লালমনিরহাটে ডিবির অভিযানে বিলুপ্তপ্রায় তিন তক্ষক উদ্ধার, পাচারের সন্দেহে আইনগত ব্যবস্থা

Sadek Ali
মো. আবু বক্কর সিদ্দিক, লালমনিরহাট প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ৫:৫২ অপরাহ্ন, ০৮ মার্চ ২০২৬ | আপডেট: ১:৩৮ পূর্বাহ্ন, ১৩ জুলাই ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

লালমনিরহাটে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশের বিশেষ অভিযানে বিলুপ্তপ্রায় তিনটি তক্ষক উদ্ধার করা হয়েছে। পাচারের উদ্দেশ্যে এগুলোকে অবৈধভাবে আটক করে রাখা হয়েছিল বলে ধারণা করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

রবিবার (৮ মার্চ) দিবাগত রাতে লালমনিরহাট সদর উপজেলার মহেন্দ্রনগর ইউনিয়নের চিনিপাড়া গ্রামে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ডিবি পুলিশের একটি দল ওই গ্রামের মৃত কাচুয়া আলীর ছেলে মুকুল আলীর (৪৫) বসতবাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে তার শয়নকক্ষ থেকে জালের খাঁচায় বন্দি অবস্থায় তিনটি তক্ষক উদ্ধার করে।

আরও পড়ুন: চট্টগ্রাম বন্দরে প্রশাসনিক সংস্কার: ২ বছরে মেধাভিত্তিক নিয়োগ ও পদোন্নতিতে অভূতপূর্ব সাফল্য

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, উদ্ধার হওয়া তক্ষকগুলোর শরীরে সাদা ডোরাকাটা দাগ রয়েছে এবং প্রতিটির দৈর্ঘ্য আনুমানিক ১৩ ইঞ্চি। ধারণা করা হচ্ছে, এগুলো অবৈধভাবে সংগ্রহ করে পাচারের জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছিল।

স্থানীয়দের মধ্যে তক্ষকের বাজারমূল্য কোটি টাকার বেশি বলে নানা গুঞ্জন থাকলেও বনবিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এ ধরনের দাবির কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। মূলত কুসংস্কার ও অতিরিক্ত লাভের আশায় কিছু অসাধু ব্যক্তি এসব বিলুপ্তপ্রায় বন্যপ্রাণী শিকার ও পাচারের চেষ্টা করে থাকে।

আরও পড়ুন: বাঁশখালীতে বন্যাকবলিত মানুষের পাশে ‘নিরাপদ সড়ক আন্দোলন’

লালমনিরহাট জেলা পুলিশের পুলিশ সুপার মোঃ আসাদুজ্জামান স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

এ বিষয়ে লালমনিরহাট জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাদ আহমেদ জানান, বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন-২০১২ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। উদ্ধার করা তক্ষকগুলোকে নিরাপদ সংরক্ষণের জন্য লালমনিরহাট জেলা বনবিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি অবৈধ শিকার ও পাচার রোধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানান সংশ্লিষ্টরা।