পটুয়াখালীতে এলপিজি দামে আগুন, রান্নাঘরে ফিরছে লাকড়ির চুলা

Sanchoy Biswas
অপূর্ব সরকার, পটুয়াখালী প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ৫:৩৮ অপরাহ্ন, ১৬ এপ্রিল ২০২৬ | আপডেট: ৩:২০ অপরাহ্ন, ০৩ অগাস্ট ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগত জলপথ হরমুজ প্রণালীর ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা ও ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞার প্রভাবে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দোলাচল তৈরি হয়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে উপকূলীয় জেলা পটুয়াখালীতে। এলপিজি গ্যাসের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি ও সরবরাহ সংকটে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা হয়ে উঠেছে চরম দুর্বিষহ।

বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) সকালে পটুয়াখালী শহরের মাখন এন্টারপ্রাইজ, সততা ও রহিম এন্টারপ্রাইজসহ বিভিন্ন ডিলারের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ঢাকার ডিপোগুলোতে জাহাজ চলাচলের ঝুঁকি ও বীমা ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় এলপিজি আমদানিতে ধীরগতি দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে দেশে জ্বালানি তেলের সংকট থাকায় সময়মতো সিলিন্ডার পৌঁছানো যাচ্ছে না।

আরও পড়ুন: চট্টগ্রামে তীব্র গ্যাস সংকট: উৎপাদন কমেছে শিল্পে, ভোগান্তিতে লাখো মানুষ

বর্তমানে জেলার খুচরা বাজারে ডেল্টা গ্যাস বিক্রি হচ্ছে ১৮২০ টাকায়, যমুনা ১৯৫০ টাকা এবং বসুন্ধরা গ্যাস ২০০০ থেকে ২১০০ টাকায়। মাত্র কয়েক সপ্তাহের ব্যবধানে দাম বেড়েছে ২০০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত। এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধিতে যেমন বিপাকে পড়েছেন সাধারণ ক্রেতারা, তেমনি বিক্রেতারাও পড়েছেন চাহিদা হ্রাসের চাপে। যেখানে আগে সিলিন্ডার বিক্রিতে ব্যস্ততা ছিল, সেখানে এখন অলস সময় কাটছে দোকানগুলোতে।

গ্যাসের চুলা নিভে যাওয়ায় শহরের কাটমহল, চরপাড়া ও মহিলা আনসার ক্যাম্প এলাকার বাসিন্দারা বিকল্প হিসেবে ঝুঁকছেন লাকড়ির দিকে। এতে হঠাৎ করেই বেড়ে গেছে জ্বালানি কাঠের দাম। ব্যবসায়ীদের তথ্যমতে, চাম্বল গাছের লাকড়ি এখন প্রতি মণ ৩০০ টাকা (আগে ২০০), রেন্ডি ২০০ টাকা (আগে ১৫০), মেহগনি ২৫০ টাকা (আগে ২০০) এবং স-মিলের কাঠের অবশিষ্টাংশ ১৮০ টাকা (আগে ১৫০) দরে বিক্রি হচ্ছে।

আরও পড়ুন: বাকেরগঞ্জে রহস্যজনক বিস্ফোরণ, ৩ জন দগ্ধ

শুধু ঘরোয়া রান্নাই নয়, হোটেল-রেস্তোরাঁগুলোও গ্যাস ছেড়ে নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে লাকড়ির ওপর। শহরের বনফুল রেস্তোরাঁসহ বিভিন্ন খাবারের দোকানে প্রতিদিন গড়ে ৫ থেকে ৯ মণ লাকড়ি ব্যবহৃত হচ্ছে, যা আগে গ্যাসেই সম্পন্ন হতো।

এ সংকটের প্রভাব ছড়িয়ে পড়েছে বিদ্যুৎ ও পরিবহন খাতেও। জ্বালানি ঘাটতির কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে, বেড়েছে লোডশেডিং। একই সঙ্গে পণ্যবাহী যান চলাচল কমে যাওয়ায় চাল, ডাল ও সবজিসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে।

বাজারে আসা স্থানীয় শিক্ষক সাধন দাস ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “বিদ্যুতের লোডশেডিং, গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধির কারণে গ্যাসের চুলা ব্যবহারে আগ্রহ কমে গেছে, আবার বাজারে সবকিছুর দামও বেশি—আমরা এখন যেন ত্রিমুখী সংকটে আটকা পড়েছি।”

এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় পটুয়াখালীর মতো উপকূলীয় জেলাগুলোতে দ্রুত নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো জরুরি। সৌরশক্তি ও বায়োগ্যাসের মতো বিকল্প উৎসে বিনিয়োগ বাড়ানো না গেলে আমদানিনির্ভর এই জ্বালানি সংকট ভবিষ্যতে আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।