জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর জাতিকে পথ দেখাবে: ড. ইউনূস

Any Akter
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ১:১৪ অপরাহ্ন, ০৫ অগাস্ট ২০২৬ | আপডেট: ৩:৫৭ পূর্বাহ্ন, ০৬ অগাস্ট ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরকে শুধু ইতিহাস সংরক্ষণের স্থান নয়, বরং নতুন বাংলাদেশ গঠনের অনুপ্রেরণার কেন্দ্র হিসেবে বর্ণনা করেছেন সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেছেন, জাতি পথ হারালে এই জাদুঘর থেকেই নতুন পথের দিশা মিলবে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্ম দেশ গঠনের প্রেরণা পাবে। বুধবার (৫ আগস্ট) রাজধানীতে জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

অধ্যাপক ইউনূস বলেন, “আমরা পথ হারিয়ে ফেললে এখানে এসে পথ খুঁজে নেবো। আমাদের চিন্তায় যদি কোনো গাফিলতি আসে, এখান থেকেই তার ঠিকানা খুঁজে আবার নতুন করে যাত্রা শুরু করবো।”

আরও পড়ুন: ভিসার নামে প্রতারণা থেকে সতর্ক থাকার আহ্বান ভারতীয় হাইকমিশনের

তিনি বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নানা ধরনের জাদুঘর থাকলেও এই জাদুঘরের বৈশিষ্ট্য ভিন্ন। কারণ, এখানে বহু বছরের পুরোনো ইতিহাস নয়; বরং গণঅভ্যুত্থানের ঘটনাগুলোর সঙ্গে সঙ্গেই সংশ্লিষ্ট দলিল, স্মারক, নিদর্শন এবং মানুষের অনুভূতি সংগ্রহ করে সংরক্ষণ করা হয়েছে।

তার ভাষায়, “ঘটনা ঘটেছে আর আমরা তাৎক্ষণিকভাবে সেই ঘটনার প্রতিটি নমুনা ও ইতিহাস সংগ্রহ করে জাদুঘরে নিয়ে এসেছি। এটাই আমাদের ইতিহাস সংরক্ষণের এক নতুন অধ্যায়।”\

আরও পড়ুন: বাংলাদেশ আর কখনও নির্ভরশীল রাষ্ট্র হবে না: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

জুলাই আন্দোলনে অংশ নেওয়া তরুণদের আত্মত্যাগের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, অনেকেই কোনো পরিকল্পনা ছাড়াই নিজেদের অনুভূতি লিখে গেছেন। পরিবারের আপত্তি উপেক্ষা করে কেন তারা রাজপথে নেমেছিলেন, তাও চিঠিতে তুলে ধরেছেন। এসব দলিল ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

সাবেক প্রধান উপদেষ্টা প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন, দেশের প্রতিটি স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, তরুণ-তরুণী এবং সাধারণ নাগরিক অন্তত একবার এই জাদুঘর পরিদর্শন করবেন। পাশাপাশি তিনি আহ্বান জানান, দর্শনার্থীরা যেন নিজেদের স্বপ্ন, প্রত্যাশা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাও লিখে রেখে যান, যা ভবিষ্যতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ দলিল হয়ে উঠতে পারে।

অধ্যাপক ইউনূস আরও বলেন, ভবিষ্যতে এই জাদুঘর শুধু স্মৃতি সংরক্ষণের স্থান হিসেবে সীমাবদ্ধ থাকবে না; এটি সংস্কৃতি, শিল্প, সংগীত, চিত্রকলা ও অন্যান্য সৃজনশীল কর্মকাণ্ডেরও একটি প্রাণকেন্দ্রে পরিণত হবে।

জাদুঘরে নির্মিত প্রতীকী কবরগুলোর প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রতিটি কবরের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট শহীদের পরিচয় ও আত্মত্যাগের ইতিহাস সংরক্ষণ করা হবে, যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম জানতে পারে তারা কীভাবে এবং কেন জীবন উৎসর্গ করেছিলেন।