নরসিংদী-১: ভোট লড়াইয়ে বিএনপি-জামায়াত

Sadek Ali
আশিকুর রহমান, নরসিংদী
প্রকাশিত: ৮:১৫ পূর্বাহ্ন, ০৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ | আপডেট: ৮:১৭ পূর্বাহ্ন, ০৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নরসিংদী জেলার ৫টি সংসদীয় আসনে প্রার্থীদের প্রতীক বরাদ্দের মধ্য দিয়ে চূড়ান্ত লড়াইয়ে নেমেছেন ৪১ জন প্রার্থী।

এই ৫টি সংসদীয় আসনের মধ্যে একজন ৯০ এর গণঅভ্যুত্থানের নায়ক ও অপর আরেকজন ব্যাংকার ও রাজনৈতিক ব্যক্তি হিসেবে নরসিংদী-১ "(সদর)" আসন থেকে সংসদ সদস্য প্রার্থী হয়ে নির্বাচনী ভোটযুদ্ধে লড়াই করছেন।

আরও পড়ুন: সিলেটে আধিপত্য নিয়ে তিন গ্রামের সংঘর্ষ, আহত অন্তত ১৫

উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো এই দুইজনের মধ্যে একজন বিএনপির দলীয় প্রতীক ধানের শীষ নিয়ে ৯০ এর স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের নায়ক ডাকসুর সাবেক জিএস, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব, জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য খায়রুল কবির খোকন। আর অপরজন জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ এর দলীয় প্রতীক দাঁড়িপাল্লা নিয়ে অভিজ্ঞ ব্যাংকার হিসেবে খ্যাতি অর্জন করা এবং ইসলামী ব্যাংকের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান পদে দায়িত্ব পালন শেষে বিশিষ্ট রাজনৈতিক ব্যক্তি হিসেবে পরিচয় বহন করে জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ নরসিংদী শাখার সভাপতি মো. ইব্রাহিম ভূঁইয়া ভোট লড়াইয়ে মাঠে নেমেছেন। 

বিভিন্ন সূত্রে ও স্থানীয় ভোটারদের সাথে কথা বলে জানান যায়, ১১টি ইউনিয়ন ও ২টি পৌরসভা নিয়ে গঠিত নরসিংদী-১ সংসদীয় আসন। মোট ভোটার ৪ লক্ষ ৭৭ হাজার ২০৯ জন। যার মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লক্ষ ৪৩ হাজার ৯৪৫ জন এবং মহিলা ভোটার ২ লক্ষ ৩৩ হাজার ২৫২ জন ও তৃতীয় লিঙ্গ হিসেবে  রয়েছেন ১২ জন। পৌঁনে ৫ লাখের বেশি ভোটারের মাঝে এবার এ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৮ জন প্রার্থী। এ ৮ প্রার্থীর মধ্যে খায়রুল কবির খোকন  ও মো. ইব্রাহিম ভূঁইয়া দুইজনই নির্বাচনী মাঠে হেভিওয়েট প্রার্থী। আবার দুইজনই রয়েছেন জনপ্রিয়তার শীর্ষে।

আরও পড়ুন: প্যারোলে মুক্তি না পেয়ে কারাফটকে বাবার মরদেহ দেখলেন কারাবন্দী মিলন মিয়া

ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী খায়রুল কবির খোকন নরসিংদী সদর উপজেলার চিনিশপুর  ইউনিয়নের স্থানীয় বাসিন্দা এবং নিজ সংসদীয় আসন থেকে ২০০৫ সালে উপনির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হয়ে সংসদ সদস্য  নির্বাচিত হন। হেভিওয়েট এই প্রার্থী বিএনপির দলীয় চেয়ারপার্সন প্রয়াত নেতা সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার স্নেহভাজন হিসেবে পরিচিত লাভ করে বিএনপির নির্বাহী কমিটির যুগ্ম মহাসচিব ও জেলা বিএনপির সভাপতি হিসেবে বর্তমানে দায়িত্ব পালন করছেন।

অপরদিকে জামায়াতের দলীয় প্রতীক দাঁড়িপাল্লা নিয়ে লড়াই করছেন মো. ইব্রাহিম ভূঁইয়া। তিনিও নরসিংদী সদর উপজেলার চিনিশপুর ইউনিয়নের স্থানীয় বাসিন্দা। হেভিওয়েট এই প্রার্থী দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার আগে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেডের নরসিংদী জেলার সাবেক শাখা ব্যবস্থাপক এবং পরবর্তীতে সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান পদে দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে তিনি পেশাজীবী সংগঠন নরসিংদী ও ডা. শফিকুর রহমানের নেতৃত্বাধীন জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ নরসিংদী শাখার সভাপতি'র দায়িত্ব পালন করছেন। 

বর্তমানে দুইজনই ভোটের মাঠে আছেন জনপ্রিয়তার শীর্ষে। এতে বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে খ্যাত নরসিংদীর ভোটারা পড়েছেন বিপাকে। এই দুই হেভিওয়েট প্রার্থীর সক্রিয় অংশগ্রহণে ভোটারদেরকে এদিকে ভাবিয়ে তুলচ্ছে অন্যদিকে পাচ্ছে বিশেষ গুরুত্ব।

স্থানীয় ভোটারদের সাথে কথা হলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক ভোটার বলেন, নরসিংদীর মাটি বিএনপি ও সাবেক এমপি মরহুম শামসুদ্দিন আহমেদ এছাকের ঘাঁটি। এই মাটিতে মিশে আছেন মরহুম শামসুদ্দিন আহমেদ এছাক। এ আসনে ৮ জন প্রার্থী হলেও মূল লড়াই হবে বিএনপির প্রার্থী খায়রুল কবির খোকন ও জামাতের প্রার্থী ইব্রাহিম ভূঁইয়া'র মধ্যে। কেননা এরা দু'জনই বৃহৎ দলের মনোনীত প্রার্থী। সেজন্য দুইজনকেই নরসিংদীর মানুষ কমবেশি চিনেন। ফলে দুই দলের প্রার্থীই সনাতন ধর্মাবলম্বী ভোটারদের ভোট তাদের ঝুলিতে নিতে মরিয়া হয়ে ওঠে পড়ে লেগেছেন। দিচ্ছেন নানা প্রতিশ্রুতি। তবে জয়ের মালা কে পড়বেন তা এখনও বলা যাচ্ছে না। তারা আরও বলেন, নরসিংদী ও মাধবদী মিলিয়ে প্রায় ৩৫ হাজারও বেশি সনাতন ভোটার রয়েছে। এই ভোট যে দলের পক্ষে যাবে তার জয়ী হওয়ার আশু সম্ভবনা বেশি দেখা যাবে। তাই এই আসনে জয়ী হওয়ার বিষয়ে সনাতন ভোটাররা এখন ফ্যাক্ট হয়ে দাঁড়িয়েছে। সাধারণ ভোটাররা মুখ না খুলেও ভোটাররা এবার হিসাব-নিকাশ করেই তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিবেন বলে মনে করেন ভোটাররা। 

এদিকে নেতাকর্মী ও সমর্থকরা তাদের নিজ দলের প্রার্থীর পক্ষে বিজয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী। সেজন্য দুই হেভিওয়েট প্রার্থীর নেতা-কর্মী ও সমর্থকরা পথসভা থেকে শুরু করে বাড়ি-বাড়ি গিয়ে ভোটারদের মন জয় করার চেষ্টা করছেন দিচ্ছেন উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি এবং সেই সাথে তাদের পছন্দের প্রার্থীদের পক্ষে ভোট বাড়াতে দিন-রাত মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন।