হাওরাঞ্চলের প্রত্যন্ত এলাকায় ‘দিগন্ত মেগা শপ’, গ্রামীণ জনপদে শহরের ছোঁয়া
দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের হাওর ও পর্যটন অধ্যুষিত জেলা সুনামগঞ্জের দুর্গম উপজেলা তাহিরপুরের সীমান্তবর্তী প্রাচীন বাজার হচ্ছে বাদাঘাট বাজার। এই বাজারটিতে প্রায় দুই হাজার স্থায়ী-অস্থায়ী দোকান থাকলেও ছিল না কোনো মেগা শপ।
গত প্রায় দুই বছর পূর্বে বাদাঘাট বাজারের প্রয়াত ব্যবসায়ী, উপজেলার বাদাঘাট ইউনিয়নের কামড়াবন্দ মকবুল মিয়ার ছেলে খোকন মিয়া, গ্রামীণ জনপদে শহরের ছোঁয়া এবং উন্নতমানের নানা পণ্য কেনার জন্য ৩০ কিলোমিটার অনুন্নত সড়ক পাড়ি দিয়ে যেন জেলা শহরে যেতে না হয়, সে চিন্তা করে বাদাঘাট বাজারের প্রয়াত বীর মুক্তিযোদ্ধা হাজী সুরজ মার্কেটে ‘দিগন্ত মেগা শপ’ নামে একটি দোকান চালু করেন।
আরও পড়ুন: কুষ্টিয়ায় লালন শাহের মাজারে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হামলার অভিযোগ
দোকানটিতে উন্নতমানের কসমেটিকস, নারী-পুরুষের কাপড়, শিশুদের কাপড়, খেলনাসহ বিয়েশাদির সব ধরনের পণ্যের বিপুল সমাহার গড়ে তোলেন। খুবই অল্প সময়ের মধ্যে দিগন্ত মেগা শপটি উপজেলার সবচেয়ে উন্নতমানের দোকান হিসেবে পরিচিতি লাভ করে।
এরই ধারাবাহিকতায় আজ (১৪ আগস্ট) শুক্রবার বিকেলে দিগন্ত মেগা শপটির আরেকটি শাখার উদ্বোধন করা হয়েছে। এই শাখাটিতে শুধুমাত্র নারী ও শিশুদের বিদেশি জুতো এবং বিভিন্ন ধরনের উন্নতমানের হাতব্যাগ সংযোজন করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: নিকলীতে ১৪ পিস ইয়াবাসহ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার
বিকেল সাড়ে ৫টায় ফিতা কেটে শাখাটির উদ্বোধন করেন স্থানীয় বিএনপি নেতৃবৃন্দ, বণিক সমিতির নেতৃবৃন্দ এবং বাজারের বিশিষ্ট ব্যবসায়ীগণ।
শপটির পরিচালক আলী মর্তুজা পলক জানান, আমরা দ্রুত সময়ের মধ্যে গ্রাহকদের আস্থা ও সন্তুষ্টি অর্জন করেছি। তারই ধারাবাহিকতায় এই শাখাটি চালু করা হয়েছে।
শিক্ষিকা সাবিনা জান্নাত বলেন, আমার দুই বছরের ছেলের জন্য গত কয়েক মাস ধরে ভালো মানের জুতো কিনব। কিন্তু ৩০ কিলোমিটার ভাঙাচোরা সড়ক পাড়ি দিয়ে জেলা সদরে আসা-যাওয়ার কষ্টের কথা মনে করে শহরে যাওয়া হয়নি। গতকাল বিকেলে মাইকে এই দোকানটির প্রচারণা শুনে ছেলেকে নিয়ে এসেছি। তাদের কালেকশন অনেক উন্নত এবং সুন্দর। ১০০০ টাকায় ছেলের জন্য জুতো কিনেছি। এই দোকানটি চালু হওয়ায় হাওরাঞ্চলের এই বাজারেই এখন শহরের ছোঁয়া উন্মোচিত হয়েছে।
দিগন্ত মেগা শপের স্বত্বাধিকারী মো. খোকন মিয়া জানিয়েছেন, এলাকার মানুষজন দুর্গম পথ পাড়ি দিয়ে জেলা শহরে গিয়ে উন্নতমানের কাপড়চোপড়সহ নানা পণ্য ক্রয় করে। এ বিষয়টি বিবেচনা করে আমি এই মেগা শপটি চালু করি। দ্রুত সময়ের মধ্যে মেগা শপটি সফলতা অর্জন করে। কিন্তু নারী ও শিশুদের উন্নতমানের জুতা এবং মহিলাদের হাতব্যাগের কোনো দোকান ছিল না, তাই আজ এই শাখাটি খোলা হয়েছে।





