দিয়ে সুষ্ঠুভাবে নিষ্পত্তি হোক। আদালতের মর্যাদা ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখাই আমাদের সবার প্রধান দায়িত্ব।
গাজীপুর মহানগর বিএনপির একাধিক নেতা সাংবাদিকদের জানান, সামান্য ঘটনাকে কেন্দ্র করে নিজ দলের আরেক নেতা ও পিপির বিরুদ্ধে মামলা করা কোনো অবস্থাতেই ঠিক হয়নি। মামলার বাদী নিজেও আইনজীবী। এ বিষয়ে মানুষ সমালোচনা করছে। এছাড়া কোর্ট এলাকাতেও ঘটনাটি নিয়ে আইনজীবীদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। সাধারণ আইনজীবীদের মধ্যেও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।





