জানাজা শেষে একই পরিবারের ৯ সদস্যের দাফন, শোকে স্তব্ধ মোংলা

Sanchoy Biswas
বাংলাবাজার রিপোর্ট
প্রকাশিত: ৮:৫৮ অপরাহ্ন, ১৩ মার্চ ২০২৬ | আপডেট: ২:৫৮ পূর্বাহ্ন, ১৪ মার্চ ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

মোংলা সরকারি কবরস্থানে জানাজা শেষে একই পরিবারের ৯ সদস্যের দাফন সম্পন্ন হয়েছে। বাগেরহাটের রামপাল উপজেলায় নৌবাহিনীর একটি বাসের সঙ্গে মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত মোংলা পৌরসভার বাসিন্দা আব্দুর রাজ্জাকের পরিবারের সদস্যদের শুক্রবার (১৩ মার্চ) জুমার নামাজের পর দাফন করা হয়।

জানাজা ও দাফনে উপস্থিত ছিলেন ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম, মনজুরুল হক রাহাদ, গোলাম মো. বাতেন এবং মোহাম্মদ হাচান চৌধুরীসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

আরও পড়ুন: হরিরামপুরে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি গ্রেপ্তার

দাফন সম্পন্ন হলেও মোংলা পৌরসভার শেলাবুনিয়া গ্রামে শোকের মাতম থামেনি। স্বজন ও প্রতিবেশীদের আহাজারিতে পুরো এলাকার পরিবেশ ভারী হয়ে উঠেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুর্ঘটনায় আব্দুর রাজ্জাকের পরিবারের দুই ছেলে, এক মেয়ে, এক পুত্রবধূ এবং চার নাতি-নাতনি নিহত হয়েছেন। বর্তমানে তার স্ত্রী ও তিন ছেলে জীবিত থাকলেও পরিবারের বড় একটি অংশ একসঙ্গে হারিয়ে গেছে।

আরও পড়ুন: সাজেক ভ্যালি পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ ঘোষণা

নিহতদের মধ্যে রয়েছেন মোংলা পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক, তার ছেলে ও নববিবাহিত বর আহাদুর রহমান সাব্বির, সাব্বিরের ভাই আব্দুল্লাহ সানি, বোন উম্মে সুমাইয়া ঐশী এবং ঐশীর ছেলে সামিউল ইসলাম ফাহিম। এছাড়া বড় ছেলে আশরাফুল আলম জনির স্ত্রী ফারহানা সিদ্দিকা পুতুল এবং তাদের তিন সন্তান আলিফ, আরফা ও ইরামও নিহত হয়েছেন। দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন মাইক্রোবাস চালক মো. নাঈম শেখ।

অন্যদিকে কনের পক্ষ থেকেও চারজন নিহত হয়েছেন। তারা হলেন নববধূ মার্জিয়া আক্তার (মিতু), তার ছোট বোন লামিয়া আক্তার, দাদি রাশিদা বেগম এবং নানি আনোয়ার বেগম। তাদের বাড়ি কয়রা উপজেলার নকশা গ্রামে।

স্ত্রী ও তিন সন্তানকে হারানো আশরাফুল আলম জনি কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমার সব শেষ হয়ে গেছে। এক নিমেষেই স্ত্রী, সন্তান, ভাই-বোন সবাইকে হারালাম। আমি এখন কার মুখ চেয়ে বাঁচব?”

স্থানীয় বাসিন্দা আলী আজম জানান, খুলনা-মোংলা মহাসড়কটি অত্যন্ত ব্যস্ত হলেও এটি এখনো চার লেনে উন্নীত করা হয়নি। সরু সড়কের কারণে প্রায়ই সেখানে ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে। এলাকাবাসী দ্রুত সড়কটি প্রশস্ত করা এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন জানিয়েছেন, নিহতদের পরিবারকে জেলা প্রশাসনের ত্রাণ তহবিল, জেলা পরিষদ এবং সড়ক পরিবহন আইনের আওতায় আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হবে। ইতোমধ্যে নিহত মাইক্রোবাস চালকের পরিবারকে ৫০ হাজার টাকা সহায়তা দেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার কয়রা থেকে বিয়ের অনুষ্ঠান শেষে বরযাত্রীবাহী মাইক্রোবাসটি মোংলার উদ্দেশে রওনা দেয়। পথে রামপাল উপজেলার বেলাই ব্রিজ এলাকায় পৌঁছালে নৌবাহিনীর একটি স্টাফ বাসের সঙ্গে মাইক্রোবাসটির মুখোমুখি সংঘর্ষ ঘটে। এতে একসঙ্গে বহু প্রাণহানির এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।