স্বৈরাচারী শাসনের পথে সরকার, বড় রাজনৈতিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত জিএম কাদেরের
জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের অভিযোগ করেছেন, বর্তমান সরকার পূর্ববর্তী স্বৈরাচারী ও ফ্যাসিবাদী সরকারের অনুসৃত পথেই এগোচ্ছে। তার দাবি, দেশে রাজনৈতিক অসহিষ্ণুতা, দমন-পীড়ন ও বৈষম্য আগের তুলনায় আরও বেড়েছে।
শনিবার (৪ জুলাই) রাজধানীর কাকরাইলে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে ‘জাতীয় আইনজীবী ফেডারেশন কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটি-২০২৬’-এর পরিচিতি সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আরও পড়ুন: গুম দিবসে সংসদ অভিমুখে পদযাত্রার ঘোষণা ১১ দলীয় ঐক্যের
জি এম কাদের বলেন, সরকার যদি দ্রুত অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনৈতিক পরিবেশ নিশ্চিত করতে এবং নাগরিক ও প্রাতিষ্ঠানিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় কার্যকর পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়, তাহলে দেশে বড় ধরনের রাজনৈতিক পরিবর্তন অনিবার্য হয়ে উঠতে পারে।
একটি আন্তর্জাতিক থিংক ট্যাংকের প্রতিবেদনের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, শক্তিশালী জনসমর্থনের ভিত্তিতে সরকার গঠিত হলেও সেটি দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতার নিশ্চয়তা দেয় না। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সমঝোতা ও গণতান্ত্রিক চর্চা জোরদার না হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।
আরও পড়ুন: যার বিয়ে তার ঠেকা নাই, পাড়াপড়শির ঘুম নাই: জামায়াত আমির
সরকারের সমালোচনা করে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান বলেন, জুলাইয়ের বৈষম্যবিরোধী গণঅভ্যুত্থানের যে চেতনার কথা বলা হয়, বর্তমান রাষ্ট্র পরিচালনায় তার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। বরং সেই চেতনার নামে নতুন করে বৈষম্য ও দমন-পীড়ন চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিকভাবে ভিন্নমতাবলম্বীদের হেনস্তা, জনসমাগমে বাধা সৃষ্টি এবং আইন করে রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করার মতো উদ্যোগ গণতান্ত্রিক চর্চার পরিপন্থী এবং ফ্যাসিবাদী মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ।
আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে জি এম কাদের বলেন, একটি রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ বা দমন করলেই দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত হবে না। বরং রাজনৈতিক অন্তর্ভুক্তি, জবাবদিহিতা এবং অংশগ্রহণমূলক গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠাই বর্তমান সময়ের প্রধান প্রয়োজন।
তিনি অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক অস্থিরতা ও অর্থনৈতিক মন্দার কারণে সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তির মধ্যে রয়েছে, যার দায় সরকার এড়াতে পারে না।
তরুণ সমাজের প্রসঙ্গ তুলে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান বলেন, কর্মসংস্থানের সংকট ও অনিশ্চয়তার কারণে দেশের অনেক তরুণ হতাশায় ভুগছেন। এর ফলে একাংশ মাদক ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের দিকে ঝুঁকে পড়ছে। পাশাপাশি বিচার বিভাগসহ রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলো দলীয়করণের মাধ্যমে দুর্বল হয়ে পড়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।





