শরীয়তপুরে দুর্নীতি নিয়ে বক্তব্য থামিয়ে প্রার্থীকে হেনস্তা ও ছাত্র নেতার ওপর হামলা

Sanchoy Biswas
মিরাজ পালোয়ান, শরীয়তপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ৯:০৪ অপরাহ্ন, ৩০ জানুয়ারী ২০২৬ | আপডেট: ৩:৩৪ পূর্বাহ্ন, ২৩ মার্চ ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

শরীয়তপুরে 'জনগণের মুখোমুখি’ অনুষ্ঠান চলাকালে সুপ্রিম পার্টি মনোনীত প্রার্থীকে হেনস্তা এবং বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় এক নেতার ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে বিএনপির নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে।

শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) বিকেলে শরীয়তপুর সরকারি কলেজ মাঠে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) আয়োজিত ‘জনগণের মুখোমুখি’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে এ ঘটনা ঘটে।

আরও পড়ুন: আমি সেই দিন হবো ক্ষান্ত, যেই দিন রোগীরা হবে শান্ত: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

প্রত্যক্ষদর্শী ও দলীয় সূত্রে জানা যায়, অনুষ্ঠানে শরীয়তপুর-১ আসনের আটজন সংসদ সদস্য প্রার্থী অংশ নেন। তারা এলাকার উন্নয়ন, সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে মতামত ব্যক্ত করেন এবং ভোটারদের প্রশ্নের সরাসরি জবাব দেন।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য উপস্থাপনকালে শরীয়তপুর-১ আসনের বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির মনোনীত প্রার্থী নুর মোহাম্মদ মিয়া বলেন, “২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল।” তার বক্তব্য শেষ হতেই বিএনপির সমর্থকরা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়ে তার বক্তব্য থামিয়ে দিতে ও হেনস্তা করার চেষ্টা করেন।

আরও পড়ুন: উলিপুরে ঈদের দিন দুপুরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে লাখ টাকার ক্ষতি

এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি ও বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের বাংলা কলেজের নেতা মাহমুদ পারভেজ প্রতিবাদ করলে তার ওপর চড়াও হয়ে কিল-ঘুষি মারাসহ চেয়ার দিয়ে আঘাত করা হয়। পরিস্থিতি আরও অবনতির পর উপস্থিত অন্যান্য সংসদ সদস্য প্রার্থীদের অনুরোধ এবং পুলিশের দ্রুত হস্তক্ষেপে শান্তি ফিরিয়ে আনা হয়।

এই ঘটনায় উপস্থিত অনেকেই রাজনৈতিক সহনশীলতা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার প্রশ্ন তুলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির মনোনীত প্রার্থী নুর মোহাম্মদ মিয়া বলেন, “আজকের ঘটনাটি মানবাধিকার লঙ্ঘনের অংশ। নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড মানা হচ্ছে না। আমার বাকস্বাধীনতা আছে, আমি কথা বলব। দূর্নীতির সমস্যা সমাধানে আমরা কাজ করব। তারা যদি বাঁধা দেয়, তাহলে বুঝা যাবে তারা দূর্নীতির পক্ষে।”

গণ-অধিকার পরিষদের প্রার্থী ফিরোজ আহম্মেদ বলেন, “একজন প্রার্থী তার মতামত ব্যক্ত করতে পারেন। ভুল হলে জবাবদিহি করা যেতে পারে, কিন্তু হেনস্তা কাম্য নয়। এমন হামলা দেখে আমি মর্মাহত ও শংকিত।”

হামলার বিষয়ে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সাঈদ আহমেদ আসলাম বলেন, “ভোটাররা তথ্যভিত্তিক আলোচনা প্রত্যাশা করেছিল। তবে পরিস্থিতি দুঃখজনক, ভবিষ্যতে যেন পুনরাবৃত্তি না হয়।”

পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ আলম বলেন, “বক্তব্য দেওয়ার সময় হট্টগোল হয়েছিল। পরে বিষয়টি শান্ত করেছি। এ ব্যাপারে কোনো অভিযোগ পাইনি।”