বগুড়ায় প্রধানমন্ত্রীর একাধিক কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন

Sanchoy Biswas
বগুড়া প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ৬:২৯ অপরাহ্ন, ২০ এপ্রিল ২০২৬ | আপডেট: ৬:২৯ অপরাহ্ন, ২০ এপ্রিল ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

বগুড়ায় গতকাল (২০ এপ্রিল) সোমবার গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কর্তৃক একাধিক কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন করা হয়।

বগুড়া সফরে এসে ব্যস্ত সময় পার করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ সকাল সোয়া ১১টার সময় আইনজীবী সমিতি বারের নতুন ভবনের ফলক উন্মোচন করেন। বগুড়া, ঝিনাইদহ, কুষ্টিয়া, নাটোর, রাজশাহী, মাগুরা ও যশোর জেলার জেলা ও দায়রা জজ আদালতে ই-বেইলবন্ড কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন করেন।

আরও পড়ুন: ফরিদপুরে ফ্ল্যাগভিত্তিক আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা নিয়ে বন্যা প্রস্তুতিমূলক মহড়া অনুষ্ঠিত

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সকালের শুরুতেই ১১টার পরপরই বগুড়া সার্কিট হাউস থেকে পায়ে হেঁটে বের হন। এসময় দলীয় নেতা-কর্মীদের মাঝে বাড়তি আনন্দের উচ্ছ্বাস সৃষ্টি হয়। এতে হাজার হাজার নেতা-কর্মী তাঁকে স্বাগত জানান। কেউ ফুল ছিটিয়ে তাঁকে বরণ করেন, আর চারপাশে স্লোগান ও আনন্দ-উচ্ছ্বাসে মুখরিত হয়ে ওঠে পরিবেশ। প্রধানমন্ত্রী হাত নেড়ে সবাইকে শুভেচ্ছা জানান এবং অনেকেই তাঁর সঙ্গে হাত মেলানোর চেষ্টা করেন। প্রায় পাঁচ মিনিটের এই পথ হেঁটে অতিক্রম করে বগুড়া জেলা জজ আদালত চত্বরে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। সেখানে আইনজীবী সমিতি বারের নতুন ভবনের ফলক উন্মোচন এবং জেলা জজ আদালতে ই-বেইলবন্ড (অনলাইনে জামিননামা দাখিল) কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। এরপর বগুড়া পৌরসভাকে ১৩তম নবগঠিত সিটি কর্পোরেশন হিসেবে আনুষ্ঠানিক শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন। এর মধ্য দিয়ে দেশের সিটি কর্পোরেশনের তালিকায় নতুন করে যুক্ত হলো উত্তরাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ এই শহর। ঘোষণার পর তিনি ফলক উন্মোচন করেন ও পৌরসভা চত্বরে বৃক্ষরোপণ করেন।

এসময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, বগুড়াকে সিটি কর্পোরেশন হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। এখন নাগরিকদের দায়িত্ব নিজেদের শহরকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা। তিনি বলেন, “আমি আসার পথে অনেক জায়গায় ময়লা দেখেছি। আপনারা আপনাদের শহরকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখবেন। প্রশাসন আপনাদের সার্বিক সহযোগিতা করবে।”

আরও পড়ুন: শরীয়তপুরে নিখোঁজের ২৫ দিন পরে পুরাতন কবরের মধ্যে মিলল ভ্যানচালকের মরদেহ

প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকে ঘিরে বগুড়া শহর ও আশপাশে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। সকাল থেকেই শহরের বিভিন্ন প্রবেশমুখে দলীয় নেতা-কর্মীরা ব্যানার, ফেস্টুন নিয়ে ভিড় করেন তাঁকে একনজর দেখার জন্য। সিটি কর্পোরেশন ঘোষণার খবর ছড়িয়ে পড়তেই শহরজুড়ে আনন্দের উচ্ছ্বাস তৈরি হয়। বিভিন্ন এলাকায় মিষ্টি বিতরণ, শুভেচ্ছা বিনিময় ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করতে দেখা যায় অনেককে। দীর্ঘদিন ধরে বগুড়াকে সিটি কর্পোরেশনে উন্নীত করার দাবি জানিয়ে আসা নাগরিক সমাজ, ব্যবসায়ী সংগঠন ও বিভিন্ন পেশাজীবী মহল এ ঘোষণাকে ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখছেন।

বগুড়া উত্তরাঞ্চলের প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত। ঢাকা-রংপুর মহাসড়কের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা এই শহর উত্তরবঙ্গের অন্যতম বাণিজ্যকেন্দ্র। কৃষিপণ্য সরবরাহ, পরিবহন, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও ব্যবসা-বাণিজ্যে বগুড়ার ওপর নির্ভরশীল আশপাশের একাধিক জেলা। সেই তুলনায় নগরসেবার পরিধি দীর্ঘদিন ধরেই সীমিত ছিল বলে অভিযোগ ছিল নাগরিকদের।

বগুড়ার ইতিহাসবিদরা জানিয়েছেন, ১৮৭৬ সালে প্রতিষ্ঠিত বগুড়া পৌরসভা দেশের অন্যতম প্রাচীন পৌর প্রতিষ্ঠান। পরে ধাপে ধাপে এর আয়তন বাড়ানো হয়। ২০০৬ সালে আশপাশের ৪৮টি মৌজা যুক্ত করে পৌর এলাকার আয়তন প্রায় ৬৯ দশমিক ৫৬ বর্গকিলোমিটারে উন্নীত করা হয়। এরপর থেকেই এটিকে সিটি কর্পোরেশনে রূপান্তরের দাবি জোরালো হতে থাকে। সিটি কর্পোরেশন হওয়ায় এখন বড় পরিসরে উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ, সড়ক সম্প্রসারণ, ড্রেনেজ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ, স্ট্রিট লাইটিং ও ডিজিটাল নাগরিকসেবা সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হবে। একই সঙ্গে বাড়বে সরকারি বরাদ্দ পাওয়ার সম্ভাবনাও। তাদের দাবি, বগুড়ার যানজট, জলাবদ্ধতা, ফুটপাত দখল, অপরিকল্পিত বাজারব্যবস্থা, বাস টার্মিনাল সংকট ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধানে কার্যকর পরিকল্পনা নিতে হবে। বগুড়া সিটি কর্পোরেশন মর্যাদা পাওয়ায় নতুন বিনিয়োগ, আবাসন, শিল্প ও বাণিজ্য সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হবে। এতে কর্মসংস্থান বাড়বে। এজন্য বগুড়াবাসীর কাছে আজকের দিনটি শুধু প্রশাসনিক ঘোষণা নয়, একটি নতুন নগর গড়ার সূচনা।

উক্ত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানগুলোতে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম (এমপি), প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন, বগুড়া-৬ সদর আসনের (এমপি) রেজাউল করিম বাদশা, বগুড়া-৪ (কাহালু-নন্দীগ্রাম) আসনের (এমপি) আলহাজ মোশারফ হোসেন, বগুড়া-৫ (শেরপুর-ধুনট) আসনের (এমপি) গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ, বগুড়া-৩ (আদমদীঘি-দুপচাঁচিয়া) আসনের (এমপি) আব্দুল মহিত তালুকদার, বগুড়া-৭ (গাবতলী-শাজাহানপুর) আসনের (এমপি) মোরশেদ মিলটন, জেলা পরিষদ প্রশাসক আহসানুল তৈয়ব জাকির, জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমান, পৌর প্রশাসক রাজিয়া সুলতানাসহ অনেকে।

এছাড়াও বেলা পৌনে ১২টার সময় শহর থেকে গাবতলীর বাগবাড়ীর উদ্দেশ্যে রওনা হয়ে ১টার সময় গাবতলী উপজেলার বাগবাড়ীতে শহীদ জিয়াউর রহমান গ্রাম হাসপাতালে ‘দেশব্যাপী হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন-২০২৬’ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। পরে তিনি হাসপাতালের পরিচালনা কমিটি ও সেবাপ্রদানকারী চিকিৎসকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। অপরদিকে গাবতলী উপজেলার বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এর মধ্যে রয়েছে খাল খনন কর্মসূচি ও ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ। পরে তিনি নিজ পৈতৃক বাড়ি পরিদর্শন করেন এবং বিকালে পুনরায় শহরে ফিরে আসেন।

পরিশেষে বিকাল ৪টার সময় শহরের ঐতিহাসিক আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠে বগুড়া জেলা বিএনপি আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী। উক্ত জনসভা শেষে বগুড়া প্রেসক্লাবের নতুন ভবন এবং বায়তুর রহমান কেন্দ্রীয় মসজিদের পুনর্নির্মাণ কাজের শুভ উদ্বোধন করেন বলে জানা যায়।