শরীয়তপুর পুলিশ সুপারকে নির্বাচনী দায়িত্ব থেকে অব্যাহতির দাবিতে ইসিতে আবেদন
শরীয়তপুরের পুলিশ সুপার রওনক জাহানের বিরুদ্ধে পক্ষপাতদুষ্টতার অভিযোগ এনেছেন মোয়াজ্জেম হোসেন মিলন নামের এক ব্যক্তি। বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যে তিনি বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার বরাবর একটি আবেদন করেছেন।
তার দাবি, পুলিশ সুপার একটি দলের পরিবারের সদস্য। এছাড়াও তাঁর আপন চাচা আবু তাহের তালুকদার নেত্রকোনা-৫ আসন থেকে একটি দলের হয়ে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। তাই আগামী নির্বাচনে তিনি পক্ষপাত করবেন বলেও আশঙ্কা করেছেন ওই আবেদনকারী।
আরও পড়ুন: সরিষার মাঠে মৌমাছির উৎসব, মধু চাষিদের কর্মব্যস্ততা
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, আবেদনকারী মোয়াজ্জেম হোসেন মিলন নামের ওই ব্যক্তির বাড়ি শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলার বকাউল কান্দি এলাকায়। বিভিন্ন অভিযোগ এনে তিনি শরীয়তপুরের পুলিশ সুপার রওনক জাহানকে আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সকল প্রকার নির্বাচনী দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়ে জেলায় একজন নিরপেক্ষ ও পেশাদার পুলিশ সুপার নিয়োগের জন্য বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনে আবেদন জানিয়েছেন।
গত ১১ জানুয়ারি আবেদনটি করেন তিনি। আবেদনের অনুলিপি নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ, বেগম তাহমিদা আহমদ, আনোয়ারুল ইসলাম সরকার, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ এবং নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সিনিয়র সচিবের কাছে পাঠিয়েছেন।
আরও পড়ুন: আশুলিয়ায় সাংবাদিক পরিচয়ে শ্রমিক নেতাদের মারধর ও লুটপাটের অভিযোগ
আবেদনটিতে উল্লেখ করা হয়, চব্বিশের ৫ আগস্টের পূর্বে জামায়াত ও বিএনপির বহু কর্মী-সমর্থক নিজেদের নিরাপত্তাজনিত কারণে তৎকালীন ফ্যাসিবাদী সরকারের দলীয় লোকদের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক বজায় রেখে চলতে বাধ্য হয়েছিল। কেউ কেউ বিভিন্ন পদ-পদবিও ধারণ করেছিলেন। নড়িয়া উপজেলা ও সখিপুর থানার জামায়াতের এ ধরনের কর্মী-সমর্থক এবং যারা জামায়াত প্রার্থীর পক্ষে কাজ করছে, তাদের অনেককে বর্তমান পুলিশ প্রশাসন আওয়ামী সমর্থক আখ্যা দিয়ে গ্রেপ্তার করে বিভিন্ন মামলায় জড়িয়ে দিচ্ছে।
অপরদিকে বিএনপির এ ধরনের কর্মী-সমর্থক, যারা আওয়ামী ফ্যাসিবাদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে নানা অপকর্মে লিপ্ত ছিল, তাদেরকে পুলিশ বরং ছাড় দিয়ে যাচ্ছে। এমনকি হত্যা মামলা থাকা সত্ত্বেও বিএনপির সঙ্গে নির্বাচনী মাঠে সক্রিয় থাকার কারণে তারা ধরা-ছোঁয়ার বাইরে আছেন। পুলিশ প্রশাসন তাদেরকে গ্রেপ্তার করছে না এবং ভুলক্রমে যদি তাদের কাউকে থানায় আনা হয়, সঙ্গে সঙ্গে বিএনপির নেতাকর্মীরা এসে তাদেরকে ছাড়িয়ে নিয়ে যায়। এ বিষয়ে থানার ওসি পুলিশ সুপারের হুকুম তামিল করছেন বলে উল্লেখ করা হয়।
এছাড়াও আবেদনে পুলিশ সুপারকে একটি রাজনৈতিক দলের পরিবারের সদস্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়। সেখানে বলা হয়, প্রীতি বিনষ্টকারী ও ভীতি সঞ্চারী কর্মকাণ্ডের জন্য দায়ী পুলিশ সুপার বিএনপি পরিবারের একজন সদস্য। তাঁর আপন চাচা মো. আবু তাহের তালুকদার (পূর্বধলা উপজেলা) নেত্রকোনা-৫ আসন থেকে এবারের নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করছেন। তাই পক্ষপাতদুষ্ট পুলিশ কর্মকর্তা থাকলে উৎসবমুখর, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নির্বাসিত হবে বলে আবেদনে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়।
বিষয়টি নিয়ে আবেদনকারী মোয়াজ্জেম হোসেন মিলন বলেন, দেখা যায় যারা সেভাবে আওয়ামী লীগ করেনি, তবে নির্বাচনের উপলক্ষে জামায়াতের হয়ে কাজ করতে আসে, তাদের ধরে আগের বিভিন্ন মামলায় অজ্ঞাত আসামি হিসেবে ধরপাকড় করা হচ্ছে। কিন্তু যারা আওয়ামী লীগের বিশেষ বিশেষ লোক বিএনপি করছে, তাদের ধরতে বললে এসপি (পুলিশ সুপার) ধরেন না। থানাগুলোও আমাদের অসহযোগিতা করছে। কিন্তু বিএনপির লোক থানায় গিয়ে তালিকা ধরিয়ে দিলে তাদের গিয়ে ধরে আনা হচ্ছে। আমরা বিষয়গুলো নির্বাচন কমিশনারের দৃষ্টিগোচরের জন্য আবেদন জানিয়েছি। ওনার (এসপির) আপন চাচা বিএনপির মনোনয়ন নিয়ে নির্বাচন করছেন। সব মিলিয়ে মনে হচ্ছে তিনি একটি দলের দিকে ঝুঁকে পড়ছেন। আমরা চাই নির্বাচন কমিশন তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করুক।
অভিযোগের ব্যাপারে জেলা পুলিশ সুপার রওনক জাহান বলেন, অভিযোগের বিষয়টি আমার জানা নেই।
শরীয়তপুর জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মিজ তাহসিনা বেগম বলেন, আমি এখনো এ ধরনের কোনো অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।





