নতুন বেতন কাঠামোর প্রতিবেদন আজ প্রধান উপদেষ্টার কাছে জমা দেবে বেতন কমিশন
সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন বেতন ও ভাতার সুপারিশ সংবলিত প্রতিবেদন আজ বুধবার বিকাল ৫টায় প্রধান উপদেষ্টার কাছে জমা দেবে বেতন কমিশন। কমিশনের চেয়ারম্যান জাকির আহমেদ খান সব সদস্যকে সঙ্গে নিয়ে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রতিবেদনটি হস্তান্তর করবেন। এ সময় অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ উপস্থিত থাকবেন।
গতকাল মঙ্গলবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান অর্থ উপদেষ্টা। তবে প্রতিবেদন আনুষ্ঠানিকভাবে জমা দেওয়ার আগে এর বিস্তারিত বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি তিনি।
আরও পড়ুন: নীলফামারীর বাংলাদেশ–চীন মৈত্রী হাসপাতাল গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসা কেন্দ্রে পরিণত হবে: প্রধান উপদেষ্টা
অর্থ উপদেষ্টা বলেন, নতুন পে-স্কেলের প্রতিবেদন বুধবার প্রধান উপদেষ্টার কাছে জমা দেওয়া হবে। এটি বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের সময়েই বাস্তবায়ন হবে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে এই প্রস্তাব তৈরি করাকে অন্তর্বর্তী সরকারের একটি বড় অর্জন হিসেবে দেখছেন তিনি। অর্থ উপদেষ্টা আশা প্রকাশ করেন, কমিশনের সুপারিশে সরকারি চাকরিজীবীরা সন্তুষ্ট হবেন।
দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে, বেতন কমিশন ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে নতুন বেতন কাঠামো আংশিক বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করছে। আর পুরো কাঠামো কার্যকর করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম দিন, অর্থাৎ আগামী ১ জুলাই থেকে।
আরও পড়ুন: নির্বাচন উপলক্ষে ৩ দিনের ছুটি ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি
সূত্র জানায়, বর্তমানে সরকারি চাকরিজীবীদের সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা, যা দ্বিগুণেরও বেশি বাড়ানোর প্রস্তাব রয়েছে। অন্যদিকে সর্বোচ্চ ধাপে বর্তমানে ৭৮ হাজার টাকা মূল বেতন থাকলেও তা বাড়িয়ে ১ লাখ ২০ হাজার টাকার বেশি করার সুপারিশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন বেতনের অনুপাত ১:৮ রাখার প্রস্তাবও রয়েছে।
এদিকে চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে সরকারি কর্মচারীদের বেতন ও ভাতা খাতে ২২ হাজার কোটি টাকা অতিরিক্ত বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। নতুন বেতনকাঠামো আংশিক বাস্তবায়নের প্রস্তুতির অংশ হিসেবেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।
বেতন কমিশনের হিসাব অনুযায়ী, নতুন বেতনকাঠামো পুরোপুরি বাস্তবায়ন করতে সরকারের অতিরিক্ত ৭০ থেকে ৮০ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হবে। প্রস্তাবিত কাঠামোয় নিচের দিকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন ও ভাতা তুলনামূলকভাবে বেশি বাড়ানোর সুপারিশ রাখা হয়েছে।
পে কমিশনের একটি সূত্র জানায়, বর্তমানে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা মূল বেতনের ২০ শতাংশ বৈশাখী ভাতা পান। নতুন প্রস্তাবে এই ভাতা বাড়িয়ে মূল বেতনের ৫০ শতাংশ করার সুপারিশ করা হয়েছে। তবে ঈদ বোনাস বিদ্যমান ব্যবস্থার মতোই বহাল রাখার প্রস্তাব রয়েছে।
উল্লেখ্য, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নতুন বেতনকাঠামো নির্ধারণের লক্ষ্যে গত বছরের ২৭ জুলাই ২১ সদস্যের বেতন কমিশন গঠন করা হয়। কমিশনের চেয়ারম্যান সাবেক অর্থসচিব ও পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনের (পিকেএসএফ) চেয়ারম্যান জাকির আহমেদ খান। ছয় মাসের মধ্যে প্রতিবেদন দেওয়ার কথা থাকলেও বর্তমানে প্রায় ১৫ লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী এখনো ২০১৫ সালের বেতনকাঠামো অনুযায়ী বেতন-ভাতা পাচ্ছেন।





