খুলনায় র‍্যাবের গাড়ি ভাঙচুর, দুই আসামি ছিনিয়ে নিল জনতা

Sadek Ali
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ৭:৪৬ অপরাহ্ন, ২৩ মে ২০২৬ | আপডেট: ১:৪৬ পূর্বাহ্ন, ২৪ মে ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

খুলনার দাকোপ উপজেলায় মাছের ঘের দখলকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ ও উত্তেজনার মধ্যে র‍্যাবের গাড়ি ভাঙচুর করে দুই আসামিকে ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (২৩ মে) দুপুরে উপজেলার চালনা আছাবুয়া বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

আরও পড়ুন: সিলেটে বাসের চাপায় মা ও ৯ মাসের শিশু নিহত

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, উপজেলার পানখালী ইউনিয়নের খোণা এলাকায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের বেড়িবাঁধের বাইরে প্রায় ৪০ বিঘা জমির একটি মাছের ঘের নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আব্দুল্লাহ ফকির ও বাচ্চু ফকির গ্রুপের মধ্যে বিরোধ চলছিল।

গত ২২ মে রাত ১০টার দিকে ওই ঘেরে মাছ ধরাকে কেন্দ্র করে বাচ্চু ফকিরের নেতৃত্বে ২০ থেকে ২৫ জনের একটি দল দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায় বলে অভিযোগ ওঠে। এতে প্রতিপক্ষের অন্তত পাঁচজন গুরুতর আহত হন।

আরও পড়ুন: কুলাউড়ায় একসঙ্গে ৩০০ কৃতী শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা দিলো ছাত্র সংসদ ‘আল-ফায়জী’

আহতরা হলেন— জসিম মোল্যা (৩২), হাফিজুর মোল্যা (৪০), আবু মুসা শেখ (৩১), জাফর সরদার (৩১) ও সাজ্জাদ হোসেন সরদার (৫৪)। তাদের দাকোপ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

এ ঘটনায় আকরাম আলী ফকির বাদী হয়ে ১১ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।

পরে শনিবার সকালে র‍্যাব-৬-এর একটি দল মামলার এজাহারভুক্ত দুই আসামি মুকুন্দ মন্ডল ও রসুল গাজীকে আটক করে। তবে তাদের নিয়ে যাওয়ার সময় চালনা এলাকায় বিক্ষুব্ধ জনতা র‍্যাবের গাড়ি ঘেরাও করে ভাঙচুর চালায় এবং আটক দুই আসামিকে ছিনিয়ে নেয়।

ঘটনার পর উপজেলা বিএনপি কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন স্থানীয় বিএনপি নেতারা।

সংবাদ সম্মেলনে উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব আব্দুল মান্নান খান ও চালনা পৌর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক শেখ মোজাফফর হোসেন দাবি করেন, বিরোধপূর্ণ জমিটি মূলত ভূমিহীনদের। তারা অভিযোগ করেন, র‍্যাব মিছিল থেকে লোকজন আটক করতে গেলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। তবে আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার বিষয়ে তারা কিছু জানেন না বলে জানান।

এ বিষয়ে দাকোপ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা খায়রুল বাশার বলেন, ঘটনার পর এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং ছিনিয়ে নেওয়া আসামিদের পুনরায় গ্রেফতারে অভিযান চলছে।