অর্ধশতাধিক আসনে বিএনপি’র বিদ্রোহী প্রার্থী

Sadek Ali
বাংলাবাজার রিপোর্ট
প্রকাশিত: ১০:৪৪ পূর্বাহ্ন, ২১ জানুয়ারী ২০২৬ | আপডেট: ১০:৪৪ পূর্বাহ্ন, ২১ জানুয়ারী ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় নির্দেশনা অমান্য করে প্রায় অর্ধশত আসনে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীরা নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াননি। কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত ও বহিষ্কারের হুঁশিয়ারি উপেক্ষা করে এখনো প্রায় ৫০টি আসনে ৯১ জন বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী নির্বাচনী মাঠে সক্রিয় রয়েছেন। দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে সাবেক ও বর্তমান অনেক স্থানীয় নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ায় বিভিন্ন এলাকায় বিএনপির সাংগঠনিক বিভক্তি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

গতকাল মঙ্গলবার ছিল সারা দেশে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন। এদিন বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থী প্রার্থিতা প্রত্যাহার করলেও বিএনপির বিদ্রোহীরা বড় অংশে মাঠেই থেকে যান। আজ বুধবার বৈধ রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ করবেন সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসাররা। প্রতীক বরাদ্দের পর থেকেই আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু করতে পারবেন প্রার্থীরা।

আরও পড়ুন: ধর্মের অপব্যবহার করে নির্বাচনকে প্রভাবিত করার চেস্টা আইনত অপরাধন: মাহ্দী আমিন

ঢাকা-১৭ আসনে বিএনপি চেয়ারপারসন তারেক রহমানের সম্মানে স্বতন্ত্র প্রার্থী ব্যারিস্টার এম সরওয়ার হোসেন প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেন। শুধু ঢাকাতেই ২০টি সংসদীয় আসনে ২৫ জন প্রার্থী মনোনয়ন প্রত্যাহার করেছেন। তবে শেষদিনেও প্রায় ৫০টি আসনে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীরা নির্বাচনে থেকে গেছেন।

বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, দলটি ২৯২টি আসনে ধানের শীষ প্রতীকে প্রার্থী দেয়। জোটসঙ্গীরা আটটি আসনে নিজ দলের প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তবে তিনজন বিএনপি প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হওয়ায় বর্তমানে দলটি ২৮৯টি আসনে নির্বাচনে রয়েছে। মনোনয়ন বাতিল হওয়া প্রার্থীরা আপিল ও রিটের মাধ্যমে আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন।

আরও পড়ুন: মাদক, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজিতে ধ্বংস হয়েছে এলাকা: মির্জা আব্বাস

জোট চুক্তির আওতায় যেসব আসন মিত্র দলগুলোকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে, সেসব আসনের অন্তত ছয়টিতে এখনো বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছেন। ঢাকা-১২, ঢাকা-৭, ঝিনাইদহ-৪, সাতক্ষীরা-৩, পটুয়াখালী-৩, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২, মুন্সীগঞ্জ-১ ও ৩, চট্টগ্রাম-১৪ ও ১৬, সিলেট-৫, নাটোর-১, ময়মনসিংহ, নারায়ণগঞ্জ, গোপালগঞ্জ, বাগেরহাট, ঝালকাঠি, চাঁদপুর ও টাঙ্গাইলের একাধিক আসনে একই চিত্র দেখা যাচ্ছে। দলীয় প্রার্থী বা সমর্থিত প্রার্থীর বিরুদ্ধে নির্বাচন করায় বিএনপি ইতোমধ্যে বেশ কয়েকজন নেতাকে বহিষ্কার করলেও তারা নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াননি।

এদিকে বিএনপির প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামী ২২০টি আসনে প্রার্থী দিয়েছে। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ২৬৮টি, জাতীয় পার্টি ১৯৬টি, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ৩০টি এবং খেলাফত মজলিস ২৯টি আসনে প্রার্থী দিয়েছে বলে জানা গেছে।

চার দলকে সতর্ক করল নির্বাচন কমিশন

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও খেলাফত মজলিসকে সতর্ক করেছে নির্বাচন কমিশন। গতকাল মঙ্গলবার দলগুলোর প্রধানদের কাছে পাঠানো চিঠিতে বলা হয়, নির্ধারিত সময়ের আগে নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়ে তারা রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা, ২০২৫ লঙ্ঘন করেছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকতে নির্দেশ দিয়েছে ইসি।

আটজন নেতাকে নিরাপত্তা দেওয়ার নির্দেশ

নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে বিএনপি মনোনীত এক প্রার্থী এবং জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ পর্যায়ের সাত নেতার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। গাজীপুর-১ আসনের বিএনপি প্রার্থী মো. মজিবুর রহমানসহ জামায়াতের আমির, নায়েবে আমির ও সেক্রেটারি জেনারেলসহ শীর্ষ নেতাদের জন্য ভোটের দিন পর্যন্ত নিরাপত্তা জোরদারের অনুরোধ জানানো হয়েছে।

পোস্টাল ব্যালট নিয়ে অপপ্রচারে ক্ষোভ সিইসির

নতুন পোস্টাল ব্যালট ব্যবস্থা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার ও বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন। মঙ্গলবার আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে বৈঠকে তিনি বলেন, সাংবাদিকদের সহযোগিতার কারণেই সাধারণ মানুষ সঠিক তথ্য জানতে পারছে। সিইসি জানান, ১২২টি দেশ থেকে প্রবাসীরা পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিতে নিবন্ধন করেছেন, যা বাস্তবায়নে নানা চ্যালেঞ্জ থাকলেও কমিশন তা মোকাবিলা করছে।