চলতি মৌসুমে ক্রয় করতে পারেনি আমন ধান
সোনাতলা খাদ্য গুদাম সরকারি দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ, বসেবসে বেতন ভাতা
বগুড়া সোনাতলা উপজেলার খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি এলএসডি) জালাল উদ্দিন সরদার ও হলিখালী খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি এলএসডি) আবু সাঈদ খন্দকার সরকারি দায়িত্ব-কর্তব্য পালনে ব্যর্থ; চলতি মৌসুমে ক্রয় করতে পারেনি আমন ধান।
উক্ত উপজেলায় সরকার কর্তৃক ১০৭ মেট্রিক টন আমন ধান ক্রয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও, এখন পর্যন্ত উপজেলার দু’টি খাদ্য গুদামে কোন প্রকার ধানও সংগ্রহ করতে পারেনি। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য, লক্ষ্য পূরণে ব্যাহত হচ্ছে। অন্যদিকে, সরকারি দায়িত্ব-কর্তব্য সঠিকভাবে পালন না করে, কর্মকর্তারা বসে বসে মাসের পর মাস সরকারি বেতন ভাতা তুলছেন, যেন দেখার কেউ নেই।
আরও পড়ুন: আশুলিয়ায় সাংবাদিক পরিচয়ে শ্রমিক নেতাদের মারধর ও লুটপাটের অভিযোগ
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ১লা ডিসেম্বর আমন ধান সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু হয়ে শেষ হয় ১৫ই জানুয়ারি পর্যন্ত। সোনাতলা উপজেলায় মোট ১০৭ মেট্রিক টন আমন ধান ক্রয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। তার মধ্যে সোনাতলা খাদ্য গুদামে ৭৫ মেট্রিক টন এবং হলিখালী খাদ্য গুদামে ৩২ মেট্রিক টন। উক্ত সময়ের মধ্যে দু’টি খাদ্য গুদামের একটিও চলতি মৌসুমে ক্রয় করতে পারেনি।
উপজেলা খাদ্য বিভাগ সূত্রে জানা যায়, সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বাজারে দাম বেশি পাওয়ায় কৃষকরা সরকারি গুদামে ধান বিক্রি করতে অনীহা দেখিয়েছেন। এজন্য চলতি বছর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করা সম্ভব হয়নি। এছাড়া, বিভিন্ন এলাকার কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সরকারি খাদ্য গুদামে ধান বিক্রি করতে হলে প্রথমে অনলাইনে আবেদন করতে হয়। এরপর লটারির মাধ্যমে নির্ধারিত কৃষককে বিভিন্ন নিয়ম-নীতি, ব্যাংকে একাউন্ট খোলা, ধানের আর্দ্রতা ঠিক রাখা, ধান পরিস্কার করার ঝামেলার কারণে গুদামে ধান বিক্রি করতে তাদের অনীহা দেখা যায়। এছাড়াও, গ্রাম-গঞ্জের অশিক্ষিত কৃষক অনলাইনে আবেদনসহ সরকারি বিভিন্ন ধরনের নিয়ম-নীতির ঝামেলা এড়াতে বাজারে ধান বিক্রি করে। বাজারে ধান বিক্রির সঙ্গে নগদ টাকা হাতে পাওয়া যায়। এক সময় ব্যাংকে একাউন্ট খুলতে ১০ টাকা খরচ হতো, এখন সেই একাউন্ট খোলাতেও এক হাজার টাকা লাগে।
আরও পড়ুন: পাচারচক্রের হাত থেকে শিশু উদ্ধার, পাচারকারী নারী গ্রেফতার
এতে সোনাতলা খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি এলএসডি) জালাল উদ্দিন সরদার জানিয়েছেন, কৃষকরা বাজারে ধান বিক্রি করলে নগদ টাকা হাতে পান। আর খাদ্য গুদামে ধানের মূল্য পেতে বিলম্ব হওয়া এবং একাউন্ট খোলা সহ সরকারি নানা ধরনের নিয়ম-নীতির কারণে খাদ্য গুদামে ধান দিতে কৃষকরা অনীহা দেখিয়েছেন। ফলে চলতি মৌসুমে তার খাদ্য গুদামে ৭৫ মেট্রিক টন ধান ক্রয়ের লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও তা পূরণ করা সম্ভব হয়নি।
অপরদিকে হলিখালী খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি এলএসডি) আবু সাঈদ খন্দকার জানান, চলতি বছর তার খাদ্য গুদামে ৩২ মেট্রিক টন ধান ক্রয়ের বরাদ্দ থাকা সত্ত্বেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোন ধান ক্রয় করা সম্ভব হয়নি। কারণ সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বাজারে দাম বেশি হওয়ায় কৃষকরা খাদ্য গুদামে আমন ধান বিক্রি করেননি। এছাড়াও, আবহাওয়া অনুকূলে ছিল না।
এবিষয়ে গতকাল (২৫শে জানুয়ারি) রবিবার সোনাতলা উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক শাহ্ শাহেদুর রহমান জানিয়েছেন, চলতি বছর আমন মৌসুমে ডিসেম্বর থেকে ১৫ই জানুয়ারি পর্যন্ত আমন ধান সংগ্রহের সময়সীমা থাকলেও বরাদ্দকৃত ১০৭ মেট্রিক টন ধানের মধ্যে কোন প্রকার ধান ক্রয় করা সম্ভব হয়নি। চলতি বছর সরকার প্রতি কেজি আমন ধান ৩৪ টাকা দরে নির্ধারণ করেছে। কৃষকের অনীহা, বৈরি আবহাওয়া, খোলা বাজারে দাম বেশি হওয়ায় লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করা সম্ভব হয়নি বলে জানান তিনি।





