ফরিদপুরে ডিবি হেফাজতে মৃত্যু: তদন্তে ১১ জন পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ

Sadek Ali
ফরিদপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ৬:২৫ অপরাহ্ন, ০৪ অগাস্ট ২০২৬ | আপডেট: ৭:৫৫ অপরাহ্ন, ০৪ অগাস্ট ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

ফরিদপুরের আলোচিত ডিবি হেফাজতে প্রান্ত হত্যার ঘটনার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্তকারী কর্মকর্তা। এর আগে ২০ জুন, বিকেল ৫টার দিকে প্রান্তকে ফরিদপুর জেলার মধুখালীতে তার বাড়ি থেকে বের হতেই গোয়েন্দা শাখার একটি দল তার কাছ থেকে মাদক উদ্ধারের দাবি করে তাকে আটক করে। পরদিন সকালে ডিবি হেফাজতে তার মৃত্যু হয়।

এ ঘটনার পর পরই জেলা ব্যাপী আলোচনার সৃষ্টি হয়। এক পর্যায়ে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে তিন সদস্যের এক তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। এরপর পুলিশি তদন্তে জানা গেছে, গত মাসে ফরিদপুরের পুলিশ ডিটেকটিভ ব্রাঞ্চের (ডিবি) হেফাজতে মারা যাওয়া আইন বিভাগের ছাত্র মির্জা ইশতিয়াক আহমেদ প্রান্তের বিরুদ্ধে আনা মাদকের অভিযোগগুলো সাজানো ছিল।

আরও পড়ুন: বাগেরহাটে একই পরিবারের তিনজনের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার

অভ্যন্তরীণ তদন্ত অনুযায়ী, ফরিদপুরের সাবেক ছাত্রলীগ নেতা মধুখালী চিনিকলের কর্মচারী প্রান্তকে তার পরিবারের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের চেষ্টার অংশ হিসেবে ডিবি আটক করেছিল। তদন্ত কমিটি এই ঘটনায় তাদের আচরণের জন্য ফরিদপুর জেলা ডিটেকটিভ ব্রাঞ্চের ১১ জন সদস্যের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। তারা হলেন ইন্সপেক্টর মো. আলমগীর হোসেন, সাব-ইন্সপেক্টর মো. আহাদুজ্জামান ও মোতাহার আলী, সহকারী সাব-ইন্সপেক্টর মো. হাজিকুল ইসলাম, কনস্টেবল আবু সুফিয়ান, রাকিব মোল্লা, মনিরুজ্জামান, মো. রাকিবুল ইসলাম রিন্টু, ফরহাদ হোসেন মিয়া ও চম্পা হালদার এবং চালক মো. সবুজ মোল্লা।

এর আগে ২৭ বছর বয়সী প্রান্তকে ২০জুন ডিবি র একটি টিম মধুখালী তার বাড়ির সামনে থেকে মাদকসহ গ্রেপ্তার দেখায়। পরবর্তীতে ২১ জুন ডিবি হেফাজতে সে মারা যান। তবে একুশে জুন সকালে পরিবারের সদস্যরা ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রান্তর লাশ দেখতে পায়। এরপর তার মৃত্যুতে প্রতিবাদ শুরু হয় এবং পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, তাকে ডিবি হেফাজতে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: ঝিনাইদহে সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি আহত

ইশতিয়াকের বিধবা মা খাদিজা আক্তার বলেন, ২০ জুন দিবাগত রাতে টাকার বিনিময়ে ইশতিয়াককে ছেড়ে দেওয়ার জন্য তার আত্মীয়  সাথে ডিবি পুলিশের কথা হয়। এ সময় ডিবি পুলিশ জানায় এ ছেলেকে ছাড়া হবে না। প্রয়োজনে সকালে টাকা পয়সা নিয়ে ফরিদপুর আসেন। সেই মোতাবেক খাদিজা আক্তার সকালে গিয়ে তার ছেলের লাশ দেখতে পান। তিনি এই হত্যার কান্ডের ন্যায্য বিচার চান।

ফরিদপুরের পুলিশ সুপার শাহরিয়ার মোহাম্মদ মিয়াজী মঙ্গলবার ( ৪ আগস্ট) বিকেলে সাংবাদিকদের বলেন, আভ্যন্তরীণ তদন্তের আলোকে ওসিসহ ডিবি পুলিশের ১১জন সদস্যের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা দায়ের করে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। সেই আলোকে ফরিদপুরের পুলিশ সুপার ইতোমধ্যে প্রতিবেদনসহ এ সুপারিশপত্র পুলিশের সদর দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে ওসিসহ ডিবি পুলিশের ১১জন সদস্যের সকলকেই পুলিশ লাইনে ক্লোজ করা হয়েছে।