জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবসে বান্দরবানের চার পর্যটনকেন্দ্রে প্রবেশ ফ্রি

Sadek Ali
বাংলাবাজার রিপোর্ট
প্রকাশিত: ৮:১৮ অপরাহ্ন, ০৪ অগাস্ট ২০২৬ | আপডেট: ১০:১৬ অপরাহ্ন, ০৪ অগাস্ট ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস ২০২৬ উপলক্ষে বান্দরবানের চারটি জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্রে দর্শনার্থীদের জন্য বিনা মূল্যে প্রবেশের সুযোগ দিয়েছে জেলা প্রশাসন। আগামীকাল বুধবার (৫ আগস্ট) দিনভর জেলা প্রশাসনের ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত এসব পর্যটনকেন্দ্রে কোনো প্রবেশমূল্য দিতে হবে না দর্শনার্থীদের।

বিনা মূল্যে প্রবেশের সুযোগ পাওয়া পর্যটনকেন্দ্রগুলো হলো—নীলাচল, মেঘলা, প্রান্তিক লেক ও চিম্বুক। জেলা প্রশাসনের এ উদ্যোগের ফলে দিবসটি উপলক্ষে স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা পর্যটকেরাও বান্দরবানের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগের সুযোগ পাবেন।

আরও পড়ুন: উলিপুরে এনামুল হক ক্বারী নামে ধর্ষকের ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সকালে বান্দরবান জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক এস এম হাসান স্বাক্ষরিত এক গণবিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস ২০২৬ উপলক্ষে বান্দরবান পার্বত্য জেলা প্রশাসনের ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত নীলাচল, মেঘলা, প্রান্তিক লেক ও চিম্বুক পর্যটনকেন্দ্র ৫ আগস্ট সর্বসাধারণের জন্য বিনা মূল্যে প্রবেশের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।

আরও পড়ুন: পাথরঘাটায় আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের ৫ নেতাকর্মী আটক

বান্দরবানের অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটনকেন্দ্র নীলাচল শহর থেকে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার দূরে টাইগারপাড়ায় পাহাড়ের চূড়ায় অবস্থিত। এখান থেকে পাহাড়ের সারি, মেঘ ও সবুজ প্রকৃতির মনোরম দৃশ্য উপভোগ করা যায়। অন্যদিকে মেঘলা পর্যটনকেন্দ্রে রয়েছে লেক, ঝুলন্ত সেতু ও পাহাড়ঘেরা প্রাকৃতিক পরিবেশ। প্রান্তিক লেকও পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয় একটি স্থান। আর চিম্বুক পাহাড় বান্দরবানের অন্যতম পরিচিত পর্যটন স্পট, যেখান থেকে পাহাড়ি ভূপ্রকৃতি ও বিস্তীর্ণ প্রাকৃতিক দৃশ্য উপভোগের সুযোগ রয়েছে।

জেলা প্রশাসনের এমন উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা। তাদের মতে, বিশেষ দিবসকে কেন্দ্র করে পর্যটনকেন্দ্রে বিনা মূল্যে প্রবেশের সুযোগ তৈরি হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে ভ্রমণের আগ্রহ বাড়বে। একই সঙ্গে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে পর্যটকের উপস্থিতি বাড়লে স্থানীয় পর্যটন ব্যবসা ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য খাতও উপকৃত হবে।

পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, বান্দরবানের পর্যটন অর্থনীতি মূলত পর্যটকদের উপস্থিতির ওপর নির্ভরশীল। পর্যটক বাড়লে হোটেল-মোটেল, রেস্তোরাঁ, পরিবহন, স্থানীয় পণ্য ও ক্ষুদ্র ব্যবসাসহ বিভিন্ন খাতে এর ইতিবাচক প্রভাব পড়ে। ফলে একটি দিনের জন্য হলেও পর্যটনকেন্দ্রগুলো বিনা মূল্যে উন্মুক্ত রাখার সিদ্ধান্ত স্থানীয় অর্থনীতিতে বাড়তি গতি সঞ্চারে ভূমিকা রাখতে পারে।

স্থানীয় বাসিন্দাদেরও আশা, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে জেলা প্রশাসনের এ উদ্যোগের ফলে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে অনেকে বান্দরবানের পর্যটনকেন্দ্রগুলো ঘুরে দেখার সুযোগ পাবেন। বিশেষ করে প্রবেশমূল্যের কারণে যারা অনেক সময় ভ্রমণ পরিকল্পনা থেকে পিছিয়ে যান, তাদের জন্য এ সুযোগটি বাড়তি আকর্ষণ তৈরি করবে।

জেলা প্রশাসনের এ উদ্যোগের মধ্য দিয়ে দিবসটি পালনের পাশাপাশি বান্দরবানের পর্যটন সম্ভাবনাকেও তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের প্রত্যাশা, ভবিষ্যতেও বিশেষ দিবস ও সরকারি উদ্যোগের সঙ্গে পর্যটনকে যুক্ত করে স্থানীয় পর্যটন খাতকে আরও সম্প্রসারণের কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে।