গুমের অধ্যাদেশের ফাঁকফোকর পূরণ করে শক্ত আইন চায় জনগণ: রিজভী

Any Akter
বাংলাবাজার রিপোর্ট
প্রকাশিত: ১:১৪ অপরাহ্ন, ২০ এপ্রিল ২০২৬ | আপডেট: ২:২৫ অপরাহ্ন, ২০ এপ্রিল ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

দেশের জনগণ চায় গুম আইনে যেসব ফাঁকফোকর ঘাটতি রয়েছে তা পূরণ করে একটি শক্তিশালী আইন করা হোক বলে  মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক বিষয়ক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।

তিনি বলেন ,দেশ একটি দুঃসময় অতিক্রম করে এখন সুসময়ের দিকে এগোচ্ছে। তবে এই সুসময় শুধু ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর জন্য নয়, বরং পুরো জাতির জন্য নিশ্চিত করতে হবে।

আরও পড়ুন: দেড়শ বছরের বগুড়ার পৌরসভা থেকে সিটি করপোরেশন নতুন যাত্রা শুরু

রিজভী বলেন, “জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র এখনও বিদ্যমান। তবুও এখন অন্তত গ্রেপ্তার, গুম বা ক্রসফায়ারের ভয় কমেছে—এটাই সুসময়ের লক্ষণ।”

সোমবার (২০ এপ্রিল) রাজধানীর নয়াপল্টনের বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের নিচতলায় দলটির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ইলিয়াস আলী ও তার ড্রাইভার এর গুম সন্ধানের দাবিতে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে তিনি এসব কথা বলেন।

আরও পড়ুন: হরমুজ প্রণালিতে ‘বাংলার জয়যাত্রা’র নিরাপদ চলাচলে ইরানের বিশেষ নির্দেশনা

রিজভী বলেন, প্রকৃত সুসময় তখনই প্রতিষ্ঠিত হবে, যখন আইনের শাসন নিশ্চিত হবে এবং কোনো সাধারণ মানুষ অন্যায়ের শিকার হলে আদালতে ন্যায়বিচার পাবে। ক্ষমতার অপব্যবহার বন্ধ করাকেও তিনি সুসময়ের অন্যতম শর্ত হিসেবে উল্লেখ করেন।

গুমসংক্রান্ত অধ্যাদেশ বাতিল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সরকার এ উদ্যোগ নিয়েছে। এতে  অনেক ঘাটতি ও ফাঁকফোকর রয়েছে। দেশের জনগণ চায় সে ফাঁকফোকর ঘাটতি পূরণ করে একটি শক্তিশালী আইন করা হোক। তিনি সরকারের প্রতি একটি শক্তিশালী আইন প্রণয়নের আহ্বান জানান, যাতে ভবিষ্যতে কোনো সরকার গুমের মতো অমানবিক পন্থা ব্যবহার করতে না পারে।

তিনি আরও বলেন, “পার্লামেন্টে একটি কার্যকর আইন করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে কেউ রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে অদৃশ্য করার সুযোগ না পায়। জনগণ এ বিষয়ে সরকারের কাছ থেকে স্পষ্ট অবস্থান চায়।”

সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে রিজভী বলেন, ক্ষমতায় আসার পর সরকার তাদের অঙ্গীকার বাস্তবায়নে দ্রুত পদক্ষেপ নিচ্ছে। কৃষি ঋণের সুদ মওকুফ, ফ্যামিলি কার্ড ও ফার্মারস কার্ড বিতরণসহ নানা উদ্যোগ এর প্রমাণ।

তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, শুধু ঘোষণা নয়, বাস্তব কাজের মাধ্যমে তা প্রমাণ করতে হবে। বিশেষ করে বাজারে সিন্ডিকেট, গ্যাস ও এলপিজি সংকট, জ্বালানি তেলের সরবরাহসহ বিভিন্ন বিষয়ে কঠোর নজরদারি প্রয়োজন বলে তিনি মন্তব্য করেন।

রিজভী অভিযোগ করেন, অতীতে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বাজার নিয়ন্ত্রণ ও ক্ষমতার অপব্যবহার হয়েছে।এই সরকারকে নিশ্চিত করতে হবে যেন কোনো গোষ্ঠী বাজার বা সম্পদ নিয়ন্ত্রণ করতে না পারে।

গুম হওয়া ব্যক্তিদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অনেক রাজনৈতিক নেতা-কর্মী এখনও নিখোঁজ। তাদের সন্ধান বের করতে হবে এবং যারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত, তাদের আইনের আওতায় আনতে হবে।

তিনি বলেন, “যেসব কর্মকর্তা গুমের সঙ্গে জড়িত ছিলেন, তারা এখনও সমাজে আছেন। তাদের শনাক্ত করে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে সত্য বের করে আনতে হবে। জনগণ জানতে চায় কীভাবে, কোথায় এবং কেন এসব গুম হয়েছে।”

তিনি সরকারের প্রতি দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, গুম হওয়া ব্যক্তিদের খুঁজে বের করা এবং দায়ীদের বিচারের আওতায় আনা জরুরি।

বিএনপির স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরফত আলী সপু সভাপতিত্বে এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ,সহসাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম সহ দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।