ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন জাতির জন্য টার্নিং পয়েন্ট: ডা. শফিকুর রহমান
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন জাতির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ টার্নিং পয়েন্ট। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি একই দিনে দুটি ভোট অনুষ্ঠিত হবে—একটি গণভোট, অন্যটি জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এই গণভোটে ‘হ্যাঁ’ মানে আজাদী, আর ‘না’ মানে গোলামি।
সোমবার (২৬ জানুয়ারি) রাতে মাগুরা জেলা জামায়াত আয়োজিত মাগুরা আদর্শ ডিগ্রি কলেজ মাঠে নির্বাচনী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আরও পড়ুন: ময়মনসিংহে পৌঁছেছেন তারেক রহমান
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “আপনারাই বলুন—গোলামি না আজাদী? ইনশা আল্লাহ, এ দেশের মানুষ আজাদী চায়। আমাদের যুবসমাজ আজাদী চায়। তারা বুক পেতে দিয়ে লড়াই করে প্রমাণ করেছে—অন্যায়, দানবীয় শক্তি কিংবা আধিপত্যবাদের কাছে বাংলাদেশের যুবসমাজ কখনোই মাথা নত করবে না।”
তিনি আরও বলেন, গত সাড়ে ১৫ বছর ধরে একটি ফ্যাসিস্ট সরকার পরিকল্পিতভাবে জাতিকে নিঃশেষ করার পথে ঠেলে দিয়েছে। দেশের অর্থনীতি আজ ধ্বংসপ্রায়, বিচার বিভাগ কার্যত ভেঙে পড়েছে, আর একের পর এক সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান অকার্যকর করে দেওয়া হয়েছে। ব্যাংক, বীমা, করপোরেট খাত ও শিল্পখাত ধ্বংসের মুখে পড়েছে। ব্যাপক লুটপাটের মাধ্যমে দেশের অর্থ বিদেশে পাচার হওয়ায় রাষ্ট্র ও জনগণ চরম ক্ষতির মুখে পড়েছে।
আরও পড়ুন: শান্তিনগরে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হামলা, কিল-ঘুষি-ডিম নিক্ষেপ
জামায়াতে ইসলামীর আমির বলেন, দলটি ক্ষমতায় এলে রাষ্ট্রের সব স্তরে জবাবদিহি নিশ্চিত করা হবে। নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের প্রতি বছর নিজেদের এবং পরিবারের সদস্যদের সম্পদের হিসাব জনগণের সামনে উপস্থাপন করতে হবে। তিনি বলেন, হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান—সব ধর্মের মানুষের জন্যই ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা হবে। আইনের চোখে সবাই সমান থাকবে। যে অপরাধে একজন পিয়নের বিচার হবে, একই অপরাধে প্রধানমন্ত্রী বা রাষ্ট্রপতিকেও একই শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে।
নারীদের উদ্দেশে বক্তব্যে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জনগণের ভোটে দায়িত্ব পেলে নারীদের চলাফেরা, কর্মস্থলে মর্যাদা ও সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। এ বিষয়ে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। নারীদের ইজ্জত ও সম্মানের ওপর হাত দেওয়ার দুঃসাহস যেন কেউ না করতে পারে, সে জন্য কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।
যুবসমাজের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “আমরা তোমাদের হাতে বেকার ভাতা তুলে দিতে চাই না। আমরা চাই তোমাদের হাতকে দেশ গড়ার কারিগরের হাতে রূপ দিতে। সম্মানের কাজ সৃষ্টি করে সেই কাজ তোমাদের হাতে তুলে দিতে চাই।”
বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে জামায়াতে ইসলামীর আমির মাগুরার দুটি সংসদীয় আসনে ১১–দলীয় জোট মনোনীত প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেন। তিনি মাগুরা-১ আসনে জেলা জামায়াতের সাবেক আমির আবদুল মতিন এবং মাগুরা-২ আসনে জেলা জামায়াতের আমির মো. মুশতারশেদ বিল্লাহ ওরফে এম বি বাকেরকে উপস্থিত জনতার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন। একই সঙ্গে তাদের হাতে নির্বাচনী প্রতীক দাঁড়িপাল্লা তুলে দিয়ে ভোট প্রার্থনা করেন।
জেলা জামায়াতের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই সমাবেশে জামায়াতে ইসলামীর পাশাপাশি জোটভুক্ত শরিক দলগুলোর নেতাকর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন।





