শ্রীপুরে ছুটির দিনে শপিংমল-বিপণি বিতানে ঈদের কেনাকাটায় উপচেপড়া ভিড়

Sanchoy Biswas
মহিউদ্দিন আহমেদ, শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ৬:৪৯ অপরাহ্ন, ১৩ মার্চ ২০২৬ | আপডেট: ৮:১০ অপরাহ্ন, ১৩ মার্চ ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

আসন্ন ঈদুল ফিতর ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে ছুটির দিনে গাজীপুর-এর শ্রীপুরের মাওনা চৌরাস্তায় বিভিন্ন শপিংমল ও বিপণি বিতানে ক্রেতাদের উপচেপড়া ভিড় দেখা যাচ্ছে। কর্মব্যস্ত মানুষরা সাপ্তাহিক ছুটির সুযোগে পরিবার-পরিজন নিয়ে কেনাকাটায় বের হওয়ায় মার্কেটগুলোতে বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে। তবে ভিড়ের পাশাপাশি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ও পোশাকের দাম গত বছরের তুলনায় ১৫ থেকে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যাওয়ায় ক্রেতাদের মধ্যে অসন্তোষও লক্ষ্য করা গেছে।

শুক্রবার ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটির দিন হওয়ায় উপজেলার মাওনা চৌরাস্তা, ইয়াকুব আলী মাস্টার টাওয়ার, মালেক মাস্টার মার্কেট ও ভাই ভাই সিটি কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন বিপণি বিতানে সকাল থেকেই ক্রেতাদের আনাগোনা বাড়তে থাকে। দুপুরের পর এসব এলাকায় মানুষের ঢল নামে। দোকানগুলোতে পোশাক, জুতা, কসমেটিকসসহ ঈদসামগ্রীর কেনাকাটায় ব্যস্ত সময় পার করেন ক্রেতারা। পরিবারের সদস্যদের জন্য থ্রি-পিস, স্যুট, শাড়ি, পাঞ্জাবি ও অন্যান্য পোশাক কিনতে ভিড় করতে দেখা যায়।

আরও পড়ুন: শরীয়তপুরে আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ঘর নির্মাণের অভিযোগ প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে

ঈদ যত ঘনিয়ে আসছে ততই মার্কেটে ভিড় বাড়ছে। অনেকেই অফিসের ব্যস্ততার কারণে অন্য সময় বের হতে পারেন না। তাই ছুটির দিনকে কাজে লাগিয়েই কেনাকাটা সারতে হচ্ছে। তবে বেশিরভাগ পণ্যের দাম গত বছরের তুলনায় কিছুটা বেশি বলে জানান ক্রেতারা। মাওনা চৌরাস্তার ইয়াকুব আলী মাস্টার টাওয়ারে কেনাকাটা করতে আসা শামসুদ্দিন নামের এক ক্রেতা বলেন, ‘পরিবারের সবার জন্য কাপড় কিনতে এসেছি। কিন্তু বেশিরভাগ দোকানেই দাম অনেক বেশি বলা হচ্ছে। দরদাম না করলে কেনা কঠিন হয়ে যায়।’

আরেক ক্রেতা সালমা আক্তার বলেন, ভিড়ের কারণে অনেক দোকানে স্বচ্ছন্দ্যে পণ্য দেখা সম্ভব হচ্ছে না। তবুও ঈদের আনন্দে পরিবারের জন্য কেনাকাটা করতে এসেছেন।

আরও পড়ুন: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগরে র‍্যাবের অভিযান, ইয়াবাসহ আটক ২

অন্যদিকে বিক্রেতারা বলছেন, ছুটির দিন হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই ক্রেতার চাপ বেশি থাকে। ঈদের আগে এই সময়টায় বিক্রি ভালো হয়। ভাই ভাই সিটি কমপ্লেক্সের জামাল নামের এক বিক্রেতা বলেন, ‘গত কয়েকদিন তুলনামূলক বিক্রি কম ছিল। কিন্তু ছুটির দিনে হঠাৎ করে ক্রেতার চাপ বেড়ে যায়। অনেকেই পরিবারের সবাইকে নিয়ে কেনাকাটা করতে আসছেন।’

তবে ব্যবসায়ীদের দাবি, পণ্যের দাম অযৌক্তিকভাবে বাড়ানো হয়নি। পাইকারি বাজারে দাম বেশি হওয়ায় খুচরা বাজারেও কিছুটা প্রভাব পড়েছে। তারা আশা করছেন, ঈদের আগের শেষ সপ্তাহে মার্কেটগুলোতে ক্রেতার ভিড় আরও বাড়বে এবং কেনাবেচাও জমে উঠবে।

শিশুদের পোশাকের দোকানগুলোতেও দেখা গেছে বাড়তি ভিড়। ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা নিজেরাই পছন্দের জামা বেছে নিচ্ছে। কারও চোখে সুপারহিরোর ছবি, কারও পছন্দ রাজকন্যার গাউন। অভিভাবকেরা একদিকে বাজেট সামলাচ্ছেন, অন্যদিকে সন্তানের মুখে হাসি ধরে রাখার চেষ্টা করছেন।

তবে কেনাকাটার ভিড়ের মধ্যেও নারীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন কয়েকজন ক্রেতা। এক নারী ক্রেতা বলেন, ‘ভিড়ের মধ্যে অনেক সময় অস্বস্তিকর পরিস্থিতির মুখে পড়তে হয়। কেউ কেউ সুযোগ নিয়ে অসভ্য আচরণ করে, এতে স্বাভাবিকভাবে কেনাকাটা করা কঠিন হয়ে পড়ে।’

মার্কেটগুলোতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তাকর্মী না থাকা এবং নারী নিরাপত্তাকর্মীর অভাবের কথাও জানিয়েছেন তারা। ফলে সমস্যায় পড়লেও অনেক নারী সরাসরি অভিযোগ জানাতে দ্বিধা বোধ করেন।

এ ছাড়া ট্রায়াল রুমের সংকটও একটি বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেক দোকানে পর্যাপ্ত ট্রায়াল রুম না থাকায় নারীদের দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। আবার কিছু দোকানে ট্রায়াল রুমের নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন ক্রেতারা।

তবে বিক্রেতারা বলছেন, ঈদের মৌসুমে ক্রেতার চাপ অনেক বেড়ে যাওয়ায় কিছুটা ভোগান্তি তৈরি হয়। তারপরও অধিকাংশ মার্কেটে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।