মাধবপুরে বিজিবির অভিযান, ১ কোটি টাকার ভারতীয় জিরা জব্দ
বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এর হবিগঞ্জ ব্যাটালিয়ন (৫৫ বিজিবি) মাধবপুর উপজেলাধীন মুক্তিযোদ্ধা চত্বর এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে তামাবিল ল্যান্ড কাস্টমস স্টেশন, সিলেট কর্তৃক প্রদানকৃত কাগজ (Bill of Entry/Export) জালিয়াতি করে অবৈধভাবে পরিবহনকৃত ১ কোটি অধিক টাকা মূল্যের ৬,০০০ কেজি (২০০ বস্তা) ভারতীয় জিরা ও ট্রাকসহ ২ জনকে আটক করেছে।
হবিগঞ্জ ব্যাটালিয়ন (৫৫ বিজিবি) এর একটি চৌকস আভিযানিকদল গতকাল (১৭ মে) সন্ধ্যায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মাধবপুর উপজেলাধীন মুক্তিযোদ্ধা চত্বর এলাকায় কৌশলগত অবস্থান গ্রহণ করে। এসময় একটি ট্রাক আসতে দেখে বিজিবি সদস্যরা সন্দেহজনকভাবে সংকেত দিয়ে ট্রাকটি থামায়। পরবর্তীতে ট্রাকটি তল্লাশি করে গাড়িতে বহনকৃত মালামালের সঙ্গে থাকা কাগজপত্র (Bill of Entry/Export) কাস্টমস কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় যাচাই-বাছাই করা হলে তা জাল/নকল বলে প্রমাণিত হয়। তাৎক্ষণিকভাবে ট্রাকে বহনকৃত ৬,০০০ কেজি ভারতীয় জিরা, ট্রাক (চট্ট-মেট্রো-ট ১১-৬৯৯১) এবং সংশ্লিষ্ট ০২ জন ব্যক্তিকে আটক করা হয়।
আরও পড়ুন: মদনপুরে অবৈধ চুন কারখানায় অভিযান, গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন
আটককৃত ব্যক্তিরা হলো- মোঃ সেলিম মিয়া (৩১), গ্রাম- খারোবিল, ডাকঘর- জৈন্তাপুর, থানা- জৈন্তাপুর, জেলা- সিলেট এবং মোঃ আজমল হোসেন (২০), গ্রাম- ২নং লক্ষীপুর, ডাকঘর- জৈন্তাপুর, থানা- জৈন্তাপুর, জেলা- সিলেট।
প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা যায়, কতিপয় অসাধু চোরাকারবারি কাস্টমস কর্তৃপক্ষ কর্তৃক প্রদানকৃত বৈধ কাগজপত্র (Bill of Entry/Export) পরিকল্পিতভাবে জালিয়াতি/নকল করে একই কাগজ প্রদর্শনের মাধ্যমে অবৈধ মালামাল পরিবহন করে সরকারের বিপুল পরিমাণ রাজস্ব ফাঁকি দেওয়ার অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে। কাস্টমস কর্তৃপক্ষের সহযোগিতায় বিষয়টি শনাক্ত হওয়ার পর বিজিবি সীমান্ত এলাকায় নিবিড় নজরদারি ও যাচাই কার্যক্রম আরও জোরদার করে। এরই ধারাবাহিকতায় আজ অবৈধভাবে পরিবহনকৃত এসব মালামাল জব্দ করা হয়।
আরও পড়ুন: সিলেট সীমান্তে বিজিবি-বিএসএফের গোলাগুলি
জব্দকৃত ভারতীয় জিরা, যানবাহন এবং আটককৃত আসামীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে মাধবপুর থানায় মামলা দায়েরসহ হস্তান্তরের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
এ ব্যাপারে হবিগঞ্জ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেঃ কর্নেল মোঃ তানজিলুর রহমান জানান, দেশের অর্থনীতিকে সুসংহত রাখা এবং চোরাচালান সম্পূর্ণরূপে দমনে বিজিবি কঠোর অবস্থানে রয়েছে। একই সঙ্গে সীমান্ত এলাকায় গোয়েন্দা নজরদারি আরও বৃদ্ধি করা হয়েছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে।





