জুলাইয়ের অর্জন কোনো পক্ষের একক সম্পত্তি নয়: পার্থ

Sadek Ali
বাংলাবাজার রিপোর্ট
প্রকাশিত: ৯:০৪ অপরাহ্ন, ০৪ অগাস্ট ২০২৬ | আপডেট: ১০:১১ অপরাহ্ন, ০৪ অগাস্ট ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের অর্জনকে কোনো ব্যক্তি বা রাজনৈতিক গোষ্ঠীর একক কৃতিত্ব হিসেবে দেখার সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান ও সংসদ সদস্য আন্দালিব রহমান পার্থ। তিনি বলেছেন, জুলাইয়ের আন্দোলনকে নিজেদের রাজনৈতিক পরিচয় তৈরির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার না করে এর মূল চেতনা ও গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষাকে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) রাজধানীতে বিএনপি আয়োজিত ‘গণতন্ত্র আদায়ে ১৭ বছরের অনিবার্য সংগ্রাম ও রক্তঝরা জুলাই জাগরণ’ শীর্ষক এক আলোচনাসভায় তিনি এসব কথা বলেন।

আরও পড়ুন: ছাত্রদলের পরিণতি ছাত্রলীগের চেয়েও খারাপ হবে: সারজিস

আন্দালিব রহমান পার্থ বলেন, যাদের কমিশনার বা মেম্বার হওয়ার যোগ্যতা ছিল না, তারাও জুলাইয়ের আন্দোলনকে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করে উপদেষ্টা হয়েছেন। তাঁর ভাষায়, ‘যাদের কমিশনার-মেম্বার হওয়ার যোগ্যতা ছিল না, তারা জুলাই বিক্রি করে উপদেষ্টা হয়েছিল।’

বিরোধী রাজনৈতিক পক্ষগুলোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, জুলাই ছাড়া বিএনপি ও অন্যান্য রাজনৈতিক দলের নেতাদের নিজস্ব রাজনৈতিক পরিচয় রয়েছে। কিন্তু কিছু পক্ষের ক্ষেত্রে জুলাইয়ের আন্দোলনই রাজনৈতিক পরিচয়ের প্রধান ভিত্তি হয়ে উঠেছে। তাই তারা জুলাইয়ের অর্জনকে নিজেদের মতো করে তুলে ধরতে চাইছে।

আরও পড়ুন: জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে দুই দিনের কর্মসূচি ঘোষণা ১১-দলীয় ঐক্যের

তিনি বলেন, ‘উনাদের তো জুলাই বিক্রি করতে হবে। কারণ জুলাই ছাড়া আমরা এখানে যারা বসা, আমাদের সবার পরিচয় আছে। কিন্তু জুলাই ছাড়া তো তাদের কোনো পরিচয় নেই। আমরা এখানে যারা বসা, আমাদের কোনো না কোনো রাজনৈতিক পরিচয় আছে। কিন্তু জুলাই ছাড়া তো তাদের চেনে না বাংলাদেশে।’

জুলাইয়ের আন্দোলনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণের বিষয়টি তুলে ধরে পার্থ বলেন, আন্দোলনের সাফল্যকে কোনো একক পক্ষের কৃতিত্ব হিসেবে দাবি করা ঠিক হবে না। তিনি এ প্রসঙ্গে ক্রিকেট ম্যাচের উদাহরণ দিয়ে বলেন, ‘ক্রিকেট খেলার একটা উদাহরণ আমি পার্লামেন্টে বলেছিলাম যে ছয় বলে হয়তো ১২ রান তারা করেছে, কিন্তু বাকি ৩০০ রান তো আমরা করেছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘সুতরাং জুলাই ব্যাপারটা তারা বিক্রি করবে। তারা বিক্রি করে এই আন্দোলনকেই ছোট করবে।’

আলোচনায় দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের ভূমিকার কথাও তুলে ধরেন বিজেপির চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, রাজনৈতিক বিতর্কে জামায়াতে ইসলামী বা অন্য কোনো দলের কর্মকাণ্ড নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পেছনের দীর্ঘ রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট যেন আড়ালে চলে না যায়।

আন্দালিব রহমান পার্থ বলেন, ‘জামায়াতে ইসলামী বা অন্যদের কথা বলতে বলতে আমরা যেন আসল ভিলেনের কথা ভুলে না যাই—যারা বাংলাদেশের সিস্টেমকে করাপ্টেড করেছে, যারা ১৭ বছর আমাদের ঘুমাতে দেয়নি, যাদের অত্যাচারে এই জুলাই এসেছে।’

তিনি বলেন, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অনিয়ম, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর দুর্বলতা এবং মানুষের রাজনৈতিক অধিকার সংকুচিত হওয়ার মতো বিষয়গুলোই একসময় জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানের পটভূমি তৈরি করেছিল। তাই জুলাইয়ের চেতনা বলতে শুধু একটি নির্দিষ্ট সময়ের আন্দোলনকে বোঝালে এর রাজনৈতিক তাৎপর্য সীমিত হয়ে যাবে।

আলোচনায় বক্তারা বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের বিভিন্ন পর্যায়, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সংগ্রাম এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন। তাঁরা গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী করা, রাজনৈতিক অধিকার নিশ্চিত করা এবং ভবিষ্যতে রাষ্ট্র পরিচালনায় জবাবদিহি প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্ব দেন।

পার্থের বক্তব্যে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের কৃতিত্ব ও রাজনৈতিক উত্তরাধিকার নিয়ে চলমান বিতর্কও উঠে আসে। তাঁর বক্তব্যের মূল সুর ছিল—জুলাইয়ের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক বিভাজন বাড়ানোর পরিবর্তে এর গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন এবং আন্দোলনের প্রকৃত ইতিহাসকে যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা জরুরি।