সারা দেশে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে জনমতের জোয়ার: প্রেস সচিব

Sadek Ali
জাহাঙ্গীর আলম প্রধান,আশুলিয়া
প্রকাশিত: ৩:০৭ অপরাহ্ন, ২৩ জানুয়ারী ২০২৬ | আপডেট: ৩:০৭ অপরাহ্ন, ২৩ জানুয়ারী ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

সারা দেশে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে জনমতের জোয়ার দেখা যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। 

তিনি বলেন, জনগণ এখন স্পষ্টভাবে বুঝে গেছে যে ‘হ্যাঁ’ ভোটের মাধ্যমেই দেশে আর স্বৈরাচার, অনাচার ও অত্যাচার ফিরে আসবে না। এতে নাগরিক অধিকার সুরক্ষিত থাকবে এবং একটি ন্যায়ভিত্তিক শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হবে।

আরও পড়ুন: সরিষার মাঠে মৌমাছির উৎসব, মধু চাষিদের কর্মব্যস্ততা

শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) সকালে ঢাকার ধামরাই উপজেলার সানোড়া ইউনিয়নের বাটুলিয়া এলাকায় বুচাই পাগলার মাজার পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি মাজারে দোয়ায় অংশ নেন।

প্রেস সচিব বলেন, সারা বাংলাদেশেই ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে একটি শক্তিশালী জনসমর্থন তৈরি হয়েছে। মানুষ বিশ্বাস করে, ‘হ্যাঁ’ ভোট দিলে ব্যাংকে রাখা অর্থ নিরাপদ থাকবে, পরিবার-পরিজনের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে এবং রাষ্ট্র এমন পথে চলবে, যেখানে মানুষের অধিকার অক্ষুণ্ণ ও সমুন্নত থাকবে।

আরও পড়ুন: আশুলিয়ায় সাংবাদিক পরিচয়ে শ্রমিক নেতাদের মারধর ও লুটপাটের অভিযোগ

তিনি আরও বলেন, নির্বাচন কমিশন বারবার আশ্বস্ত করেছে যে ভোট গ্রহণ প্রক্রিয়ায় কোনো জটিলতা থাকবে না। যদিও ভোট গণনায় কিছুটা সময় লাগতে পারে, তবুও জনগণকে শান্ত ও ধৈর্য ধরে ভোট প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

বুচাই পাগলার মাজার সম্পর্কে শফিকুল আলম বলেন, এটি শুধু একটি ধর্মীয় স্থান নয়, বরং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক। প্রতিবছর ফেব্রুয়ারি মাসে এখানে বাউল গানের মেলা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে দেশের খ্যাতনামা বাউল শিল্পীরা অংশ নেন। এই মেলা ও মাজারকেন্দ্রিক আয়োজন বাংলাদেশের বহুত্ববাদী সংস্কৃতির উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ অলি-আউলিয়া ও পীর-দরবেশদের দেশ। ইসলাম এই ভূখণ্ডে তাদের মাধ্যমেই ছড়িয়ে পড়েছে। মাজারে হামলা বা ভাঙচুর অত্যন্ত নিন্দনীয়। কারও পছন্দ না হলে সেখানে না আসতে পারেন, কিন্তু আঘাত বা ধ্বংস কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ১১ সেপ্টেম্বর বুচাই পাগলার মাজারে ‘তৌহিদি জনতা’ নামধারী একদল লোক ভাঙচুর চালায়। এ ঘটনায় ঢাকা জেলা সিনিয়র সহকারী জজ মোহাম্মদ জুনায়েদ ধামরাই থানা পুলিশকে মামলা করার নির্দেশ দেন। পরে পুলিশ বাদী হয়ে দুজনের নাম উল্লেখ করে মামলা দায়ের করে। তবে এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। সম্প্রতি কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে মাজারটি সংস্কার করা হয়েছে।

সাংবাদিকদের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে প্রেস সচিব বলেন, সাংবাদিকদের ওপর যেকোনো ধরনের হামলা নিন্দনীয়। সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা শুধু সরকারের নয়, রাজনৈতিক দল ও সব নাগরিকের সম্মিলিত দায়িত্ব। 

তিনি আশা প্রকাশ করেন, এবারের নির্বাচন সাংবাদিকরা সুন্দর, স্বাধীন ও নিরপেক্ষভাবে কাভার করতে পারবেন।

এ সময় প্রেস সচিবের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন ধামরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খান মোহাম্মদ সালমান হাবীব, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রিদওয়ান আহমেদ রাফি এবং ধামরাই থানা পুলিশের সদস্যরা।