সরিষার মাঠে মৌমাছির উৎসব, মধু চাষিদের কর্মব্যস্ততা
হলুদের সমারোহে ঢেকে গেছে জয়পুরহাটের মাঠ-প্রান্তর। দিগন্তজুড়ে সরিষার ফুলের হাসি, আর সেই ফুলে ফুলে গুঞ্জন তুলে ব্যস্ত মৌমাছির দল। প্রকৃতির এই অপূর্ব আয়োজন থেকেই সোনালি মধু সংগ্রহে ব্যস্ত সময় পার করছেন মৌসুমি মধু চাষিরা।
জয়পুরহাট সদর উপজেলার হাইল্ট্রী এলাকায় এখন যেন এক ভিন্ন দৃশ্য। রাস্তার দুই পাশে গড়ে উঠেছে অস্থায়ী তাবু, সারি সারি মধুর বাক্স। প্রতি বছর এই মৌসুম এলেই পার্শ্ববর্তী জেলা দিনাজপুর, রংপুর ও গাইবান্ধা থেকে মধু চাষিরা ছুটে আসেন জয়পুরহাটে। সরিষার বিস্তীর্ণ জমিই তাদের টেনে আনে এখানে।
আরও পড়ুন: আশুলিয়ায় সাংবাদিক পরিচয়ে শ্রমিক নেতাদের মারধর ও লুটপাটের অভিযোগ
ভোরের আলো ফুটতেই শুরু হয় কর্মব্যস্ততা। মৌমাছির বাক্স বসানো, মধু সংগ্রহ, আবার সযত্নে সংরক্ষণ সবকিছুতেই চলে নিরবচ্ছিন্ন শ্রম। সরিষার ফুল থেকে সংগৃহীত এই খাঁটি মধু স্বাদ ও গুণে আলাদা হওয়ায় বাজারেও এর চাহিদা থাকে বেশি।
মধু চাষিরা জানান, সরিষার মৌসুমই তাদের বছরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ভালো ফলন বৃদ্ধি পায়।প্রতি সপ্তাহে একটি করে বক্স থেকে ৪-৫ কেজি মধু সংগ্রহ হয়। একই সঙ্গে স্থানীয় কৃষকরাও উপকৃত হচ্ছেন, কারণ মৌমাছির পরাগায়নের ফলে সরিষার ফলন বাড়ছে।
আরও পড়ুন: পাচারচক্রের হাত থেকে শিশু উদ্ধার, পাচারকারী নারী গ্রেফতার
এবিষয়ে কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তর জয়পুরহাটের উপপরিচালক এ,কে,এম সাদিকুল ইসলাম বলেন, জয়পুরহাটে এবছর ১৬ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষ হয়েছে। বিভিন্ন জেলা থেকে মৌচাষিরা এবছর মধু সংগ্রহের জন্য ১৫০০ বক্স স্থাপন করেছেন।স্থানীয় যে চাহিদা রয়েছে তা মিটিয়ে বিভিন্ন কোম্পানির মাধ্যমে বাজারজাত করে ভালো লাভবান হচ্ছে। এবছর ২৫ হাজার মেট্রিকটন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
সরিষার হলুদ ফুল, মৌমাছির গুঞ্জন আর মধু চাষিদের ব্যস্ততায়—এই সময়টায় জয়পুরহাট যেন প্রকৃতি ও মানুষের এক অপূর্ব মেলবন্ধনের নাম।





