শ্রীপুর উপজেলা নির্বাচনে আলোচনায় মাহফুল হাসান হান্নান

Sadek Ali
মহিউদ্দিন আহমেদ, শ্রীপুর
প্রকাশিত: ৩:১০ অপরাহ্ন, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ | আপডেট: ৫:২৯ অপরাহ্ন, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

আসন্ন শ্রীপুর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা তুঙ্গে। সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকায় উঠে এসেছে উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মাহফুল হাসান হান্নানের নাম। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডে সাধারণ ভোটারদের মুখে মুখে তাঁর নাম শোনা যাচ্ছে।

মাহফুল হাসান হান্নানের রাজনৈতিক পথচলা শুরু হয় অল্প বয়সেই। ১৯৭৯ সালে দ্বিতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় তিনি বদনীভাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র ছিলেন। সে সময় নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেওয়ার ঘটনায় বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের শাসনের মুখে পড়লেও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে সরে যাননি। পরবর্তীতে কালিয়াকৈরে আয়োজিত এক নির্বাচনী সমাবেশে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান  মেজর জিয়াউর রহমানের উপস্থিতিতে স্থানীয় ছাত্রদের নিয়ে মিছিলে অংশগ্রহণ করেন। 

আরও পড়ুন: বরিশালে তথ্য কর্মকর্তাদের সঙ্গে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রীর মতবিনিময়

এরপর দীর্ঘ সময় ধরে দলীয় রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত রয়েছেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি পদ-পদবীর চেয়ে সাংগঠনিক কাজ ও মাঠপর্যায়ের তৎপরতায় গুরুত্ব দিয়েছেন বলে দলীয় সূত্রে জানা যায়। বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সাবেক সদস্য চৌধুরী তানভীর আহমেদ সিদ্দিকীর সঙ্গে থেকে এলাকায় বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত ছিলেন। স্থানীয়দের দাবি, রাস্তাঘাট উন্নয়ন ও প্রত্যন্ত এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ সম্প্রসারণে তাঁর ভূমিকা রয়েছে।

বর্তমানে তিনি শ্রীপুর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি কেন্দ্রীয় সমবায় সমিতির সভাপতি হিসেবেও যুক্ত আছেন। সদ্য সমাপ্ত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গাজীপুর-৩ আসনে অধ্যাপক এসএম রফিকুল ইসলামের প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট হিসেবে সফলভাবে দায়িত্বপালন করেন। নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যের আস্থাভাজন হিসেবে নিজেকে তৈরী করেছেন।

আরও পড়ুন: শ্রমিক থেকে শ্রমিক আন্দোলনের অগ্রনায়ক ফরিদুল ইসলাম ফরিদ

স্থানীয় কয়েকজন ভোটারের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তিনি এলাকায় একটি ইতিবাচক ভাবমূর্তি গড়ে তুলেছেন। শিক্ষা, ক্রীড়া ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে সহযোগিতা এবং অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর কারণে তরুণ ও সাধারণ ভোটারদের মধ্যে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা তৈরি হয়েছে বলে অনেকে মনে করেন।

উপজেলার কয়েকজন প্রবীণ নাগরিক বলেন, উন্নয়ন ও সুশাসনের জন্য কর্মঠ ও স্বচ্ছ ভাবমূর্তির নেতৃত্ব প্রয়োজন। তাদের মতে, প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করতে সক্ষম এমন প্রার্থীই জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারবেন, হান্নান এ পদে যোগ্য হিসেবে আমরা তাকে সমর্থন করছি।

তরুণ ভোটারদের একটি অংশ জানায়, তারা পরিবর্তন ও গতিশীল নেতৃত্ব প্রত্যাশা করছে। আধুনিক ও পরিকল্পিত উন্নয়নের জন্য শিক্ষিত ও দূরদর্শী নেতৃত্ব জরুরি বলে তারা মত দেন।

এ বিষয়ে মাহফুল হাসান হান্নান বলেন, “জনগণ চাইলে এবং দলীয় সিদ্ধান্ত এলে আমি অবশ্যই নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়ে ইতিবাচকভাবে ভাববো। আমার লক্ষ্য সবসময়ই ছিল মানুষের সেবা করা।”